ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কুড়িগ্রামে নদীগর্ভে বিলীন শতাধিক বাড়ি সবার সক্রিয় ভূমিকায় রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত হয়েছে: অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকান উচ্ছেদ নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ২০ জীবের আবাসস্থল অধ্যায় থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান চুয়াডাঙ্গায় বিজিবির অভিযানে মাদক ও অবৈধ মালামাল জব্দ শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন বদরগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার শার্শায় বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মবিরতিতে সিলেটের ওসমানী হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎকরা মেয়েকে অশালীন কথা বলার প্রতিবাদ করায় প্রাণ গেল বাবার ইসলামে মায়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা সমুদ্রের তলদেশে বিচিত্র এক সুতোয় বাঁধা ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক বান্দরবানে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তা বিতরণ দক্ষতা বাড়াচ্ছে রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব ক্যামেরা নষ্ট ছিল স্বপ্ন নয় স্মৃতির মলাটে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত পাশে ছিলেন সহপাঠীরা বেরোবির বিশেষ বাসসেবায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা সপ্তাহের প্রথম দিনে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার জাতীয় বাজেট নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা রামেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের হালিশহরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্তকে গণপিটুনি ট্রাকসহ ভেঙে পড়ল বেইলি সেতু, ময়মনসিংহ-ধোবাউড়া সড়ক যোগাযোগ বন্ধ Your Favourite Teacher/Favourite Personality বিষয়ক Writing Paragraph, ৩১তম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ২য় পত্র আর্মেনিয়ায় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে রাতে বিজিবির সঙ্গে আনসার-ভিডিপির টহল ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামে আরও ১ শিশুর মৃত্যু কুমিল্লায় হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু জিপিএসের নির্দেশ মেনে সোজা রেললাইনে গাড়ি, ভাইরাল বৃদ্ধার গাড়িচালনা
Nagad desktop

কতিপয় পরিবারের দখলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল চাকরি

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ১০:২৯ পিএম
কতিপয় পরিবারের দখলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল চাকরি
ছবি: খবরের কাগজ গ্রাফিকস

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্মীয়প্রীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নতুন নয়। বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও একাধিক পরিবারের ডজনের বেশি সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তর, বিভাগ ও হলে কর্মরত থাকার তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরেও এ নিয়ে কেউ মুখ খোলেনি। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ সম্পর্ক অস্বীকার করলেও অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একই পরিবার বা আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ বহু ব্যক্তি বছরের পর বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিতে যুক্ত রয়েছেন।

মো. শফির তার নিজের কর্মসংস্থান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সেকশনে। তার পরিবারের প্রায় ডজনখানেক আত্মীয়-স্বজনের কর্মসংস্থানও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে। 

তার আপন ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম চাকরি করেন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী ইউনিয়ন অফিসে। আপন দুই ভগ্নিপতি একজন কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ চাকসুতে, অন্যজন সমাজবিজ্ঞান অনুষদে। শফির আপন মামা আবুল কাশেম কর্মরত আছেন আলাওল হলে, আপন খালাতো ভাই আহমেদ কবির বাল্লা আছেন বিজ্ঞান ওয়ার্কশপে। এদিকে বোন জামাতার ভাই (তালতো ভাই) মোহাম্মদ আইয়ুব কর্মরত আছেন পরিবহন দপ্তরে, আইয়ুবের ভাতিজা কর্মরত আছেন নিরাপত্তা দপ্তরে। শফির নিকট আত্মীয় মো. আফসার হোসেনও রয়েছেন নিরাপত্তা দপ্তরে। তারই আরেক খালাতো ভাই ফজল করিম আছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে। আপন চাচাতো ভাই মোরশেদ আছেন নিরাপত্তা দপ্তরে। 

অভিযোগ রয়েছে, সম্পর্ক গোপন করেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্মরত রয়েছেন শফির বেশ কয়েকজন স্বজন। 

এ সংক্রান্ত বিষয়ে শফীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসকল তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

