ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গৌরীপুর ও মুক্তাগাছায় পানির প্রকল্প: ২ বছরে অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের দাবি ইউক্রেনের সাম্বার অপেক্ষায় বিশ্ব অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস আমন্ত্রণে শিক্ষা ও গবেষণা সম্প্রসারণে ১৪ দিনের সফরে বেরোবি উপাচার্য জাকসু ভিপি ও জিএস: ছাত্রত্ব শেষে পদে বহাল থাকা নিয়ে বিতর্ক রমনার বন আসরা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ১৪ জুন ১৩ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৩ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল অর্থবিল বিশ্লেষণ: পার পাচ্ছেন সম্পদশালীরা হাকিমি: আফ্রিকার আশা, মরক্কোর প্রাণ ভিনিসিয়ুস: এবার হলুদ জার্সিতে প্রমাণের পালা প্রেরণার নাম ম্যাকগিন মৃত্যুকূপে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার রোমাঞ্চ হাইতির স্বপ্নসারথি ইসিদোর অবসর ভাবনায় কর্তোয়া ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু কানাডার কাতারের সামনে সুইজারল্যান্ড চ্যালেঞ্জ লুকিচের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে বসনিয়া কানাডার বিশ্বকাপ বরণ অনুষ্ঠান মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয় ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি
Nagad desktop

বেগম রোকেয়া দিবস আজ: ঢিমেতালে চলছে রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের কার্যক্রম

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:১১ এএম
আপডেট: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:১১ এএম
বেগম রোকেয়া দিবস আজ: ঢিমেতালে চলছে রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের কার্যক্রম
রংপুরের পায়রাবন্দ গ্রামে বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের ভবন  খবরের কাগজ

নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন স্মরণে তার জন্মস্থান রংপুরের পায়রাবন্দে নির্মিত ‘বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রের’ কার্যক্রম চলছে ঢিমেতালে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে হয়নি তেমন কোনো উন্নয়ন। আজ ৯ ডিসেম্বর এই মহীয়সী নারীর ১৪৫তম জন্ম ও ৯৩তম মৃত্যু দিবস। দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা, রংপুর, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। 

রংপুরের মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ ইউনিয়নের খোদ্দ মুরাদপুর গ্রামে ১৮৮০ সালে ৯ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। ১৯৩২ সালে ৯ ডিসেম্বর কলাকাতায় মারা গেলে তার লাশ সোদপুরে দাফন করা হয়। বেগম রোকেয়ার পৈতৃক ভিটায় ৩ দশমিক ১৫ একর ভূমির ওপর রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রটি অবস্থিত। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এই গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি। এর জন্য বাজেট ধরা হয় ৫ কোটি টাকা। এই কেন্দ্র স্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলা একাডেমিকে। ১৯৯৭ সালের ২৮ জুন ‘বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। গড়ে ওঠে অবকাঠামো। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী কেন্দ্রটির কার্যক্রমে পূর্ণতা আসেনি দুই যুগেও। অন্যদিকে রোকেয়ার লেখা প্রবন্ধ ‘নার্সনেলী’তে উল্লিখিত বেদখল ৩৫০ বিঘা লাখেরাজ সম্পত্তি উদ্ধার হয়নি। 

দিবসটি উপলক্ষে সরেজমিনে রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রে দেখা যায় দুরবস্থার নানা চিত্র। স্মৃতিকেন্দ্রের পাঠাগারে পাঠক এলেও রয়েছে বসার জায়গার সংকট। নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সেলাই মেশিনগুলো সারা বছর থাকে বাক্সবন্দি। দিবস উপলক্ষে চলছে ধোয়ামোছা। 

২০০১ সালে চালুর পর ২ মাস ১৭ দিনের মাথায় আবারও বন্ধ হয় এটির কার্যক্রম। এরপর ২০১৭ সালে বাংলা একাডেমির তত্ত্বাবধানে এখানকার কর্মচারীদের বেতন-ভাতা চালু হয়। 

পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জেমি আক্তারসহ সহপাঠীরা এসেছে পরিদর্শন করতে। জেমি বলে, ‘এখানে পাঠক আসেন। কিন্তু সব বই পড়তে পারেন না। সব সময় ধুলাবালিতে পূর্ণ থাকে। সেলাই মেশিনগুলো থাকে বাক্সবন্দি। দিবস এলেই ধোয়ামোছা শুরু হয়। এটি আমাদের জন্য বেদনাদায়ক।’ 

