ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের মধ্যে কোন্দল শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সিন্ডিকেট সদস্য মনোনয়ন নিয়ে কোন্দল এখন অনেকটা প্রকাশ্য। বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের গ্রুপগুলো পরস্পরকে ‘আওয়ামীপন্থী বিএনপি’ এবং ‘জামাতপন্থী বিএনপি’ বলে দোষারোপ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আওয়ামীপন্থীদের থেকে বিগত আমলে সুবিধা গ্রহণ, জুলাই বিরোধীদের প্রশ্রয় দেওয়া, তাদের শাস্তি প্রদানে বাধাসহ বিভিন্ন অভিযোগ করা হচ্ছে আওয়ামীপন্থী বলে কথিত বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের একটি গ্রুপের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে থাকায় বিএনপিপন্থীদের একটি অংশকে প্রতিপক্ষ গ্রুপ জামাতপন্থী বলে অভিহিত করছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপিপন্থীদের গ্রুপিং চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্ট পরবর্তী বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের একটি গ্রুপের শিক্ষক নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার হওয়ার জন্য জোরালো তৎপরতা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। পাশাপাশি বর্তমান ভিসি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ যাতে নিয়োগ না পান সে বিষয়েও তারা জোর তদবির চালান। কিন্তু নিয়োগ পেয়ে যাওয়ার পরে তারা তাকে ম্যানেজ করে গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবির বেশ কয়েকটি নিয়ে নেয়।
তবে সূত্র জানিয়েছে, তাদের ইচ্ছা ছিল প্রশাসনকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা কিন্তু তাদের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ভিসি তাদের গ্রুপের বাইরে বিএনপির অন্য গ্রুপ থেকেও বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেন।
সর্বশেষ সিন্ডিকেট সদস্য হওয়ার দৌড়েও তারা হেরে যান। বিএনপি পন্থী দুই শিক্ষক প্রফেসর ড. নজিবুল হক এবং প্রফেসর ড. রোকসানা মিলি নিয়োগ পান। অভিযোগ রয়েছে এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কমিটি থেকে গত ৭ ডিসেম্বর তারা পদত্যাগ করেন।
পদত্যাগ করা শিক্ষক নেতারা হলেন, জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ইউট্যাব ইবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন এবং সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। তাদের বিরুদ্ধে বিএনপির অন্য গ্রুপটির বিষয়ে কেন্দ্রে জামায়াতপন্থী বিএনপি বলে অভিযোগ দেওয়া ও প্রচার করার অভিযোগ রয়েছে।
আবার, বিএনপিপন্থীদের বিপরীত গ্রুপটি পদত্যাগকারীদের আওয়ামী পন্থী বিএনপি বলে অভিহিত করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপিপন্থী শিক্ষক নেতা বলেন, ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারের আমলেও বিএনপির পক্ষে শক্ত অবস্থানকারী প্রফেসর ড. নজিবুল হককে সিন্ডিকেট সদস্য করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অসহযোগিতা ও ক্যাম্পাসকে উত্তপ্ত করতে তারা নানামুখী চক্রান্ত চালাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে তারা বিভিন্ন সময় বিএনপিপন্থীদের মধ্যে ভাঙ্গন সৃষ্টি করে আওয়ামীপন্থীদের শক্তিশালী করেছেন ও শিক্ষক সমিতিতে জিতিয়েছেন, আওয়ামী আমলে সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, আবার বিপ্লব পরবর্তী সময়ে সেই ঋণ শোধ করতে জুলাই বিরোধী আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের প্রশ্রয় দিয়েছেন এবং বিচারে অসহযোগিতা করেছেন।
এ বিষয়ে ইবি সাদা দলের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের জাময়াতপন্থী বিএনপি বলে কেন্দ্রে প্রচারের বিষয়টা সম্পূর্ণ বানোয়াট। তাদেরকে কেন্দ্রে কে চিনে? কমিটি থেকে পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি এ প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি না। এ জন্য আমরা বিভিন্ন কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছি, বিএনপিপন্থী বাকিরাও করবে।
ইবি ইউট্যাবের সভাপতি প্রফেসর ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, বর্তমান প্রশাসন জুলাইয়ের চেতনা ধারণ না করে একটি দলের পক্ষে কাজ করছে। তাই আমি এ প্রশাসনের দেওয়া বিভিন্ন কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছি। বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের একটি পক্ষের বিষয়ে জামায়াতপন্থী বিএনপি বলে প্রচারণার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা যে পারপাস সার্ব করবে তাদের বিষয়টা কেন্দ্রে যেতেই পারে, তবে আমার এ বিষয়ে জানা নেই।
জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন বলেন, এ প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি না। এ প্রশাসন এখন অবধি জুলাইয়ের চেতনাবিরোধী লোকদেরকে বিভিন্ন জয়গায় বহাল তবিয়তে রেখেছেন। যা আমরা সমর্থন করতে পারিনা। নওয়াব আলী, প্রধান প্রকৌশলী শরীফ উদ্দিনরা কিভাবে এখনও প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকে আমার বুঝে আসে না। আর বিএনপন্থী শিক্ষকদের গ্রুপিংয়ের বিষয়টি আমার জানা নেই। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকতে পারে।
প্রফেসর ড. নজিবুল হক বলেন, এ প্রশাসন জুলাই বিরোধী কোন কাজ করছে বলে আমার মনে হয় না। আমাদের বিষয়ে কেউ কিছু যদি বলে থাকে তাহলে সেটি আমার জানা নেই। আমার সিন্ডিকেট সদস্য হওয়া নিয়ে কেউ খুশি হয়েছি কি, অখুশি হয়েছে সেটিও আমার জানা নেই। তাছাড়া কেউ যদি ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসন কিংবা বিগত আমলে সুবিধা নিয়ে থাকে সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয় সে বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না।
নিয়ামত/নাঈম/