এছাড়াও পারিবারিকভাবে অনেকেই কর্মরত রয়েছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। পরিবারের দুই ভাই মো. আবুল কাশেম ও মো. জাফর দুজনই রয়েছেন পরিবহন দপ্তরে। জাফরের ছেলে নাঈম উদ্দিন মানিক আছেন শারীরিক শিক্ষা বিভাগে। আবুল কাশেমের পুত্র সাকিফ আছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে।

এছাড়াও আরেক পরিবারের চার ভাই হোসেন বাবু একাউন্টিং বিভাগে, সালাউদ্দিন ইঞ্জিনিয়ারিং অফিসে, আলাউদ্দিন পদার্থবিদ্যা বিভাগে, সানি সাংবাদিকতা বিভাগে কর্মরত আছেন। তাদের আপন ভাগিনা আকিলও (ভিসি অফিস থেকে বদলিকৃত) কর্মরত রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে।

এদিকে আপন তিন ভাই মো. তাজুল ইসলাম, মো. কামাল উদ্দিন, মো. জামাল উদ্দিন, যথাক্রমে শাহজালাল হল, লাইব্রেরী ও শিক্ষা অনুষদে কর্মরত আছেন। সাম্প্রতিককালে জামাল উদ্দিনের মৃত্যু হলে তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তার পুত্র। 

মোহাম্মদ ফয়েজ আহমেদ (মৃত) ছিলেন নিরাপত্তা দপ্তরের প্রহরী। তিনি সহ তার পরিবারের ৯ সদস্য কর্মকর্তা রয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। চার পুত্র ও এক পুত্রবধূ, এক মেয়ের জামাতা, এক বোনের ছেলে ও এক নাতি কর্মরত আছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফয়েজ আহমেদের পুত্র মোহাম্মদ লোকমান আছেন নিরাপত্তা দপ্তরে, তার স্ত্রী নিলুফার ইয়াসমিন আছেন প্রীতিলতা হলে। আরেক পুত্র মো. ইমরান হোসেন আছেন বিজ্ঞান অনুষদে অফিসার হিসাবে। ফয়েজ আহমেদের আরেক পুত্র মো. ওসমান কর্মরত আছেন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অফিসে, খালেদা জিয়া হলের মালি হিসাবে আছেন আরেক ছেলে মো শাহজাহান। ফয়েজ আহমেদের মেয়ের জামাতা মো. জাফর কর্মরত আছেন ইঞ্জিনিয়ারিং অফিসে। তার নাতি ও জাফরের পুত্র মোহাম্মদ জামশেদ কর্মরত আছেন নিরাপত্তা দপ্তরে। ফয়েজের আপন বোনের পুত্র বখতিয়ার আছেন আলাওল হলে।

এ বিষয় সম্পর্কে জানতে ফয়েজ আহমেদের পুত্র ইমরানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরিবারের সদস্যদের চাকরির বিষয়টি স্বীকার করলেও ভাগিনা হিসেবে জামশেদকে অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে জামশেদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নিজেকে ফয়েজ আহমেদের নাতি ইমরানের ভাগিনা হিসাবে পরিচয় দেন। 

আবুল কালাম (অবসর প্রাপ্ত) কর্মরত ছিলেন নিরাপত্তা দপ্তরে, তার দুই ছেলে মোহাম্মদ ফরিদ, মো. নজরুল ইসলাম কর্মরত আছেন শহীদ আব্দুর রব হলে, কালামের আরেক পুত্র আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী কর্মরত আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুলে। 

আবুল কালামের ভাই তাজুল ইসলাম অবসরপ্রাপ্ত কর্মরত ছিলেন শাহজালাল হলে। তার পুত্র মাহবুব আলম কর্মরত আছেন জীববিজ্ঞান শিক্ষক লাউঞ্জে।

আবুল কালামের বোন জামাই আব্দুল আহাদ কর্মরত ছিলেন নিরাপত্তা দপ্তরে, সঙ্গে তার দুই পুত্রের একজন মিলাদ হোসেন কর্মরত আছেন নিরাপত্তা দপ্তরে, আর এক পুত্র মোহাম্মদ আলী কর্মরত আছেন ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে, আব্দুল আহাদের শ্যালক আবু তাহের কর্মরত আছেন জীববিজ্ঞান (শিক্ষক লাউঞ্জে) আবু তাহেরের ছেলে কর্মরত আছেন শাহ্জালাল হলে।

