ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কানাডার বিশ্বকাপ বরণ অনুষ্ঠান মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয় ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন শেষ ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের ছয় হাসপাতালকে আদ্‌-দ্বীনের রোগী ভর্তি নিতে নির্দেশ হজ পালন শেষে দেশে ফিরলেন ৫২, ৪৯১ হাজি সরকার ব্যাংকমুখী নয় গণমানুষের বাজেট ঘোষণা করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘণ্টাব্যাপী বিভ্রাটের পর স্বাভাবিক ফেসবুক চট্টগ্রামে ডেঙ্গু মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ
Nagad desktop

নবীনদের ভাবনায় ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
নবীনদের ভাবনায় ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা
ছবি এআই

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে একাডেমিক পড়াশোনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যারা কলমকে বেছে নেন প্রতিবাদের ও সত্যের ভাষা হিসেবে, তারাই ক্যাম্পাস সাংবাদিক। চ্যালেঞ্জ আর আনন্দের মিশেলে এই পথ যেমন কঠিন, তেমনি রয়েছে শেখার অবারিত সুযোগ। প্রতিবন্ধকতা আর সম্ভাবনার অভিজ্ঞতাকে আপন করে নিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য সাংবাদিকতায় যুক্ত হওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান তাদের আগ্রহের কারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা। লিখেছেন সুমন গাজী

 

শিক্ষার্থীদের অধিকারের প্রশ্নে সোচ্চার কণ্ঠস্বর 
মেহরাজ হোসাইন ইমন 
শিক্ষার্থী
কৃষি অনুষদ
সেশন: ২০২২-২৩

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী যখন পাঠ্যবইয়ের তাত্ত্বিক জ্ঞানের গণ্ডি পেরিয়ে কলম ও ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো ক্যাম্পাসের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন, তখন তাকে চিনি ক্যাম্পাস সাংবাদিক হিসেবে। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা কেবল একটি শখ বা খণ্ডকালীন পেশা নয়, মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও সমাধানের মধ্যকার সেতুবন্ধ। মিডিয়া হাউসের সাংবাদিকের সঙ্গে ক্যাম্পাস সাংবাদিকের নানামুখী পার্থক্য থাকলেও দুজনের লক্ষ্য অভিন্ন, সত্যকে উপস্থাপন। সাংবাদিকতার মূল সৌন্দর্য সততা ও সাহসিকতায়। সাংবাদিক কেবল ক্যাম্পাসের ইতিবাচক সংবাদ প্রচার করে না, বরং প্রশাসনের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং শিক্ষার্থীদের অধিকারের প্রশ্নে সোচ্চার কণ্ঠ হয়ে ওঠে। বাকৃবিতে সাংবাদিকতায় যুক্ত হতে নির্দিষ্ট কোনো বিভাগে পড়াশোনা করা জরুরি নয়, বরং কৃষি, ভেটেরিনারি, মৎস্য বিজ্ঞানসহ সব অনুষদের শিক্ষার্থীরাও এতে সমানভাবে অংশ নেয়। ছাত্র থাকাকালে সাংবাদিকতার হাতেখড়ির সুযোগ, যা পরে স্নাতক সম্পন্ন করে জাতীয় মিডিয়া হাউস এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ক্যারিয়ার গড়ার পথ সুগম করে তোলে। সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা লিডারশিপ ও কমিউনিকেশন স্কিলে সাধারণদের থেকে অনেকাংশ এগিয়ে থাকবে।

 


সাংবাদিকতা হলো সমাজের দর্পণ
হুর-এ-তানহা তামান্না
শিক্ষার্থী
পশুপালন অনুষদ
সেশন: ২০২২-২৩

