ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদীর ওপর গুলি করে হত্যার প্রচেষ্টার প্রতিবাদে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নোবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলসমূহ প্রদক্ষিণ করে। বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘তুমি কে আমি কে, হাদী হাদী’, ‘তুমি আমি হাদী হবো, গুলির মুখে কথা কব’, ‘হাদী ভাইয়ের কিছু হলে, জ্বলবে আগুন আগুন ঘরে ঘরে ’ ‘দালালি না আজাদি, আজাদি আজাদি’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে এসে বক্তৃতা ও সম্মিলিত মুনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে বক্তব্য প্রদানকালে বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মো. ইসহাক বলেন, ‘আজ দুপুর ২.৩০ এর দিকে আমাদের ইনকিলাব সম্মানিত মুখপাত্র জনাব ওসমান হাদী ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অথচ ইন্টিরিয়েন এখনো শুয়ে আছেন। যে দেশের বিপ্লবী ছাত্র-জনতা গুলিবিদ্ধ হয় এবং খুনী আওয়ামী লীগেরা ঘরে শুয়ে থাকে।’
এছাড়াও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহন ও আইন বিভাগ ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী জাফর বলেন, ‘ওসমান হাদী ভাই শুধু একটি নাম নন। তিনি বাংলাদেশের আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রতীক। জুলাই আন্দোলনে হাদী ভাইয়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ১৬ মাসে অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে তার নিরলস লড়াই ছিল অনন্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজ ‘আধিপত্যবাদ’ আবারও বিভিন্নভাবে আমাদের সামনে ফিরে এসেছে। আজকের প্রতিটি ছবি দেখে আমরা মর্মাহত। রিকশায় থাকা অবস্থায় হাদী ভাইকে যেভাবে নির্মমভাবে গুলি করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, হাদী ভাই খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মধ্যে ফিরে আসবেন এবং বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্ব গঠনে বড় ভূমিকা রাখবেন, ইনশাআল্লাহ।’
উল্লেখ্য, আজ ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরে বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদীর ওপর গুলি চালানো হয়। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
কাওসার/রিফাত/