শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত বিজয় দিবসের ফিস্ট পরিবেশনের আগেই খাবারের মান নিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে। উচ্চ মানের খাবারের আশ্বাস দিয়ে নিম্নমানের খাবারের আয়োজন করার অভিযোগ তুলে ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী ফিস্ট বয়কটের ডাক দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) শাবিপ্রবি আয়োজিত বিজয় দিবসের ফিস্ট পরিবেশনে এ ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছর শুধু হলের শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের আয়োজন করা হলেও এবার শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সব শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই উদ্দেশ্যে গত ১৩ ডিসেম্বর শিক্ষার্থীদের খাবারের রেজিষ্ট্রেশনের জন্য জানানো হয়। প্রতি বছর বিনামূল্যে খাবারের আয়োজন করা হলেও এবার ৩০ টাকা করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে প্রতি বছর খাসি/গরুসহ নানান খাবারের আয়োজন থাকলেও এবার শুধু মুরগীর রোস্ট ও ঝাল ফ্রাইয়ের আয়োজন করা হলে সমালোচনায় ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। উচ্চ মানের খাবারের আশ্বাস দিয়ে নিম্নমানের খাবারের আয়োজন করা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার সামিল অভিযোগ তুলে ইতোমধ্যে বয়কটের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
গরু/খাসির পরিবর্তে পোল্ট্রি মোরগ দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা সমালোচনা করে এটার নাম দিয়েছেন পোল্ট্রি ফিস্ট। ইতোমধ্যে আবাসিক হলগুলোর নোটিশ বোর্ডে ফিস্ট বর্জনের নোটিশ টাঙিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিকাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জুনায়েদ হাসান বলেন, ‘প্রতি বছর গুরুত্বপূর্ণ দিবস উপলক্ষ্যে হলগুলোতে ফিস্টের আয়োজন করা হয়ে থাকে। সাধারণত ফিস্টগুলোতে বিনামূল্যে খাবার পরিবেশন করা হয়, যেখানে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা বিবেচনায় মুসলিমদের জন্য গরু এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য খাসির মাংসের ব্যবস্থা থাকে। অথচ এ বছর বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত হল ফিস্টে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০ টাকা ফি নেওয়ার পরও নিম্নমানের ব্রয়লার মুরগির মাংস দিয়ে ফিস্ট আয়োজন করতে দেখা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি উপহাসমূলক। এ ধরনের দায়িত্বহীন আয়োজনের তীব্র নিন্দা জানাই।’
একই বিভাগের শিক্ষার্থী মোস্তফা আহমেদ বলেন, ‘বিজয় দিবসের মতো একটি দিনে শিক্ষার্থীদের উচ্চ মানের খাবারের আশ্বাস দিয়ে শাবিপ্রবি প্রশাসন নিকৃষ্ট মানের খাবার পরিবেশনের আয়োজন করে আমাদেরকে অপমান করেছে! এটি শুধু নিম্নমানের খাদ্য নয়, এটি প্রশাসনিক চরম ব্যর্থতার চূড়ান্ত উদাহরণ। আমরা এ ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং তাৎক্ষণিক জবাবদিহি ও প্রতিকার দাবি করছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক শিক্ষার্থী ইংরেজি বিভাগের আদনান ফারহাদ। অনাবসিক হওয়ায় আগে কখনো ফিস্টে অংশ নিতে পারেনি। এবার সুযোগ পেয়েও সে হতাশ। সে জানায়, প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা ফিস্ট থেকে বঞ্চিত হলেও এবার সুযোগ করে দেওয়ায় খুশি হয়েছিলাম। কিন্ত খাবারের আয়োজন দেখে সেই খুশি মাটি হয়ে গেছে। উচ্চ মানের খাবারের আশ্বাস দিয়ে এরকম নিম্ন মানের খাবারের আয়োজন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রহসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এরকম প্রহসনমূলক আয়োজনকে বয়কট করছি।
প্রতি বছর সতন্ত্রভাবে আবাসিক হলগুলোর ওপর খাবারের দায়িত্ব থাকলেও এবার সব শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. এছাক মিয়াকে ফিস্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ফিস্টের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রতি বছর প্রতিটি হলে সতন্ত্রভাবে খাবারের আয়োজন করা হলেও এবার একসঙ্গে সব শিক্ষার্থীর খাবারের আয়োজন করায় সেন্ট্রালি সব করতে হইছে। এদিকে শিক্ষার্থীরা যখন সবাইকে ফিস্টের আওতায় আনার দাবি জানায় তখন তারা খাবারের মান কিছুটা কমিয়ে আনার পরামর্শও দেয়। অন্যদিকে এতো শিক্ষার্থীদের জন্য গরু ও খাসি একসঙ্গে রান্না হলে এটা নিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কাও থেকে যায়। তাই এসব বিষয় চিন্তা করে আমরা এবার গরু ও খাসি বাদ দিয়েছি। এবার যেহেতু প্রথমবার ছিলো, আমরা পরবর্তীতে চেষ্টা করবো শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পূরণ করতে।
ইসফাক/নাঈম