জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোট গণনায় এখন পর্যন্ত ২৮টি কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। সর্বশেষ প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম ৪৩১ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে জকসুর নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. কানিজ ফাতেমা কাকলী এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
২৮ কেন্দ্রের সমন্বিত ফলাফলে ভিপি পদে রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন মোট ৩,৭২৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত প্রার্থী একেএম রাকিব পেয়েছেন ৩,২৯৮ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন শিবির সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল আলিম আরিফ। তিনি পেয়েছেন ৩,৮৪২ ভোট। বিপরীতে, ছাত্রদল সমর্থিত খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ১,৪৬৫ ভোট।
সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদেও এগিয়ে রয়েছেন শিবির সমর্থিত প্রার্থী মাসুদ রানা। তিনি পেয়েছেন ৩,৩৩৭ ভোট এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী, ছাত্রদল সমর্থিত তানজিল, পেয়েছেন ২,৯৩৯ ভোট।
এদিকে, সর্বশেষ ঘোষিত ইতিহাস বিভাগ কেন্দ্রের ফলাফলে ভিপি পদে রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ১৮৮ ভোট এবং একেএম রাকিব পেয়েছেন ১৫২ ভোট। একই কেন্দ্রে জিএস পদে আব্দুল আলিম আরিফ পেয়েছেন ১৮৩ ভোট, এবং খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ৮৬ ভোট। তবে এজিএস পদে এই কেন্দ্রে তানজিল ১৩১ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন, যেখানে মাসুদ রানা পেয়েছেন ৮৩ ভোট।
অর্থনীতি বিভাগ কেন্দ্রের ফলাফলেও শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা ভিপি ও জিএস পদে এগিয়ে রয়েছেন। এ কেন্দ্রে ভিপি পদে রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ১৭৭ ভোট এবং একেএম রাকিব পেয়েছেন ১৩৩ ভোট। জিএস পদে আব্দুল আলিম আরিফ পেয়েছেন ১৭০ ভোট। এজিএস পদে মাসুদ রানা পেয়েছেন ১৪৮ ভোট, এবং তানজিল পেয়েছেন ১৩১ ভোট।
উল্লেখ্য, এর আগে ৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৩৯টি কেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভোট গণনা শুরু হলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটি বন্ধ রাখা হয়। পরে ৬ জানুয়ারি মধ্যরাত (১২.০০) থেকে ভোট গণনা পুনরায় শুরু হয়। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সকাল ৯.১৭) ভোট গণনা চলছে।
নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ২১টি পদে ১৫৭ জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হলের সংসদের ১৩টি পদে ৩৩ জনসহ মোট ৩৪টি পদের বিপরীতে ১৯০ জন চূড়ান্ত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। যদিও বেশ কয়েকজন নির্বাচনের আগে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। ভোট কাস্টিং হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদে প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং হল সংসদে ৭৭ শতাংশ। (জবির একমাত্র নারী হল: নওয়াব নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল)
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬৬৬৫ জন। জকসুতে মোট চারটি প্যানেলে প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন। সেগুলো হলো ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, বাম জোট-সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি-সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’। এ ছাড়া স্বতন্ত্রভাবেও অনেকেই নির্বাচনে প্রার্থী অংশ নিয়েছেন।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও দ্বিতীয় ফটকের এলইডি স্ক্রিনের পাশে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানও চোখে পড়েছে।
মুজাহিদ/রিফাত/




