ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শেরপুরে নিখোঁজ ৫ ছাত্রের ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার তনু হত্যা: দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের নির্দেশ বোয়ালখালীতে ওমান প্রবাসীকে হত্যা: শোকে পাথর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও মা মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল রাজনীতি বাড়ছে: যুবদল সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইউনুছ হাওলাদার আর নেই মরিশাসের শ্রমবাজার খুলতে সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত টিআইবি প্রকৃত ঘটনা জাজ করে স্টেটমেন্ট দেয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর নিরাপত্তা নিয়ে অস্বস্তিকর বাস্তবতা ঈশ্বরগঞ্জে অটোরিকশাচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু গণতন্ত্রে হতাশা এবং নেতৃত্বে অসন্তোষ শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষকের ওপর মব হামলা, আদালতে মামলা কন্যাশিশু নির্যাতন: আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংকট মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে মামলা, ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি চলবে না: চরমোনাই পীর আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে ইরাক ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে: মাহদী আমিন যেকোনো সাফল্যে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি (সা.) রৌমারীতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে নারীর মৃত্যু ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের শেরপুরে ১২ দিনে পাঁচ শিক্ষার্থী নিখোঁজ, অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭ হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ গাজীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে জনতার হাতে যুবদল নেতা আটক
Nagad desktop

জকসু নির্বাচন: শিবিরের জয়ের ৫ কারণ

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৮ এএম
জকসু নির্বাচন: শিবিরের জয়ের ৫ কারণ
জকসু নির্বাচনের বিজয়ীরা। ছবি: খবরের কাগজ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল। সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহসাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস), ২১টি পদের মধ্যে ১৬টিতে জয়লাভ করেছে শিবিরের প্যানেলের প্রার্থীরা।

গত বুধবার রাত ১টায় ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান।

শিবিরের নিরঙ্কুশ জয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীরা বেশ অবাক হলেও মাঠের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। শিক্ষার্থীরা বলেছেন, আন্তরিক ব্যবহার ও সবাইকে স্নেহ-সম্মান-শ্রদ্ধাই শিবির প্রার্থীদের জয়ের অন্যতম কারণ। এ ছাড়াও ছাত্রশিবিরের নামে চাঁদাবাজি বা মারামারি না করার বিষয়গুলো ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। শিক্ষার্থীদের পালস বুঝতে পারার সক্ষমতা, টেন্ডারবাজি না করা ও মাদকমুক্ত থাকার প্রবণতাও নির্বাচনে তাদের বড় জয়ের পথকে সুগম করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোটা দাগে, এই পাঁচটি ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে শিবিরের স্বাতন্ত্র্যকে ভোটাররা সম্মান করে রায় দিয়েছেন।

কোন পদে কত ভোট
ভিপি পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম। রিয়াজুল আইন বিভাগের ১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৫৮ ভোট। রিয়াজুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি। এদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। রাকিব জবি শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি।

জিএস পদে ৫ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন আবদুল আলীম আরিফ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২ হাজার ২২৩ ভোট। আবদুল আলীম আরিফ আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। তিনি জবি শাখা শিবিরের সেক্রেটারি।

এজিএস পদে জয়লাভ করেছেন শিবির প্যানেলের মাসুদ রানা। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ২০ ভোট। এই পদে ছাত্রদল-ছাত্র অধিকারের প্যানেলের আতিকুল ইসলাম তানজীল পেয়েছেন ৪ হাজার ২২ ভোট। বিজয়ী এজিএস মাসুদ রানা ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে জুলাই আগস্টের আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন। মাসুদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। 

মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থী নুরনবী। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৪০০ ভোট। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। 

শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের প্যানেলের ইব্রাহীম খলিল। তিনি ৫ হাজার ৫২৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের প্যানেলের মোছা. সুখীমন খাতুন। তিনি ৪ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের প্যানেলের নুর মোহাম্মদ। তিনি ৪ হাজার ৪৭০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের প্যানেলের হাবীব মোহাম্মদ ফারুক। তিনি পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৫৪ ভোট।

আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের প্যানেলের নওশীন নাওয়ার। তিনি ৪ হাজার ৫০১ ভোট পেয়েছেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

ক্রীড়া সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের প্যানেলের জর্জিস আনোয়ার নাইম। তিনি ৩ হাজার ৯৬৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

সমাজসেবা ও শিক্ষার্থীকল্যাণ সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের প্যানেলের মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি ৩৪৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের তাকরিম মিয়া। তিনি ৫ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়েছেন।

পরিবহন সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের মাহিদ হোসেন। তিনি ৪ হাজার ২৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের মো. রিয়াসাল রাকিব। তিনি ৪ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

কার্যনির্বাহী সদস্যের সাতটি পদের মধ্যে শিবির–সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী হয়েছেন পাঁচজন। একজন স্বতন্ত্র ও একজন ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী হয়েছেন। সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন শিবিরের প্যানেলের ফাতেমা আক্তার। তিনি পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৫১ ভোট। শিবিরের প্যানেলের আকিব হাসান পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৮৮ ভোট। একই প্যানেলের শান্তা আক্তার পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৫৪ ভোট। একই প্যানেলের মেহেদী হাসান পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৪৮ ভোট। একই প্যানেলের মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক পেয়েছেন ২ হাজার ৯১৭ ভোট।

এ ছাড়া ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত প্যানেলের মোহাম্মদ সাদমান আমিন সাম্য ৩ হাজার ৩০৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। 

একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাহিদ হাসান পেয়েছেন ৩ হাজার ১২৪ ভোট। 

হল সংসদ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদসহ বিভিন্ন পদে জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রীসংস্থা সমর্থিত প্যানেল।

ভিপি পদে ৫৫০ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন ছাত্রীসংস্থা-সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের মোছা. জান্নাতুল উম্মি তারিন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত ‘অপরাজিতার অগ্রযাত্রা’ প্যানেলের ফারজানা আক্তার রিমি পেয়েছেন ২৩৬ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৫৭১ ভোট পেয়ে ছাত্রীসংস্থা সমর্থিত প্যানেলের সুমাইয়া তাবাসসুম জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সাদিয়া সুলতানা নেলি পেয়েছেন ৩১৪ ভোট।

সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ছাত্রীসংস্থা সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের রেদওয়ানা খাওলা ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত ‘অপরাজিতার অগ্রযাত্রা’ প্যানেলের শেখ তাসলিমা জাহান মুন পেয়েছেন ৪০৪ ভোট।

হল সংসদের সম্পাদকীয় ভোট সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রদলের প্যানেলের ফারজানা আক্তার। তিনি পেয়েছেন ৪৮৩ ভোট। সংস্কৃতি সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রীসংস্থার ফাতেমা তুজ জোহরা। তিনি পেয়েছেন ৪৩১ ভোট। 

পাঠাগার সম্পাদক পদে ছাত্রীসংস্থার ফাতেমা তুজ জোহরা সামিয়া। তিনি পেয়েছেন ৫৩৯ ভোট। ক্রীড়া সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রীসংস্থার সাবিকুন নাহার। তিনি পেয়েছেন ৬৩৫ ভোট। সমাজসেবা ও শিক্ষার্থীকল্যাণ সম্পাদক পদে ছাত্রীসংস্থার ফারজানা আক্তার ৪০৮ ভোট পেয়েছেন। 

কার্যনির্বাহী সদস্য পদে জয়লাভ করেছেন-সাবরিনা আক্তার (৬১৪), নওশীন বিনতে আলম (৫৩৬), মোছা. সায়মা খাতুন (৫১৭), লস্কর রুবাইয়াত জাহান (৪৮৪)। এই পদের লস্কর রুবাইয়াত ছাড়া বাকি সবাই ছাত্রীসংস্থার। 

শিবিরের জয়ের কারণ কী?
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ছাত্রশিবিরের প্রার্থীরা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং আন্তরিকভাবে ভোট চেয়েছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্তরিক ব্যবহার ও সবাইকে স্নেহ-সম্মান-শ্রদ্ধাই এই জয়ের অন্যতম কারণ। 