খলিল, জলিল, সাদিক, সৈয়দ আপন চার ভাই যথাক্রমে কর্মরত আছেন পরিসংখ্যান বিভাগ, চাকসু ও আলাওল হলে। সৈয়দের স্ত্রী আছেন কর্মরত আছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে।

রহিম, জসিম আপন দুই ভাই আছেন সংগীত বিভাগ ও ইঞ্জিনিয়ারিং অফিসে, রহিমের স্ত্রী আছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে। 

আব্দুল মোনাফ আছেন বিজ্ঞান অনুষদে ভাই আব্দুল হালিম বড় ভাইয়ের সঙ্গে আছেন বিজ্ঞান অনুষদে, আরেক ভাই আব্দুস সালাম আছেন সোহরাওয়াদী হলে, ফরহাদ হলে আছেন আরেক ভাই আব্দুল আজিজ । 

লোকমান, মাবুদ, শাহ আলম আপন তিন ভাই যথাক্রমে কর্মরত আছেন ইঞ্জিনিয়ারিং অফিস, আইন অনুষদ ও নিরাপত্তা দপ্তরে। 

শাহ আলমের এক পুত্র কর্মরত আছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে।

এ যাত্রায় পিছিয়ে নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ উপাচার্যগণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল আজিম আরিফ তার পুত্রবধূ, দুই শ্যালক সহ নিয়োগ দিয়েছেন বেশ কয়েকজন নিকট আত্মীয়কে। দুই শ্যালিকা শাহনাজ ও ইসরাত যথাক্রমে কর্মরত আছেন রেজিস্টার অফিস ও ডে কেয়ার সেন্টারে। ছেলের বউ কর্মরত আছেন বাণিজ্য অনুষদের ডিন অফিসে।

সাবেক উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামসুদ্দীনের আপন দুই ভাই গাজী নুরুদ্দিন কর্মরত আছেন কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে, আরেক ভাই গাজী সালাউদ্দিন কর্মরত আছেন রেজিস্টার অফিসে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচিত আরেক উপাচার্য প্রফেসর অধ্যাপক ড. এম বদিউল আলমের আপন ভাই মাহবুব হারুন চৌধুরী কর্মরত আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

ছেলে ফাহিম শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। ছেলের বউ মৌসুমী শিক্ষক ছিলেন একই বিভাগে। 

অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন যিনি উপ-উপাচার্য এবং ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তার আপন ভাইয়ের ছেলে মজনু কর্মরত আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ২৪ হলে। আপন শ্যালক হাফিজ কর্মরত আছেন শারীরিক শিক্ষা বিভাগে। 

কর্মক্ষেত্রে ভালোবাসার বন্ধনকে সুদৃঢ় করতে স্ত্রীকে সবসময় পাশে রাখার চেষ্টা করেছেন যারা তাদের মধ্যে মো. নাজিম উদ্দিন কর্মরত আছেন ডেপুটি রেজিস্টার হিসেবে শহীদ আব্দুর রব হলে, তার সহধর্মিনী আছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে। একই অফিসে কর্মরত আছেন শাহানুর ও তার সহধর্মিনী। 

নুরুল আফসার আছেন আইন অনুষদে তার স্ত্রী আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী মো ইউনূস, ও তার সহধর্মিনী কর্মরত আছেন খালেদা জিয়া হলে। 

সারোয়ার হোসেন খোকন কর্মরত আছেন স্যার এ এফ রহমান হলে, তার স্ত্রী কর্মরত আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব নিয়ামক দপ্তরে। 

মো. আব্দুর রহিম কর্মরত আছেন সংগীত বিভাগে, স্ত্রী আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে।

