সমালোচনার জেরে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। বিষয়টি নিজেই দেশের একাধিক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ক্যাম্পাসে ভাসমান দোকান স্থাপনকে ঘিরে জাতীয় ছাত্রশক্তির নূরুল গণি সগীরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেছেন সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এবার সর্বমিত্রের এমন অভিযোগে বিরুদ্ধে তাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন সগীর। আগামী ১০ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগ প্রমাণ ব্যর্থ হলে সর্বমিত্রকে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা দাবি জানিয়েছে নূরুল গণি সগীর। অন্যথায় সর্বমিত্রের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করবেন, বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ এ কথা জানান সগীর।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গত ২৪ জানুয়ারি ক্যাম্পাসের অবৈধ দোকান নিয়ে একটা ফেসবুক পোস্ট করার কারণে ডাকসুর সদস্য সর্বমিত্র চাকমাকে আমাকে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা করে। ইতোমধ্যে আমি পরদিন ২৫ জানুয়ারি এই বিষয়টা সংবাদ সম্মেলন করে তাকে তখন ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাইম দিই এবং বলেছিলাম অভিযোগের কোনো প্রমাণ দিতে পারলে, আমি স্বেচ্ছায় কান ধরে ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যাব। সেই সঙ্গে না পারলে তাকে আইনিভাবে মোকাবেলা করা হবে। এরই প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুস সাকিবের মাধ্যমে আমি আজকে তাকে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করছি।’
লিগ্যাল নোটিশে বরাতে নূরুল গণি সগীর বলেন, ‘সর্বমিত্র চাকমা আপনি ডাকসুতে সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন। আপনি এখতিয়ার বহির্ভূত বিভিন্ন ধরনের উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন; যা একান্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাজ। এমনকি সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় খোলার মাঠে শিশুদের খেলাকে ঘিরে তাদের সঙ্গে অযাচিতভাবে ও নেক্কারজনক আচরণ করছেন। ফলে এটি অনুমেয় যে, আপনি অভ্যাসগত অন্যায়কারী; এহেন আচরণ করে আপনি পৈশাচিক আনন্দ পান। অথচ আপনি খেয়ালই রাখতে চান না যে আপনার পৈশাচিক আনন্দ অন্যজনের যেমন পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক জীবনকে মিশিয়ে তুলছে, তেমনিভাবে আমার পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিকম এমনকি শিক্ষাজীবনেও তার যে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা সেটি প্রভাব ফেলেছে।’
ক্ষমা না চাইলে আইনি মোকাবিলা করা হবে এবং মানহানিকর মামলা করা হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আইনিভাবে আমি তাকে ১০ ঘণ্টা সময় দিচ্ছি। কারণ আমি কোথাও চাঁদাবাজি করেছি বা কারও থেকে আমি কোনো ধরনের লেনদেন করেছি, তার এই অভিযোগ প্রমাণ করার কোনো ধরনের সম্ভাবনা নাই। যদি ১০ ঘণ্টার মধ্যে সে ক্ষমা না চায় তাহলে মানহানির যেই মামলা আছে এবং আইনিভাবে এটাকে যেভাবে মোকাবিলা করা যায়, সেটি করব।’
এর আগে সর্বমিত্র তার ফেসবুকে নূরুল গণি সগীরের ছবি উল্লেখ করে দাবি করা হয়, ক্যাম্পাসে একটি দোকান বসানোকে ঘিরে ‘চাঁদার বিনিমিয়ে শেল্টার দিয়ে দোকান বসানো’ হয় এমন অভিযোগ তোলা হয়। এদিকে সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনার ভিডিও সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিতর্কের মুখে পড়েন সর্বমিত্র।
গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সমালোচনার জেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দেন সর্ব মিত্র। যদিও এখন পর্যন্ত তিনি কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি।
আজ বিকেলে দেশের একাধিক গণমাধ্যমকে পদত্যাগ করবেন না- জানিয়ে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা চাচ্ছেন না আমি পদত্যাগ করি। তারা এটা গণবিরোধী আখ্যায়িত করছেন। এভাবে পদত্যাগ করা তাদের সঙ্গে প্রতারণা। শিক্ষার্থীরা বলেছে, বিরোধীপক্ষের কথায় কান না দিয়ে কাজ করুন। তাই আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছি। আর পদত্যাগের বিষয়টি গঠনতন্ত্র সমর্থন করে না।’
এদিকে ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ১২(খ) ধারায় বলা হয়েছে, কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো সদস্য বা পদাধিকারী পদত্যাগ করলে, মৃত্যুবরণ করলে বা অপসারিত হলে তার অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতিতে শূন্যপদ পূরণ করা হবে।
অপরদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যদি কেউ নিজ ইচ্ছায় পদত্যাগ করতে চান তাহলে তার কোনো বাধা নেই।’
এর আগে গত নভেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগত ও ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদের সময় গভীর রাতে এক বৃদ্ধকে লাঠি হাতে শাসানোর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। সবশেষ কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বহিরাগত ২৫-৩০ জন কিশোরদের কানে ধরিয়ে উঠবস করানোর ঘটনায় ফের সমালোচনার মুখে পড়ে সর্বমিত্র। পরবর্তী ক্ষমা চেয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন সর্বমিত্র।
জাওয়াদ/মাহফুজ