ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
এমবাপ্পের সমালোচনা ‘অতিরিক্ত ও অন্যায়’ দেড় দশকের জ্বালানিনীতি ছিল আমদানিনির্ভর: তথ্যমন্ত্রী ইরানের অনুশীলন মাঠের পাশে মরদেহ উদ্ধার ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ ইমার্জিংদের ঝিলিকের মৃত্যুর রহস্যে নতুন মোড়, গ্রেপ্তার স্বামী রক্তদান মহৎ কিন্তু নিরাপদ রক্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ মার্তিনেজকে ঘিরে নতুন শঙ্কা শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন মাইকেল অলিভার ‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’ পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মিসরকে কেন জার্সি পরিবর্তন করতে বলল ফিফা? রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায় রাজধানীতে প্রান্তিক গ্রামের ফুটবল উন্মাদনা, আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল ম্যাচ একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে ‘রান ফর আর্থ’ আয়োজন সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ ‘তুই আসামি, চোখ নামিয়ে কথা বল’—ওসির বিরুদ্ধে নাঈম হাসানের অভিযোগ প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী
Nagad desktop

প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি দমনে সক্ষম দুই নারীর গল্প

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:২০ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি দমনে সক্ষম দুই নারীর গল্প

এইচআইভি বা এইডস প্রাণঘাতী রোগ হিসেবে পরিচিত। তবে কিছু ‘সুপার হিউম্যান’ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের সন্ধান চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই হিসাবকে নতুন করে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। তারা ওষুধ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে এই ভাইরাসক প্রতিরোধে সক্ষম হয়েছেন। বিজ্ঞানীরা এখন সেই ব্যতিক্রমী মানুষ নিয়ে গবেষণা করছেন। তাদের আশা, এই গবেষণা ভবিষ্যতে এইচআইভি নিরাময়ের কার্যকর পথ দেখাতে পারবে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই এক বিস্ময়কর নারীর গল্প। লোরিন উইলেনবার্গ নামের ৭১ বছর বয়সী ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা গত তিন দশক ধরে এইচআইভি গবেষকদের কাছে ছিলেন এক গভীর রহস্য। ১৯৯২ সালে লোরিনের শরীরে এইচআইভি পজিটিভ ধরা পড়ে। সাধারণত এই ভাইরাস মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়, কিন্তু লোরিনের ক্ষেত্রে ঘটেছিল অলৌকিক ঘটনা। কোনো ধরনের ওষুধ না খেয়েই তিনি আর দশজন সাধারণ মানুষের মতো সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন পার করেছেন।

২০২৫ সালের আগস্টে লোরিন উইলেনবার্গ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘ডাক্তাররা আমাকে সবসময় বলতেন, এইচআইভির বিরুদ্ধে আমার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই আলাদা। অনেক বছর ধরে তারা এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। তবে তারা জানতেন আমি সাধারণ নই।’

চলতি বছরের এপ্রিলে লোরিন মারা যান। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে বলা হয় ‘এলিট কন্ট্রোলার’। এটি এমন একদল এইচআইভি পজিটিভ মানুষকে বোঝায় যাদের শরীর কোনো ওষুধ ছাড়াই ভাইরাসকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। বিশ্বে মোট এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের মাত্র শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ এই গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই মানুষগুলোর ভেতরেই লুকিয়ে আছে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ রোগীকে বাঁচানোর মূল চাবিকাঠি।

উইলেনবার্গের ঘটনা আরও বিস্ময়কর হয়ে ওঠে ২০২২ সালে। সে সময় তার চতুর্থ ধাপের ক্যানসার ধরা পড়ে। ক্যানসার ফুসফুস থেকে মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে যায়। অস্ত্রোপচার ও শক্তিশালী ওষুধে তিনি ভালো সাড়া দেন। তবে এসব চিকিৎসায় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কথা। ফলে শরীরে লুকিয়ে থাকা এইচআইভি আবার সক্রিয় হওয়ার ঝুঁকি ছিল। কিন্তু গবেষকরা যখন তার শরীরের কোটি কোটি কোষ পরীক্ষা করেন, তখন তারা এইচআইভির কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাননি।