এ ছাড়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবিরের বিজয় এবং তাদের ইতিবাচক কার্যক্রমের ফলে অনেকেই শিবিরের প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন। ডাকসু যেভাবে উন্নয়ন করছে তারই আশায় শিবিরের প্যানেলের প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, এ ছাড়াও ছাত্রশিবিরের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ নেই। মারামারিতে যুক্ত না হওয়ার প্রবণতা আকৃষ্ট করেছে ভোটারদের। বিভিন্ন নেতার একাডেমিক ফলাফলও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেছে শিবিরকে ভোট দিতে।

কেউ কেউ বলছেন, শিবিরকে ভোট দিলে কোনো টেন্ডারবাজি করবে না যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজে ভূমিকা রাখতে পারবেন জকসুর সদস্যরা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, ৫ আগস্টের পর নানা কারণে ছাত্রদলের প্রতি শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ থেকেই শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলের প্যানেলকে ভোট না দিয়ে শিবিরকে ভোট দিয়েছেন। সবাই যে শিবির করেন, তা নয়। ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ভোট দিতেই তারা শিবিরকে বেছে নিয়েছেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা আশা রাখি শিবির আমাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করবে না। তাদের শিক্ষার্থীবান্ধব ব্যবহার এবং বিনয় আমাদের আগ্রহী করেছে তাদের ভোট দিতে।’

জকসু নির্বাচনের পর্যবেক্ষক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হিউম্যান রাইটস সোসাইটির সভাপতি জুনায়েদ মাসুদ বলেন, ‘শিবিরের জয়ের প্রধান কারণ আমি মনে করি সংগঠনটি সম্পর্কে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক ধারণা। তাদের নমনীয় আচরণ শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করেছে। বিশেষ করে রক্ষণশীল পরিবার থেকে আসা নারী শিক্ষার্থীরা শিবিরের কাছে নিজেদের বেশি নিরাপদ মনে করেন। এ ছাড়া শিবিরের ক্লিন ইমেজ যথেষ্ট ভালো ভূমিকা রেখেছে। বিগত সময়ে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে তারা অনেক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। শিবিরের জয়ের পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমি মনে করি, শিক্ষার্থীদের পালস বুঝতে পারার সক্ষমতা। তারা শিক্ষার্থীদের মানসিকতা বুঝতে পেরেছে, শিক্ষার্থীদের ভাষায় কথা বলতে পেরেছে। এ ছাড়া শিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শিক্ষার্থীদের কাছে তাদের আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে।’

সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মিলন বলেন, ‘৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে জবি ক্যাম্পাসে শিবির বিভিন্ন চমকপ্রদ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে তাদের সক্ষমতা প্রকাশ করেছে। তারা ক্যাম্পাসে ওয়ালফেয়ার পলিটিক্সের যে ধারা শুরু করে তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। তাছাড়া স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, যোগ্যতা তাদের বিজয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ওয়াহেদ বলেন, ‘শিবিরের জয়ের কারণ শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতি করা, প্রচলিত মিছিল মিটিংয়ের রাজনীতি না করা, শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজি ও মাদকমুক্ত রাজনীতি করা।’

জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুষদে দুই দিনব্যাপী অধ্যাপক ড. খবির উদ্দিন আহমেদ জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। 

সোমবার (৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জানা গেছে, বাংলাদেশের ৪২টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩টি দল এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রিলিমিনারি, কোয়ার্টার-ফাইনাল, সেমি-ফাইনাল এবং গ্র্যান্ড ফাইনাল রাউন্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দল অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

সোসাইটি ফর ক্রিটিক্যাল লিগ্যাল স্টাডিজ (এসসিএলএস)-এর উদ্যোগে গত ৫-৬ জুন অনুষ্ঠিত হওয়া প্রতিযোগিতার সমাপনী দিনে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুট কোর্ট দলের সদস্যরা হলেন- আইন বিভাগের ২০২২-২০২৩ সেশনের শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া শুচি ও যাইদ ইকরাম এবং ২০২৩-২০২৪ সেশনের শিক্ষার্থী নাফিসা তাবাসসুম।