মোহাম্মদ লোকমান হোসেন কর্মরত আছেন নিরাপত্তা দপ্তরে, তার স্ত্রী আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হলে। 

মোহাম্মদ আবু তৈয়ব আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় স্টোরে তার স্ত্রী কর্মরত আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে।

মো. জাহাঙ্গীর আলম ডেপুটি রেজিস্টার হিসেবে কর্মরত আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগে, তার স্ত্রী আছেন একই অনুসদের পরিসংখ্যান বিভাগে।

বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য, রেজিস্টার উপাচার্য ও উপ উপাচার্য (প্রশাসন) প্রশাসনিক কাজে চীনে অবস্থান করায়, উপ-উপাচার্য ড. শামীম উদ্দিন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আল আরাফ/মাহফুজ

 

দক্ষতা বাড়াচ্ছে রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
দক্ষতা বাড়াচ্ছে রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব
রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাবের সদস্যরা।

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সফল ক্যারিয়ার গঠনে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস জরুরি। এই লক্ষ্য নিয়ে ২০১৫ সালের ২৭ আগস্ট রসায়ন বিভাগের চার শিক্ষার্থী ও প্রজ্ঞাবান শিক্ষকদের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব’ (আরসিসিসি)। 
একটি দক্ষ নির্বাহী কমিটি ও একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে বছরের শুরুতেই ক্লাবটি বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে। সে অনুযায়ী প্রতি মাসে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য এতে রয়েছে ‘ক্যারিয়ার জার্নি’, ‘ক্যারিয়ার রোডম্যাপ’ ও ‘ক্যারিয়ার টক’-এর মতো আয়োজন; যেখানে সিভি রাইটিং, ইন্টারভিউয়ের কৌশল, যোগাযোগ ও উপস্থাপনা দক্ষতা এবং বিসিএস ও করপোরেট চাকরির প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবকরা সরাসরি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, করপোরেট যোগাযোগ ও দল পরিচালনার মতো সফট স্কিল শেখার সুযোগ পান।
একাডেমিক ব্যস্ততার মাঝে বড় অনুষ্ঠানের সূচি নির্ধারণ এবং বৃহৎ পরিসরে কাজের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব ক্লাবটির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা ও দলগত প্রচেষ্টায় এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠছে তারা। ক্লাবটির দিকনির্দেশনা নিয়ে অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী আজ দেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও সরকারি উচ্চপদে কর্মরত। মূলত শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে আরসিসিসি একটি আস্থার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

লেখিকা: শিক্ষার্থী, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী

ক্যামেরা নষ্ট ছিল স্বপ্ন নয়

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
ক্যামেরা নষ্ট ছিল স্বপ্ন নয়
ফয়সালের তোলা ছবি।

সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় বড় চাচার দেওয়া একটি নষ্ট ক্যামেরা ঘিরে মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সালের মনে ছবি তোলার যে কৌতূহল জন্ম নিয়েছিল, তা আর কখনো থামেনি। রহনপুরের এই তরুণ মোবাইল ফোন দিয়েই শুরু করেন তার আলোকচিত্রের যাত্রা। বর্তমানে তিনি রহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে পড়ার পাশাপাশি ফটোগ্রাফি লালন করছেন।

 

দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে প্রাচীন মসজিদ ও শতবর্ষী ইমারতের ছবি তুলতে তুলতে হেরিটেজ ফটোগ্রাফিতে ফয়সালের চোখ খুলে যায়। পাশাপাশি ন্যাচার, স্ট্রিট এবং স্পোর্টস ফটোগ্রাফিও তাকে টানে।

 

মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল


ফয়সালের জীবনের অন্যতম সেরা ছবিটির গল্প সিনেমার মতো। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রহনপুর রেলওয়ে স্টেশনে এক বন্ধুকে বিদায় জানানোর সময় ট্রেনের জানালায় একটি ফ্রেম দেখে তাৎক্ষণিক ক্লিক করেন তিনি। ‘১৬ হোক কিংবা ৬১’ শিরোনামের সেই ছবির ক্যাপশন ছিল–‘বয়স ১৬ হোক কিংবা ৬১, চিন্তা তোমার পিছু ছাড়বে না।’ ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করার পর ৫৪ হাজারেরও বেশি লাইক পায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