ম্যাস জেনারেল ব্রঘাম, এমআইটি এবং হার্ভার্ডের রাগন ইনস্টিটিউটের মেডিসিনের অধ্যাপক জু ইউ দীর্ঘদিন ধরে লোরিনের শরীর নিয়ে গবেষণা করছেন। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক এইডস সোসাইটির এক কনফারেন্সে তিনি বলেন, ‘লোরিন সম্ভবত পুরোপুরি এইচআইভি মুক্ত হয়ে গেছেন।’ তবে এই সুখবর বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে ২০২৬ সালের এপ্রিলে মারা যান উইলেনবার্গ। কিন্তু তার জীবন বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রেখে গেছে; তা হলো মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এইচআইভির মতো ভাইরাসকেও পরাজিত করতে পারে।

শুধু লোরিন একাই নন, আর্জেন্টিনার আরেক নারীও বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়েছেন। পরিচয় গোপন রাখা এই নারী ‘এসপেরানজা রোগী’ নামে পরিচিত। স্প্যানিশ ভাষায় এসপেরানজা অর্থ ‘আশা’। গবেষকদের ধারণা, তিনিও হয়তো লোরিনের মতো প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

এই ঘটনাগুলো বিজ্ঞানীদের নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪ কোটি ৮ লাখ মানুষ এইচআইভি নিয়ে বেঁচে আছেন। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই ‘এলিট কন্ট্রোলারদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার রহস্যভেদ করতে পারলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এইডসের স্থায়ী নিরাময় আবিষ্কার করা সম্ভব।’

সাধারণত এইচআইভি শরীরে ঢোকার পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এটি মানুষের কোষের ডিএনএর সঙ্গে নিজের জিনগত উপাদান যুক্ত করে বংশবিস্তার করে। ধীরে ধীরে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ শ্বেত রক্তকণিকাগুলোকে ধ্বংস করে। চিকিৎসা না করালে রোগী এইডসে আক্রান্ত হয় এবং সাধারণ কোনো সর্দি-কাশি বা ইনফেকশনেই মারা যেতে পারে। ১৯৯০-এর দশকে ‘অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল’ নামের ওষুধ আবিষ্কারের পর এই পরিস্থিতি কিছুটা বদলে যায়। এই ওষুধ ভাইরাসটির বংশবৃদ্ধি আটকে দেয়, যার ফলে আক্রান্তরা কিছুটা সুস্থ জীবন পান। 

তবে সমস্যা হলো, এই ওষুধ সাধারণত ভাইরাসকে পুরোপুরি নির্মূল করতে পারে না। এইচআইভি শরীরের বিভিন্ন অংশে লুকিয়ে থাকে। বিশেষ করে রক্ত, লিম্ফ নোড, মস্তিষ্ক ও অন্ত্রে এর গোপন ভান্ডার বা ‘রিজার্ভয়ার’ তৈরি হয়। সুযোগ পেলেই সেখান থেকে ভাইরাস আবার সক্রিয় হতে পারে। এখানেই লোরিন বা এসপেরানজার মতো এলিট কন্ট্রোলারদের শরীর আলাদা।

২০২০ সালে অধ্যাপক শু ইউ ও তার সহকর্মীরা ৬৪ জন এলিট কন্ট্রোলারকে নিয়ে গবেষণা করেন। তারা দেখতে পান, এসব মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসটিকে ডিএনএর এমন কিছু এলাকায় আটকে রাখে, যেগুলোকে ‘জিন ডেজার্ট’ বলা হয়। আমাদের সবার জিনোমে এমন কিছু এলাকা থাকে যার কোনো কাজ নেই, এগুলো নিষ্ক্রিয়। এলিট কন্ট্রোলারদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসকে তাড়িয়ে ঠিক ওই নিষ্ক্রিয় এলাকায় পাঠিয়ে দেয়। ফলে ভাইরাসটি সেখানে আটকা পড়ে যায় এবং বংশবৃদ্ধির জন্য শরীরের কোনো অংশ ব্যবহার করতে পারে না।

অধ্যাপক জু ইউ-এর ভাষায়, ভাইরাসগুলো শরীরে ঠিকই থাকে, কিন্তু সেগুলো এমন এক জায়গায় বন্দি থাকে যেখান থেকে আর কোনো ক্ষতি করার ক্ষমতা তাদের থাকে না।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, একই ঘটনা ‘পোস্ট-ট্রিটমেন্ট কন্ট্রোলার’ নামে পরিচিত আরেক গোষ্ঠীর মানুষের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। তারা শুরুতে দীর্ঘদিন অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধ নিলেও পরে চিকিৎসা বন্ধ করে দেন। এর পরও তাদের শরীরে ভাইরাস আর সক্রিয় হয়ে ওঠেনি। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শুধু সিডি৮+ টি-সেল নয়, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার আরেকটি অংশও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো হলো ‘ন্যাচারাল কিলার সেল’।

গবেষকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন ভ্যাকসিন তৈরি করা সম্ভব হবে, যা শরীরের বিভিন্ন টিস্যুতে ন্যাচারাল কিলার সেলকে সক্রিয় করবে। এতে লুকিয়ে থাকা ভাইরাসগুলোকে খুঁজে বের করে ধ্বংস করা সহজ হতে পারে।

গবেষণায় আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে। অধ্যাপক জু ইউ জানান, এলিট কন্ট্রোলারদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি। পুরুষদের চেয়ে নারীদের এলিট কন্ট্রোলার হওয়ার সম্ভাবনা দুই থেকে পাঁচ গুণ বেশি। অথচ ঐতিহাসিকভাবে এইডসের বেশির ভাগ পরীক্ষামূলক গবেষণা পুরুষদের ওপরই করা হয়েছে। নারীদের ওপর আরও বেশি গবেষণা হলে এই রোগ নিরাময়ের পথ আরও দ্রুত খুঁজে পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

মৃত্যুর মাত্র কয়েক মাস আগে লোরিন উইলেনবার্গ এক আবেগঘন কথা বলেছিলেন, ‘আমি এই মহামারির শেষ দেখে যাওয়ার জন্য আরও কিছুদিন বাঁচতে চাই। আমার অবদান যদি বিজ্ঞানকে একটুও এগিয়ে নিয়ে থাকে, তবে তা আমার জন্য অনেক বড় সম্মান।’

লোরিন হয়তো পৃথিবী থেকে এইডসের চিরতরে বিদায় দেখে যেতে পারেননি, কিন্তু বিজ্ঞানীদের জন্য তিনি যে আশার আলো জ্বেলে দিয়ে গেছেন তা কোটি কোটি মানুষকে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।সূত্র: বিবিসি

ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ
ধীরাজ শেঠ। ছবি: সংগৃহীত

ভারত সরকার বর্তমান ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেশটির পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) এ নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেনাবাহিনীর সহপ্রধান (ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) এ খবর জানিয়েছে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির সাবেক শিক্ষার্থী। ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে তিনি সাঁজোয়া বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন। প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনে তিনি অপারেশন, কৌশলগত পরিকল্পনা, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতি রয়েছে তার।

সামরিক জীবনে বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন ধীরজ শেঠ। তার কমান্ড দায়িত্বের মধ্যে ছিল মরু অঞ্চলে একটি সাঁজোয়া রেজিমেন্ট, পশ্চিমাঞ্চলে একটি সাঁজোয়া ব্রিগেড এবং জম্মু ও কাশ্মিরে একটি সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর নেতৃত্ব।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান স্ট্রাইক ফরমেশন সুদর্শন চক্র কোরের নেতৃত্ব দেন। পরে দিল্লি এরিয়ার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সামরিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব তদারকি করেন।

আর্মি কমান্ডার হিসেবে পদোন্নতির পর ধীরাজ শেঠ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ড এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের দায়িত্ব পালন করেন। এর মাধ্যমে দুইটি অপারেশনাল আর্মি কমান্ডের নেতৃত্ব দেওয়ার বিরল অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অঞ্চলে কৌশলগত তদারকির দায়িত্বও পালন করেন।

সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। বিভিন্ন কোর্সে শীর্ষস্থান অর্জনের পাশাপাশি তিনি হায়ার কমান্ড কোর্স ও ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের স্নাতক। এছাড়া প্যারিসের মর্যাদাপূর্ণ কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কোর্সেও অংশ নিয়েছিলেন ধীরাজ শেঠ।

এসএন/

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের তারিখ ঘোষণা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের তারিখ ঘোষণা
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন আগামী ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

শনিবার (১৩ জুন) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ তথ্য প্রকাশ করেন।

আলি খামেনি প্রায় ৩৭ বছর দেশ শাসন করেছেন এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় নিহত হন। 

জানা গেছে, তার জন্মস্থান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে। শুরুতে মার্চ মাসে দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও যুদ্ধের কারণে তা স্থগিত করা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে তিন দিনের জানাজা ও শোকানুষ্ঠান শুরু হবে এবং ৭ জুলাই পবিত্র শহর কোমে আরেকটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় শোকানুষ্ঠানের প্রথম দিন ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গেও মিলে যাচ্ছে, যা এ বছর ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করবে।

খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি মার্চের শুরুতে তার উত্তরসূরি হিসেবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিযুক্ত হন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি দেশটির তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা।

বাবাকে হত্যার যে হামলায় বহু কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন, সেই হামলায় আহত হয়েছিলেন মোজতবা খামেনিও। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি এবং তার নামে প্রকাশিত বিবৃতির মাধ্যমেই যোগাযোগ করছেন বলে জানা গেছে। সূত্র: এনডিটিবি

রিফাত/

২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা: পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা: পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তিচুক্তির কাঠামোতে (ফ্রেমওয়ার্ক) পৌঁছেছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে।

শনিবার (১৩ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেহবাজ শরিফ জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান মাসব্যাপী সংঘাতের অবসান ঘটাতে দুই দেশ একটি শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত খসড়ায় সম্মত হয়েছে। বর্তমানে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের পর আগামী সপ্তাহে উভয় পক্ষের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।’

পাকিস্তান এই পুরো প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিফাত/

যুদ্ধবিরতির মাঝেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা, নিহত ১

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
যুদ্ধবিরতির মাঝেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা, নিহত ১
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত ‘যুদ্ধবিরতি’ উপেক্ষা করে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের আরও ২০টি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা (এনএনএ) জানায়, দক্ষিণ লেবাননের টায়ার জেলার মায়রাকেহ পৌরসভা এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ওই ব্যক্তি নিহত হন।

শুক্রবার (১২ জুন) দিনভর এবং রাত পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী তথাকথিত হলুদ রেখার (যে অংশটি ইসরায়েল নিয়ন্ত্রণ ও দখল করতে চাইছে) উত্তরের শহর ও গ্রামগুলোতেও অনবরত বিমান হামলা চালায়।

শান্তি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা

এই হামলা এমন এক সময়ে চালানো হলো, যার ঠিক আগের দিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘোষণা করেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তির খসড়ায় সম্মত হয়েছে এবং মধ্যস্থতাকারীরা চূড়ান্ত চুক্তির জন্য কাজ করছেন।

ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, এই প্রাথমিক চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ অবসানের কথা বলা হয়েছে।

তবে চলমান আলোচনা ও চুক্তির মাঝে ইসরায়েলের এই আগ্রাসন নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই আলোচনায় ইসরায়েল কোনো পক্ষ নয়।

তাছাড়া, ইসরায়েলি নেতারা ইতোমধ্যেই সাফ জানিয়ে দেন, লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

অন্যদিকে, চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েল ও লেবাননের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও মাঠপর্যায়ে লড়াই থামেনি। আগামী ২২ জুন দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী দফায় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা

তামান্না রুপা/অমিয়/

আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:১৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত
সংগৃহীত

ভারতের আসামের জোরহাটের বিমানঘাঁটিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি এএন-৩২ পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট নয়।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে এএন-৩২ বিমানটি অবতরণের সময় বিমানঘাঁটির সীমানার ভেতরে বিধ্বস্ত হয়ে আগুন লাগে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে জরুরি পরিসেবা দলগুলোকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

ভারতীয় বিমানবাহিনী ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর আরও তথ্য জানানো হবে।

এএন-৩২ বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বিমানবাহিনী।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, জোরহাটে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমান দুর্ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত। আমরা আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছি।

আন্তোনভ এএন-৩২ একটি মজবুত, দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ সামরিক পরিবহন বিমান, যা ভারতীয় বিমানবাহিনীর অন্যতম প্রধান পরিবহন বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নে নির্মিত এ মডেলের প্রায় ১০০টি বিমান রয়েছে।

এএন-৩২ বিমানটি চরম প্রতিকূল পরিবেশে কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য নকশা করা হয়েছে। এটি বেশি উচ্চতার বিমানঘাঁটি ও উষ্ণ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ুতেও পরিচালনা করা যায়। বিমানটি ৭ দশমিক ৫ টন পর্যন্ত মালামাল, ৫০ জন যাত্রী অথবা ৪২ জন প্যারাট্রুপার পরিবহন করতে সক্ষম এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে রসদ সরবরাহের কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

আসামের কার্বি আংলং জেলায় একটি সুখোই এসইউ-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর দুই পাইলট নিহত হওয়ার কয়েক মাস পরই এই দুর্ঘটনা ঘটল। সূত্র: এনডিটিভি

আমান/অমিয়/