ঢাকা থেকে আসা সিরাজুম মনিরা বলেন, ‘এখানে এসে দেখে মনে হলো একেবারেই পরিত্যক্ত দশা। ঢাকা থেকে এসেছি। আগে মনে হয়েছিল অনেক কিছুই আছে। অন্য স্মৃতিকেন্দ্রগুলো যেভাবে মূল্যায়ন করা হয়, সে তুলনায় এই স্মৃতিকেন্দ্র দেখে হতাশ হয়েছি।’ 

১৭ বছর ধরে পায়রাবন্দ রোকেয়া স্মৃতি পাঠাগারে স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছেন বিউটি আক্তার। তিনি বলেন, লাইব্রেরি যেভাবে হওয়া দরকার সেটা হয়নি। কোনো সরকারি অনুদান নাই। মানুষের সহযোগিতায় চলে। এভাবে আর কতদিন। ডিসেম্বর মাস এলে এত সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। মেলা এলে রোকেয়াকে নিয়ে কথা হয়, অন্য সময় সবাই চুপচাপ। যে ঘরে রোকেয়ার জন্ম, সেই ঘরের কোনো উন্নতি নাই। তার বাবার যত জমিজমা আছে, সেগুলো মানুষের দখলে। এই দখলবাজদের উচ্ছেদ করে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে কাজ করতে পারলে তার স্মৃতি ধরে রাখা সম্ভব। রোকেয়া দিবস এলেই সবাই সচেতন হন। স্মৃতিকেন্দ্র যেভাবে হওয়ার কথা, সেভাবে হয়নি। 

আতঙ্ক প্রকাশ করে তিনি বলেন, যেভাবে ভূমিকম্প হচ্ছে, আরেকটু বেশি মাত্রার হলে যেসব স্মৃতি আছে, সব ধ্বংস হয়ে যাবে। 

রোকেয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল বলেন, এই পায়রাবন্দের ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন হয়নি। হাসপাতাল আছে, মা শিশু কল্যাণ কেন্দ্র আছে। সরকারি কলেজ আছে, শিক্ষক নাই। সরকারের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। অনেকে ফিলোসফিকালি রোকেয়াকে মানেও না। যদি মানত তাহলে চব্বিশ-পরবর্তী সময়ে রোকেয়ার স্মৃতিতে গ্রাফিতি কালি দিয়ে মুছে দেওয়া, রোকেয়া সম্পর্কে কটূক্তি করার মনোভাব থাকত না।

বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক আবিদ করিম মুন্নার কাছে রোকেয়া দিবস এলেই সেলাই প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কার্যক্রম বৃদ্ধি পায় কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামীকাল (আজ) থেকেই প্রশিক্ষণ শুরু হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সারা বছর ধরেই হয়। বেগম রোকেয়ার মরদেহ ভারত থেকে নিয়ে আসার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এখানে আমাদের বলার কিছু নেই। এটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার। নিয়ে আসতে পারলে অবশ্যই ভালো হবে। রোকেয়ার যে বেদি, যেখানে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করা হবে, সেখানেই দেহাবশেষ রাখার প্রস্তাব করা আছে।’ 

ফাইলবন্দি দেহাবশেষ আনার প্রস্তাব
বিগত সময়ে অর্থাৎ ২০০৬ সালের ২৪ জুন পাকিস্তান থেকে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের মরদেহ আনার পর রোকেয়ার মরদেহ আনার দাবি তোলেন এলাকাবাসী। ওই দাবির সঙ্গে ২০০৯ সালে রোকেয়া মেলায় রংপুরের তৎকালীন ডিসি বি এম এনামুল হক একাত্মতা প্রকাশ করে ওয়াদা করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রোকেয়া সংসদ, রোকেয়া পাঠাগার ও অন্যান্য সংগঠন জোরালো দাবি তুললেও কাজ হয়নি। ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তার মরদেহ আনার ব্যাপারে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই।

