জাতিসংঘের ‘ইয়্যুথ অ্যাজ ক্যাটালিস্ট অব চেঞ্জ’ শীর্ষক যুব আলোকচিত্র প্রদর্শনী প্রতিযোগিতায় সেরাদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) তিনজন শিক্ষার্থী।
তারা হলেন দর্শন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মো. নওশাদ আল সায়েম, ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং খুলনা স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এর সহসভাপতি শেখ সাকিবুর রহমান এবং একই বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম জুবায়ের।
জাতিসংঘের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার গুলশানে জাতিসংঘ ভবনে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী প্রতিযোগিতায় সারাদেশ থেকে ৮০ জন আলোকচিত্রীর ৮০টি আলোকচিত্র নেওয়া হয় এবং প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়।
ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ-এর শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম জুবায়ের নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, জাতীয় পর্যায়ে সেরা হওয়ার অনুভূতিটাই ভিন্ন। সারা বাংলাদেশ থেকে এতজন আলোকচিত্রের মধ্যে সেরা ৮০ জনে নিজের নাম দেখা অনেক আনন্দের। যেটার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। সেটাও আবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। আমি সবার দোয়া ও ভালোবাসা প্রার্থী যেন, সামনে আরও ভালো কাজ করতে পারি। নিজের ভার্সিটি এবং দেশকে যেন আরও উঁচু পর্যায়ে রিপ্রেজেন্ট করতে পারি।'
নিজের অনুভূতি জানানোর সময় আবেগাপ্লুত হয়ে শেখ সাকিবুর রহমান বলেন, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি সনদ গ্রহণ করা ছিল আমার জন্য এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।
আমার ছবিটির মাধ্যমে আমি বাংলাদেশের প্রান্তিক মানুষের জীবন, প্রকৃতি ও আশার গল্প তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ধন্যবাদ ইউএন বাংলাদেশকে এমন একটি প্ল্যাটফর্মে আমার দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করার সুযোগ দেওয়ার জন্য।
এ সময় তিনি বলেন, আমার গাছ লাগানোর ছবি এবং গাছ লাগানোর উদ্যোগ তারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেছে ও স্বাগত জানিয়েছে। আমি শুধু একটি গাছ লাগাইনি, আমার ছোট উদ্যোগ ‘গাছ বন্ধু নেটওয়ার্ক’ এর মাধ্যমে আমরা এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০টি গাছ রোপণ করেছি। আমি জাতিসংঘ টিমের সঙ্গে আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শেয়ার করেছি। আগামী বছরে ১০,০০০ গাছ রোপণের লক্ষ্য ও পরিকল্পনাকে তারা স্বাগতম জানিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি প্রতিটি গাছ একটি নতুন জীবনের প্রতীক আর প্রতিটি তরুণ হতে পারে একটি পরিবর্তনের দূত।
নওশাদ আল সায়মে বলেন, জাতিসংঘের মতো একটি আন্তর্জাতিক আয়োজনে সেরাদের তালিকায় স্থান পাওয়া আমার জন্য গভীর আনন্দের এবং সেই সঙ্গে গর্বেরও। আমার তোলা ছবির মাধ্যমে আমি তরুণদের পরিবর্তনের দূত হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছি, যারা ইতিবাচক চিন্তা ও উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে নতুন আশা সৃষ্টি করছে।
আমার কাজটি জাতিসংঘ ভবনে প্রদর্শিত হওয়ায় আমি সত্যিই আবেগাপ্লুত। এই স্বীকৃতি শুধু আমার নয়, এই স্বীকৃতি, এই সম্মান আমার ভার্সিটির, আমার দেশের। এ স্বীকৃতি আমার জন্য শুধু অনুপ্রেরণাই নয়, বরং আমাকে আরও দায়িত্ববোধ এনে দিয়েছে আরও গল্প বলার, আরও পরিবর্তনের ছবি তোলার।
উল্লেখ্য, আগামী পহেলা নভেম্বর পর্যন্ত গুলশানের বিচারপতি শাহাবুদ্দীন পার্কে আলোকচিত্রগুলোর উন্মুক্ত প্রদর্শনী চলবে।
নাঈম/