 

অর্জনের ঝুলিতে রহনপুর ফটোগ্রাফি ক্লাবের প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থানসহ একাধিক অনলাইন পুরস্কার থাকলেও, বাচ্চাদের ছবি তুলে তাদের হাসিমুখ দেখানোই ফয়সালের কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

 

স্মৃতির মলাটে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:০২ পিএম
স্মৃতির মলাটে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল।

ক্লাস আর টিউশন শেষ করে সবে রুমে এসে বিছানায় শুয়েছি, অমনি বন্ধু ফাহিম এসে মাথায় এক বাড়ি দিয়ে জিজ্ঞেস করল–আজ কী বার? 
হঠাৎ মনে পড়ল, আজ শনিবার। মানে ডাইনিংয়ে স্পেশাল মিল! পোলাও, রোস্ট, বুটের ডাল, সবজি আর ফিরনির আয়োজনে রোস্টের বড় পিসটি পাওয়ার জন্য চোখে-মুখে পানি দিয়ে ডাইনিংয়ের দিকে দৌড় দেওয়া–এটি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের নিত্য শনিবারের চেনা দৃশ্য।

 


বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে একজন শিক্ষার্থীর কাছে তার আবাসিক হল যেন সবচেয়ে আবেগের জায়গা এবং একটি ‘সেকেন্ড হোম’। পরিবার থেকে দূরে অচেনা শহরে একা পথচলা শুরু হলেও, ধীরে ধীরে সেই শূন্যতা ভরে ওঠে নতুন বন্ধুদের হাসিতে, করিডোরে রাত জাগা গল্পে আর এক নতুন পরিবারের উষ্ণতায়। এক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল অন্য যেকোনো হলের জন্য একটি আদর্শ দৃষ্টান্ত।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে ১৯৬৯ সালে এই হলটি স্থাপিত হয়। চার তলাবিশিষ্ট হলের আবাসিক রুমগুলো ৪টি ব্লকে বিভক্ত, যেখানে মোট ১৬৮টি রুমে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা রয়েছে। ব্লকের মাঝে তিনতলা ভবনের নিচতলায় কমন রুম, দ্বিতীয় তলায় লাইব্রেরি ও তৃতীয় তলায় নামাজঘর অবস্থিত। হলের আবাসন ব্যবস্থা এতটাই গোছানো যে, প্রথম দিন থেকেই প্রত্যেক শিক্ষার্থী একটি করে সিঙ্গেল বেড পেয়ে যায়।

 


হলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এর সুইমিংপুল। গ্রীষ্মের ক্লান্তিকর দিন শেষে ক্লাস-পরীক্ষার সব ক্লান্তি নিমিষেই ধুয়ে যায় পুলে বন্ধুদের আড্ডায়। সাঁতার জানা বন্ধুটি যখন সাঁতার না জানা বন্ধুকে কাঁধে তুলে সাঁতার শেখায়, তখন সেই মুহূর্তগুলো বন্ধুত্বকে রূপ দেয় এক অনন্য ভ্রাতৃত্বে।
হলের আরেকটি সুপরিচিত দিক হলো এর চমৎকার ডাইনিং ব্যবস্থা। সাধারণত ডাইনিংয়ের খাবার নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে ক্ষোভ থাকলেও, এখানে পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতিতে ছাত্ররা নিজেরাই ডাইনিং পরিচালনা করে। হলের প্রতিটি আবাসিক ছাত্র মাসের কোনো না কোনো দিন খাবার পরিবেশনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকে। ফলে সবাই সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খাবারের মান ধরে রাখতে সচেষ্ট থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন মৌসুমে হল প্রশাসন ও বড় ভাইদের সহযোগিতায় আয়োজিত নানা খেলাধুলা নবীনদের সঙ্গে প্রবীণদের চমৎকার মেলবন্ধন তৈরি করে। সব মিলিয়ে ৪ বছরের অনার্স জীবন শেষে হল ছাড়ার সময় শিক্ষার্থীর মন কতটা কাঁদে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দুরুদুরু বুকে হলে আসা তরুণটি যখন ক্যাম্পাস ছাড়ে, তখন একবুক মধুর স্মৃতি সঙ্গে নিয়েই আগামীর পথে পা বাড়ায়।