সাংবাদিকতা হলো সমাজের দর্পণ, যা সমাজের বাস্তব চেহারাকে তুলে ধরে। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতাও তেমনি ক্যাম্পাসের বস্তুনিষ্ঠ ঘটনাপ্রবাহ প্রচারের একটি মাধ্যম। ক্যাম্পাসের সাম্প্রতিক ঘটনা, গবেষণা, উদ্ভাবন, অগ্রগতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য একজন সাংবাদিক তার লেখনীর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমা পেরিয়ে জাতির বিবেকের কাছে তুলে ধরে। ক্যাম্পাসের সীমাবদ্ধতা, দুর্বলতা ও সম্ভাবনা প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষকে দৃষ্টি আকর্ষণ করাও সাংবাদিকের দায়িত্ব। সাংবাদিকতা শুধুই সংবাদ লেখা নয়, বরং সত্যকে খুঁজে বের করা, দায়িত্ববোধ শেখানো এবং সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো। তবে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় সীমাবদ্ধতাও অনেক। তা হলো সময়ের অভাব, পড়াশোনার চাপ ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি। আশা করি, এসব প্রতিবন্ধকতাই ধীরে ধীরে শেখার অভিজ্ঞতায় পরিণত হবে। সর্বদা নিরপেক্ষ থেকে সত্যকে প্রকাশ করে সচেতন সাংবাদিক হতে চাই।
ক্যাম্পাস সৌন্দর্য, সাফল্য ও গৌরবের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক সমস্যাগুলো সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরতে চাই। 
ভবিষ্যতে সাংবাদিকতা পেশায় না গেলেও এই অভিজ্ঞতা বিসিএস কিংবা করপোরেট জগতে এগিয়ে রাখবে।

 

সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদে ক্যাম্পাসকে উপস্থাপনের মাধ্যম
মোছা. মোতমাইন্না আক্তার মুন্নী
শিক্ষার্থী
পশুপালন অনুষদ
সেশন: ২০২২-২৩

ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা শুধু খবর সংগ্রহের কাজ নয়, বরং সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে উপস্থাপনের মাধ্যম। ক্যাম্পাসভিত্তিক সংবাদে থাকে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, সমস্যা, সংগ্রাম, ও সাফল্যের গল্প। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, উদ্ভাবন, অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য এবং ঐতিহ্য প্রকাশের কাজ করেন ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা। সাংবাদিকতা একজনকে দায়িত্বশীল হতে শেখায়, সত্যের অবলম্বনে সাহস জোগায়, ক্যাম্পাসের চারদিকে বিদ্যমান সমস্যা সামনে আনে এবং সমাধানের পথ বাতলে দেয়। সত্যকে জানা এবং জানানোর ইচ্ছে থেকেই সাংবাদিকতায় যুক্ত হওয়া। এই ভাবনায় লেখালেখির চেষ্টা, সিনিয়রদের থেকে অনুপ্রেরণা আর হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ ধীরে ধীরে সাংবাদিকতার প্রতি ভালোবাসা জন্ম দিচ্ছে। কারণ একটা লেখা বা প্রতিবেদন কারও চিন্তা বদলাতে পারে, বিদ্যমান সমস্যার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সমাধানে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো অভিজ্ঞতার অভাব এবং সময় সংকট। সময় ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে একাডেমিক পড়াশোনা এবং সাংবাদিকতার মাঝে সামঞ্জস্যতা রক্ষা করার চেষ্টা করছি।

 

কৃষি বিটে ভালো সাংবাদিক হওয়ার সুযোগ
মো. আবু হানিফ 
শিক্ষার্থী
কৃষি অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদ
সেশন: ২০২৩-২৪

ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা একজন শিক্ষার্থীর জন্য ব্যতিক্রমধর্মী ও সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। বাকৃবিতে সাংবাদিকতা করার সবচেয়ে বড় সুবিধা কৃষি বিটে বিশেষায়িত সাংবাদিক হওয়ার সুযোগ। আধুনিক বিশ্বে কৃষি আজ গবেষণায়, প্রযুক্তিতে এবং বাণিজ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ছাত্রাবস্থায় কৃষির উদ্ভাবন, সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করলে একজন শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে দক্ষ কৃষি জার্নালিস্ট হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় প্রতিষ্ঠানের স্বনামধন্য শিক্ষক ও কৃষিবিজ্ঞানীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাওয়া যায়। এতে সাংবাদিকের যেমন নেটওয়ার্কিং দক্ষতা বাড়ে, তেমনি আত্মবিশ্বাসও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিজস্ব ভাবনা, বিশ্লেষণ ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতা কেবল কলম আর কাগজে সীমাবদ্ধ নয়। এআই রিপোর্টিং, ডেটা ড্রিভেন জার্নালিজম ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার একজন শিক্ষার্থীকে সময়োপযোগী করে তোলে। ক্যাম্পাসের নানা সমস্যা ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বাস্তবভিত্তিক চিন্তা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে ওঠে।

রাবির নতুন জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০২:১৬ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
রাবির নতুন জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জনসংযোগ দপ্তরের নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম কামরুজ্জামান।

একই সঙ্গে বর্তমান প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদারকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১১জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইতিখারুল আলম মাসউদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।

​আদেশে বলা হয়, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ থেকে তাকে জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। 

একই দিন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামানকে জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা হারে সম্মানী পাবেন বলেও জানানো হয়েছে।

অধ্যাপক ড. এস. এম. কামরুজ্জামান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিভিএম ও এমএস এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে পোস্টডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় মর্যাদাপূর্ণ ‘ফুলব্রাইট ফেলোশিপ’ পান।

তিনি ​২০০৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করা এই গবেষক ২০১৭ সালে অধ্যাপক হন। তার প্রধান গবেষণার বিষয় প্লেটলেট বায়োলজি, ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রাইনোলজি ও ক্যান স্টেম সেল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠনের সাথে সক্রিয় আছেন।

​উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রশাসনের পদত্যাগের পর, ওই বছরের সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার।

শাকিবুল হাসান/তামান্না রুপা/

জাবি শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম
জাবি শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী শরীফ হোসাইন রওশানকে নেত্রকোনায় অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি সংসদ।

বুধবার (১০ জুন) রাত নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’, ‘ছাত্রলীগ নিপীড়ন করে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করে’, ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা এই বাংলায় হবে না’ সহ বিভিন্ন ছাত্রলীগবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তির জাবি সংসদের নেতারা অভিযোগ করেন, রওশানকে নেত্রকোনায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্যরা অপহরণ ও নির্যাতন করেছেন। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মমিনুল ইসলাম শাওনের সঞ্চালনায় সমাবেশে সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ আলী চিশতি বলেন, এ ঘটনা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার বিরুদ্ধে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা। তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী সুলতান-উল-মুলক খবরের কাগজকে বলেন, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনটির সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের আওয়ামী লীগের পক্ষে সাফাই গাওয়ার নিন্দা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জুলাই হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের নিরবতার সমালোচনা করে বিএনপি সরকারের কাছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর আহ্বান জানান।

সমাবেশে বক্তারা জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, 'এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে'।

আমানউল্লাহ/থিও

আবাসন বৃত্তির অর্থ পাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
আবাসন বৃত্তির অর্থ পাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত বিশেষ আবাসন বৃত্তি বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে শিক্ষার্থীদের মাঝে ৯ হাজার টাকা করে বৃত্তির চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে বহুল আলোচিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে চেক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ১৫তম ব্যাচ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ২০তম ব্যাচ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১২৪ জন শিক্ষার্থী এ বিশেষ বৃত্তির আওতায় এসেছেন। উদ্বোধনী দিনে প্রতীকীভাবে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির সৌজন্যে প্রথম কিস্তির ৯ হাজার টাকার চেক শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