জাকসু ভিপি ও জিএস: ছাত্রত্ব শেষে পদে বহাল থাকা নিয়ে বিতর্ক

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
জাকসু ভিপি ও জিএস: ছাত্রত্ব শেষে পদে বহাল থাকা নিয়ে বিতর্ক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ভিপি (সহসভাপতি) আব্দুর রশিদ জিতু ও জিএস মাজহারুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ভিপি (সহসভাপতি) আব্দুর রশিদ জিতু ও জিএস মাজহারুল ইসলামের নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পরও পদে বহাল থাকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষ হলে জাকসুর পদ ছাড়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালা নেই বলে দাবি করেছেন তারা।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ডিগ্রি অর্ডিন্যান্সের ৬.১ ধারায় বলা আছে, মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ব্যর্থ হলে বা উত্তীর্ণ না হলে কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে গণ্য হবেন না। এ ছাড়া বিভাগীয় সভাপতির অনুমোদন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে একবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও নিয়মিত ছাত্রত্ব থাকে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি নিয়মিত মাস্টার্স ২০২২-এ একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হন। জাকসুর গঠনতন্ত্র অনুসারে নিয়মিত মাস্টার্সে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত বৈধ ভোটার হিসেবে বিবেচিত হন।

তবে নিয়মিত মাস্টার্সের ২০২৩ (৪৮তম ব্যাচ) পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সেই হিসাবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রত্বের বৈধতা হারিয়েছেন জাকসু ভিপি জিতু।

ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শামীমা সুলতানা জানান, জিতু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার মাস্টার্সের একটি কোর্সের পরীক্ষায় অংশ নেননি। তাকে বিধি অনুসারে বিশেষ পরীক্ষা দিতে হবে।

অন্যদিকে, জিএস মাজহারুল ইসলাম ইংরেজি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের থিসিস গ্রুপের শিক্ষার্থী। তবে তিনি একবছর ড্রপ দেওয়ায় গত মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের সঙ্গে থিসিস জমা দিয়ে ছাত্রত্ব শেষ করেন।

বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রায়হান শরীফ বলেন, ‘জাকসুর জিএস মাজহার তার একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করেছেন। তবে ফল প্রকাশ বাকি রয়েছে।’

জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘জাকসুর সদস্য হওয়ার নীতিমালা সুস্পষ্ট থাকলেও নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষে পদ ছাড়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। তবে আমি নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আগামী কার্যনির্বাহী সভায় নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর পদত্যাগের বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরির প্রস্তাব আনা হবে।’

ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ‘জাকসুর কারা প্রার্থী হতে পারবে তা উল্লেখ থাকলেও কারও ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেলে কী হবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই। যেহেতু গঠনতন্ত্রে সুনির্দিষ্ট উল্লেখ নেই, তাই পদে থাকা না থাকা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।’

নিয়মিত মাস্টার্স ২০২৩-এ পরীক্ষায় অংশ নেননি জানিয়ে জিতু বলেন, ‘আমি নিয়মিত শিক্ষার্থী না হলেও অনিয়মিত হিসেবে এখনো আমার শিক্ষাজীবন আছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’

রাবির নতুন জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০২:১৬ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
রাবির নতুন জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জনসংযোগ দপ্তরের নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম কামরুজ্জামান।

একই সঙ্গে বর্তমান প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদারকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১১জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইতিখারুল আলম মাসউদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।

​আদেশে বলা হয়, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ থেকে তাকে জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। 

একই দিন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামানকে জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা হারে সম্মানী পাবেন বলেও জানানো হয়েছে।

অধ্যাপক ড. এস. এম. কামরুজ্জামান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিভিএম ও এমএস এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে পোস্টডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় মর্যাদাপূর্ণ ‘ফুলব্রাইট ফেলোশিপ’ পান।

তিনি ​২০০৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করা এই গবেষক ২০১৭ সালে অধ্যাপক হন। তার প্রধান গবেষণার বিষয় প্লেটলেট বায়োলজি, ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রাইনোলজি ও ক্যান স্টেম সেল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠনের সাথে সক্রিয় আছেন।

​উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রশাসনের পদত্যাগের পর, ওই বছরের সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার।

শাকিবুল হাসান/তামান্না রুপা/

জাবি শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম
জাবি শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী শরীফ হোসাইন রওশানকে নেত্রকোনায় অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি সংসদ।

