পাহাড় মানেই রহস্যময় হাতছানি। আর সেই পাহাড় যদি হয় সাকা হাফং (মদক তং), তবে তা রোমাঞ্চের সঙ্গে বিপদের ইঙ্গিতও দেয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,৪৫১ ফুট উচ্চতার এই চূড়াটি অনানুষ্ঠানিকভাবে দেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হিসেবে পরিচিত।
দুর্গম পথ, সীমান্তসংলগ্ন অবস্থান ও প্রশাসনিক বিধিনিষেধের কারণে এটি ট্রেকারদের কাছে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। গত ২৪ মার্চ ভোরে ৯ জন তরুণের একটি দল এই শৃঙ্গ জয় করেন, যার অন্যতম ছিলেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জামাল উদ্দিন।
শৈশব থেকেই দেশের সর্বোচ্চ চূড়ায় দাঁড়িয়ে পতাকা ওড়ানোর স্বপ্ন দেখতেন জামাল। ২৩ মার্চ সকালে তিন্দু থেকে নৌকায় রেমাক্রি পৌঁছে তারা দুঃসাহসী ‘ডু অর ডাই’ পরিকল্পনায় যাত্রা শুরু করেন। সাধারণত ২-৩ দিনে সম্পন্ন হওয়া এই ট্রেক তারা একদিনেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন।
রেমাক্রি থেকে শুরু হয় তাদের কঠিন পথচলা। নাফাখুম জলপ্রপাত পেরিয়ে টানা কয়েক ঘণ্টা হাঁটার পর তারা পৌঁছান জিন্নাপাড়া হয়ে নিকোলাসপাড়ায়। ক্লান্ত শরীর নিয়ে মাত্র দুই ঘণ্টা বিশ্রাম শেষে রাতেই শুরু হয় চূড়ান্ত সামিট পুশ। নিরাপত্তার কারণে টর্চলাইট ব্যবহার না করে অন্ধকারে প্রায় চার ঘণ্টা এগিয়ে যেতে হয় তাদের।
অবশেষে ২৪ মার্চ ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে তারা সাকা হাফং-এর চূড়ায় পৌঁছান। ভোরের আলোয় লাল-সবুজ পতাকা ওড়ানোর সেই মুহূর্ত তাদের সব কষ্টকে সার্থক করে তোলে। জামাল জানান, এই অভিযান ছিল অত্যন্ত কঠিন এবং যথেষ্ট প্রস্তুতি ছাড়া এটি সম্ভব নয়।
ফেরার পথ ছিল আরও কষ্টকর। টানা ট্রেকিংয়ে আহত পা নিয়ে দীর্ঘ ৮-৯ ঘণ্টা হেঁটে তারা আবার নিকোলাসপাড়ায় ফেরেন। পথে তারা দেখতে পান, অনেক দল প্রশাসনিক বাধায় আটকে গেছে— যা তাদের দ্রুত সিদ্ধান্তের সার্থকতা প্রমাণ করে।
মোট পাঁচ দিনে প্রায় ৪০ ঘণ্টার এই অভিযান শুধু একটি শৃঙ্গ জয় নয়; এটি ছিল সাহস, ধৈর্য ও অদম্য মানসিক শক্তির এক অনন্য উদাহরণ।