আরিফ/নাঈম

পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান। 

সোমবার (৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো. শাহআলম সিরাজ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তাকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রদান করেছেন। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী তিনি যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন।

অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান দীর্ঘদিন ধরে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তার নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, নতুন উপাচার্যের নেতৃত্বে শিক্ষা, গবেষণা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে তারা আশা করছেন।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

হাসিবুর রহমান/নাঈম

লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ
ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ। ছবি সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ।

রবিবার (৭ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়োগ প্রদান করা হয়।

নোয়াখালী জেলার স্থায়ী বাসিন্দা ডক্টর মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক পদে কর্মরত রয়েছেন। একইসঙ্গে তাকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। 

এদিকে লক্ষ্মীপুরে প্রতিষ্ঠিত নতুন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ এর নিয়োগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবিতের প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে জাতীয় সংসদে লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাশ হয়। একই বছরের ২৬ অক্টোবর লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুহাম্মদ হানিফ মুরাদ ১৯৭৪ সালের ১০ এপ্রিল নোয়াখালীর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুমিল্লার ব্রাদার আন্দ্রে’স হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে বিএসসি অনার্স এবং এমএসসি (থিসিস গ্রুপ) ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বিএসসি ও এমএসসি উভয় ডিগ্রিতেই প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। বিএসসি ও এমএসসি ডিগ্রিতে অসামান্য ফলাফলের জন্য তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পুরস্কৃত হন। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত গণিতে এম ফিল ডিগ্রি লাভ করেন। 

চাকরি জীবনে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শেষে ২০০৬ সালে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। 

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তার ২৭টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। ডক্টর মুরাদ বাংলাদেশ গণিত সমিতির আজীবন সদস্য।

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম/অন্তরা

মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন ড. তোজাম্মেল হোসেন

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন ড. তোজাম্মেল হোসেন
নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. তোজাম্মেল হোসেন। ছবি: খবরের কাগজ

মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন। তিনি ইবির আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

রবিবার (৭ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ (সংশোধিত-২০২৫)-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী ড. মো. তোজাম্মেল হোসেনকে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখের মধ্যে যেটি আগে ঘটবে, ততদিন তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন। এ পদে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনবোধে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

বিষয়ে অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, 'আমাকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে এ দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করব। সংশ্লিষ্ট সবার কাছে দোয়া, পরামর্শ ও সহযোগিতা চাই।'

নিয়ামত উল্লাহ/আজহার/

নবাব সলিমুল্লাহর জন্মবার্ষিকী উদযাপন

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
নবাব সলিমুল্লাহর জন্মবার্ষিকী উদযাপন
ছবি: খবরের কাগজ

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ১৫৫ তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সালামের নেতৃত্বে হলের আবাসিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ বেগম বাজারস্থ নবাব স্যার সলিমুল্লাহ’র সমাধিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে। পরে তার কবর জিয়ারত করা হয়। এ উপলক্ষ্যে আজ আসরের পর সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে কবর জিয়ারত ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জোহরের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ায় নবাব সলিমুল্লাহ’র অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় ও তার কবর সংরক্ষণ এবং সংস্কারের দাবি তোলা হয়।

ডাকসু নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষা বিস্তার, মুসলিম সমাজের উন্নয়ন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে নবাব সলিমুল্লাহ’র ঐতিহাসিক ভূমিকা জাতি চিরদিন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও শিক্ষা-অনুরাগ এ দেশের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা ও কার্যনির্বাহী সদস্য আনাস ইবনে মুনির।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, ঢাকার নবাব ও মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদান রাখেন। স্যার সলিমুল্লাহর উল্লেখযোগ্য অবদানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে জনমত গঠন করেন। ১৯২০ সালে দ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট পাশ হওয়ার ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ১৯১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ।

আরিফ জাওয়াদ/এসএন