চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামীকাল শুক্রবার বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষার মাধ্যমে এবারের ভর্তি কার্যক্রমের সূচনা হবে, যা আগামী ১০ জানুয়ারি ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে প্রক্টর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী।
ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে নিজ নিজ আসনে উপস্থিত হতে হবে। প্রবেশপত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে এবং বেলা ১১টার পর কাউকে আর পরীক্ষার হলে ঢুকতে দেওয়া হবে না। ভর্তি পরীক্ষার ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভর্তির ওয়েবসাইটে লগইন করে পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ আসনের অবস্থান জানতে পারবেন। এ জন্য আগে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা বাধ্যতামূলক। পরীক্ষার দিন সঙ্গে রাখতে হবে ডাউনলোড করা প্রবেশপত্রের এক কপি এবং উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষার মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড অথবা ‘এ’ লেভেলের ক্ষেত্রে স্টেটমেন্ট অব এন্ট্রি।
আগামীকাল ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা। এই ইউনিটের অধীনে বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদের মোট ১ হাজার ৯৩টি আসনের বিপরীতে প্রতিযোগিতা করবেন ৮৭ হাজার ৬৯৪ জন শিক্ষার্থী। ফলে প্রতি আসনের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৮০ জন ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থী লড়বেন। ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩ জানুয়ারি ‘ডি’ ইউনিট, ৫ জানুয়ারি ‘ডি-১’ উপইউনিট, ৭ জানুয়ারি ‘বি-১’ উপইউনিট, ৮ জানুয়ারি ‘বি-২’ উপইউনিট, ৯ জানুয়ারি ‘সি’ ইউনিট এবং ১০ জানুয়ারি ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
গত বছরের মতো এবারও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। চলতি শিক্ষাবর্ষে চারটি ইউনিট ও তিনটি উপইউনিটে মোট ৩ হাজার ৫৯৭টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। গড়ে প্রতি আসনের বিপরীতে লড়বেন প্রায় ৬৫ জন পরীক্ষার্থী। সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে ‘এ’ ইউনিটে।
ভর্তি পরীক্ষা ১০০ নম্বরের বহুনির্বাচনী প্রশ্নে অনুষ্ঠিত হবে, সময় থাকবে এক ঘণ্টা। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার জিপিএ থেকে অতিরিক্ত ২০ নম্বর যোগ হয়ে মোট নম্বর হবে ১২০। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটা যাবে। ‘ডি-১’ উপইউনিট ছাড়া সব ইউনিটে পাস নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০, আর ‘ডি-১’ উপইউনিটে পাস নম্বর ৩৫।
বিষয়ভিত্তিক মানবণ্টন অনুযায়ী ‘এ’ ইউনিটে ইংরেজি ২৫ নম্বর এবং পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত ও জীববিদ্যা থেকে যেকোনো তিনটি বিষয়ে ২৫ নম্বর করে প্রশ্ন থাকবে। ‘বি’ ইউনিটে বাংলা বা ঐচ্ছিক ইংরেজি, ইংরেজি এবং সাধারণ জ্ঞান থেকে প্রশ্ন হবে নির্ধারিত নম্বর অনুযায়ী। অন্যান্য ইউনিট ও উপইউনিটেও আলাদা আলাদা বিষয়ভিত্তিক ন্যূনতম পাস নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে ক্যাম্পাসে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী জানান, পরীক্ষার দিন ক্যাম্পাসে ২২০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ২৫ জন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৬৫ জন ট্রাফিক পুলিশ নিয়োজিত থাকবেন। পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় ছয়টি তথ্যকেন্দ্র ও দুটি মেডিকেল ক্যাম্প থাকবে। চাকসুর উদ্যোগে থাকবে ছয়টি বিশ্রামাগার। ফায়ার সার্ভিসের টহল গাড়ি, রোভার স্কাউট ও বিএনসিসি সদস্যরাও সার্বিক সহযোগিতায় থাকবেন। ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পালন করবে।
এদিকে এবছর ‘এ’ ইউনিটে আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ মোট জিপিএ-৮ থাকলেই আবেদন করা যাবে, যা গত বছর ছিল ৮ দশমিক ৫। আলাদাভাবে এসএসসিতে ন্যূনতম জিপিএ-৪ এবং এইচএসসিতে জিপিএ-৩ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশা প্রকাশ করেছে, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে এবারের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। আগামীকাল ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম।
আল আরাফ/নাঈম