লেখক: সাবেক শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত পাশে ছিলেন সহপাঠীরা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত পাশে ছিলেন সহপাঠীরা
সাখাওয়াত হোসেন

জীবনের শেষ লড়াইয়ে একা ছিলেন না নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী সাখাওয়াত হোসেন। দীর্ঘদিন মরণব্যাধি ক্রোনস ডিজিজ ও হিস্টোপ্লাজমোসিসের সঙ্গে লড়াই করে গত ১৮ মে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার এক কৃষক পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান সাখাওয়াতের স্বপ্ন ছিল জজ হওয়া। সাফল্যের সঙ্গে এলএলবি (বিভাগে পঞ্চম) ও এলএলএম শেষ করার পরপরই রোগের আলামত টের পান। তার পেটে ব্যথা শুরু হয়। স্থানীয় হাসপাতাল ঘুরে পরবর্তী সময়ে ঢাকার পিজি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শেষ দিনগুলোয় কেবল স্যালাইনের ওপর বেঁচে থাকা সাখাওয়াতের চিকিৎসার আকাশচুম্বী খরচ বহন করা কৃষিজীবী পরিবারের পক্ষে অসম্ভব ছিল।
এই সংকটে পাশে দাঁড়ান তার সহপাঠীরা। ‘হেল্প ফর সাখাওয়াত’ উদ্যোগের মাধ্যমে অফলাইন ও অনলাইনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় মাত্র ১৬ দিনে ৪,৯৫,৯৬৮ টাকা সংগৃহীত হয়। সেখান থেকে চিকিৎসায় ২,৭৯,০১৫ টাকা খরচ হলেও শেষ পর্যন্ত সাখাওয়াতকে বাঁচানো যায়নি। অবশিষ্ট ২,১৬,৯৫৩ টাকা তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সহপাঠী আবু সুফিয়ান ও ইলমা সালসাবিল নাফিসার স্মৃতিচারণায় উঠে আসে সাখাওয়াতের সহজ-সরল, শান্ত ও বিনয়ী স্বভাবের কথা। বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া স্বপ্নবাজ এই ছেলেটি অসুস্থ হয়ে শেষ সময়ে ইশারায় আইসিইউ থেকে বাড়ি ফেরার আকুতি জানিয়েছিল। সাখাওয়াত আজ আর এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তার জন্য সহপাঠীদের এই অনন্য মানবিক প্রয়াস ও ভালোবাসা নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।


লেখক: শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী

বেরোবির বিশেষ বাসসেবায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
বেরোবির বিশেষ বাসসেবায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈদ বাস সার্ভিস

ঈদে বাড়ি ফেরার পথে টিকিটের সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া ও ভোগান্তি এড়াতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) প্রশাসন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বাসসেবার উদ্যোগ নিয়েছিল। 
ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে পরিবহন পুলের পাঁচটি বাস ঢাকা, বগুড়া, নাটোর, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড় রুটে ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে যায়। অনলাইনে আগে নিবন্ধনকারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে এই সেবার আওতায় আনা হয়।
গণপরিবহনের ভোগান্তি ছাড়া নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের রিফা লুবানা রানিয়া ও ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের কাজী সিয়াম হোসাইন। রসায়ন বিভাগের বাপ্পি আহমেদসহ দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে বরিশালসহ দেশের সব বিভাগীয় শহরে এই সেবা সম্প্রসারিত হোক।
পরিবহন পুলের পরিচালক মাসুদ রানা বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সাতটির মধ্যে পাঁচটি বাস যুক্ত করা হয়েছে। 
উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী জানান, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কষ্ট কমাতে প্রশাসন সব সময় আন্তরিক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের জনবান্ধব উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।