বৃত্তির অর্থ বিতরণ কার্যক্রম সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন বলেন, “চলতি সপ্তাহেই বৃত্তির অর্থ বিতরণের মূল পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ফ্যাকাল্টিভিত্তিক শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং তাদের ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। বৃত্তির অর্থ বিতরণের সার্বিক পদ্ধতি নিয়ে আগামীকাল বৃত্তি কমিটির একটি জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে, যেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিটি ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে আমাদের প্রশাসন অত্যন্ত আন্তরিক ও বদ্ধপরিকর। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটের কথা বিবেচনা করেই এই বিশেষ বৃত্তির অর্থ দ্রুত বিতরণের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। শুধু বৃত্তিই নয়, আমাদের মেগা প্রজেক্ট অর্থাৎ দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও নতুন আবাসিক হল নির্মাণকাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে আমি নিজেই খুব দ্রুত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যাবো। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমরা সবসময় কাজ করে যাব।

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে দুইদিন ব্যাপী ফল উৎসব

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে দুইদিন ব্যাপী ফল উৎসব
গুলশানে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির নিজস্ব ক্যাম্পাসে মৌসুমি ফল উৎসব। ছবি: খবরের কাগজ

দেশীয় ফলের ঐতিহ্য ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে শুরু হয়েছে দুইদিনব্যাপী ‘মৌসুমি ফল উৎসব’।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সকাল ১১টায় উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মান্নান চৌধুরী। উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে তিনি দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আগ্রহে এ ফল উৎসবের আয়োজন হয়ে থাকে। এছাড়া প্রতিবারই আমাদের নবান্ন উৎসব, বৈশাখের আয়োজন করে থাকি। সব সময়ের মতো এবারও শিক্ষার্থীরা অনেক আগ্রহের সঙ্গে উপভোগ করছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার মো. সাকির হোসাইন, ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম খান নাঈম, স্কুল অব বিজনেসের ডিন প্রফেসর আবুল কালাম, স্কুল অব ল’র ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম, স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড অ্যাডমিনের পরিচালক আফরোজা হেলেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. জাহেদুর রহমান, প্রক্টর মো. আনিছুর রহমান, স্ট্র্যাটেজিক অপারেশন্স অ্যান্ড স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর ও হেড মুশফিকুর রহমান ধ্রুব, এবং পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর ও হেড জাহিদ হাসানসহ বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির বলেন, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল উপস্থিতিদের মধ্যে দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন প্রজন্মকে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকুক এই প্রত্যাশা রাখছি।  

শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। আম, জাম, লিচু, কাউ, কাঁঠাল, লটকনসহ বিভিন্ন দেশীয় রসালো ফলের সমারোহ ও সুবাসে মুখরিত ছিল পুরো ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের ছাদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।  

সাগুফতা/এসএন

পদত্যাগ করলেন রাবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
পদত্যাগ করলেন রাবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম
রাবি অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম কনক। ছবি: সংগৃহীত

একাডেমিক কাজের ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম কনক।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে রেজিস্ট্রার দপ্তর বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, সম্প্রতি আমার একাডেমিক কাজ এবং গবেষণার কাজের ব্যস্ততা বেড়ে গিয়েছে। ছাত্র উপদেষ্টার মতো পদে থেকে যদি শিক্ষার্থীদেকেই সময় দিতে না পারি তাহলে এই পদে থাকার মানে হয় না।

তিনি আরও বলেন, গতকাল (বুধবার) এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে কিন্তু আমি কিছুই করতে পারিনি। সেই শিক্ষার্থী আমার সঙ্গে একবার কথাও বলেনি। সব মিলিয়ে আমার মনে হয় না এই পদে আমি আর থাকতে পারি।

পদত্যাগপত্রে তিনি বলেছেন, একাডেমিক এবং গবেষণামূল কাজের ব্যস্ততার কারণে বর্তমানে আমার পক্ষে ছাত্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা সম্ভবপর নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল ইসলাম মাসউদ বলেন, পদত্যাগপত্র আমি পেয়েছি। বিষয়টা উপাচার্য স্যারকে  মৌখিকভাবে জানিয়েছি। তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

উল্লেখ্য, তিনি ২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান।

শাকিবুল হাসান/নাঈম