জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) প্রাঙ্গণে গৌরবের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাস্কর্যটি বর্তমানে অযত্ন ও অবহেলার ছাপ বহন করছে। দীর্ঘদিন ধরে পরিচর্যার অভাবে ভাস্কর্যটির গায়ে জমেছে পাখির বিষ্ঠা ও ধুলাবালির স্তর, যা এর নান্দনিক সৌন্দর্যকে ক্রমেই ম্লান করে দিচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শনে দেখা যায়, ভাস্কর্য চত্বরের আশপাশে কিছু মাত্রায় নজরদারি থাকলেও মূল ভাস্কর্যটির রক্ষণাবেক্ষণে সুস্পষ্ট ঘাটতি রয়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় ভাস্কর্যের শরীরে পাখির বিষ্ঠা জমে শক্ত প্রলেপের মতো হয়ে গেছে। পাশাপাশি ধুলাবালির আস্তরণ ভাস্কর্যটির স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য ও শৈল্পিক সৌন্দর্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ঐতিহাসিকভাবে ত্রিশালের সঙ্গে কবি নজরুলের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। ১৯১৩-১৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি এই এলাকায় কিছু সময় অবস্থান করেছিলেন, যেখানে তার শৈশব ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি জড়িয়ে আছে। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালের ১ মার্চ প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী ২৫টি বিভাগে শিক্ষা গ্রহণ করছেন।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ও নজরুল গবেষক ড. মো. সাহাবউদ্দিন বলেন, কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুর তিন দশক পর ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার নামাপাড়া গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। নজরুল তার বৈচিত্র্যময় জীবনের একটি বছর কাটিয়েছেন ত্রিশালের এই নামাপাড়ায়। সেই স্মৃতির প্রতীক হিসেবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রস্থলে স্থাপন করা হয়েছে কবি নজরুলের দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য। তবে ভাস্কর্যটিকে ঘিরে সচেতনতার ঘাটতি ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কিছুটা অভাব রয়েছে। জাতীয় কবির স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে এই ভাস্কর্যটি যাতে যথাযথ মর্যাদা, সুষ্ঠু সংরক্ষণ ও নিয়মিত পরিচর্যার আওতায় আসে, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধন কমিটির আহ্বায়ক এবং প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধন খাতে আলাদাভাবে কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। তবুও নির্দিষ্ট সময় পরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থান ও স্থাপনাসমূহ বিভিন্নভাবে সংস্কার এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। নজরুল ভাস্কর্যের বিষয়টি আমরা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
লেখক: জাককানইবি প্রতিনিধি