বুধবার (১০ জুন) রাত নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’, ‘ছাত্রলীগ নিপীড়ন করে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করে’, ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা এই বাংলায় হবে না’ সহ বিভিন্ন ছাত্রলীগবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তির জাবি সংসদের নেতারা অভিযোগ করেন, রওশানকে নেত্রকোনায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্যরা অপহরণ ও নির্যাতন করেছেন। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মমিনুল ইসলাম শাওনের সঞ্চালনায় সমাবেশে সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ আলী চিশতি বলেন, এ ঘটনা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার বিরুদ্ধে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা। তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী সুলতান-উল-মুলক খবরের কাগজকে বলেন, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনটির সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের আওয়ামী লীগের পক্ষে সাফাই গাওয়ার নিন্দা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জুলাই হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের নিরবতার সমালোচনা করে বিএনপি সরকারের কাছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর আহ্বান জানান।

সমাবেশে বক্তারা জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, 'এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে'।

আমানউল্লাহ/থিও

আবাসন বৃত্তির অর্থ পাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
আবাসন বৃত্তির অর্থ পাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত বিশেষ আবাসন বৃত্তি বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে শিক্ষার্থীদের মাঝে ৯ হাজার টাকা করে বৃত্তির চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে বহুল আলোচিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে চেক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ১৫তম ব্যাচ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ২০তম ব্যাচ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১২৪ জন শিক্ষার্থী এ বিশেষ বৃত্তির আওতায় এসেছেন। উদ্বোধনী দিনে প্রতীকীভাবে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির সৌজন্যে প্রথম কিস্তির ৯ হাজার টাকার চেক শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

বৃত্তির অর্থ বিতরণ কার্যক্রম সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন বলেন, “চলতি সপ্তাহেই বৃত্তির অর্থ বিতরণের মূল পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ফ্যাকাল্টিভিত্তিক শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং তাদের ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। বৃত্তির অর্থ বিতরণের সার্বিক পদ্ধতি নিয়ে আগামীকাল বৃত্তি কমিটির একটি জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে, যেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিটি ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে আমাদের প্রশাসন অত্যন্ত আন্তরিক ও বদ্ধপরিকর। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটের কথা বিবেচনা করেই এই বিশেষ বৃত্তির অর্থ দ্রুত বিতরণের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। শুধু বৃত্তিই নয়, আমাদের মেগা প্রজেক্ট অর্থাৎ দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও নতুন আবাসিক হল নির্মাণকাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে আমি নিজেই খুব দ্রুত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যাবো। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমরা সবসময় কাজ করে যাব।

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে দুইদিন ব্যাপী ফল উৎসব

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে দুইদিন ব্যাপী ফল উৎসব
গুলশানে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির নিজস্ব ক্যাম্পাসে মৌসুমি ফল উৎসব। ছবি: খবরের কাগজ

দেশীয় ফলের ঐতিহ্য ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে শুরু হয়েছে দুইদিনব্যাপী ‘মৌসুমি ফল উৎসব’।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সকাল ১১টায় উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মান্নান চৌধুরী। উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে তিনি দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আগ্রহে এ ফল উৎসবের আয়োজন হয়ে থাকে। এছাড়া প্রতিবারই আমাদের নবান্ন উৎসব, বৈশাখের আয়োজন করে থাকি। সব সময়ের মতো এবারও শিক্ষার্থীরা অনেক আগ্রহের সঙ্গে উপভোগ করছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার মো. সাকির হোসাইন, ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম খান নাঈম, স্কুল অব বিজনেসের ডিন প্রফেসর আবুল কালাম, স্কুল অব ল’র ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম, স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড অ্যাডমিনের পরিচালক আফরোজা হেলেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. জাহেদুর রহমান, প্রক্টর মো. আনিছুর রহমান, স্ট্র্যাটেজিক অপারেশন্স অ্যান্ড স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর ও হেড মুশফিকুর রহমান ধ্রুব, এবং পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর ও হেড জাহিদ হাসানসহ বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির বলেন, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল উপস্থিতিদের মধ্যে দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন প্রজন্মকে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকুক এই প্রত্যাশা রাখছি।  

শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। আম, জাম, লিচু, কাউ, কাঁঠাল, লটকনসহ বিভিন্ন দেশীয় রসালো ফলের সমারোহ ও সুবাসে মুখরিত ছিল পুরো ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের ছাদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।  

সাগুফতা/এসএন