রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রথমবারের মতো সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ প্রদান করা হয়েছে। একাডেমিক ফলাফল ও প্রকাশনা-গবেষণায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অনুষদের ১০ জন শিক্ষার্থী ও ৩ জন শিক্ষককে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও চেক তুলে দেওয়া হয়।
মোট চারটি ক্যাটাগরিতে এবারের ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। ২০২৩ সালের স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় অনুষদভুক্ত ১০টি বিভাগে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকারী ১০ জন শিক্ষার্থী ‘সেরা শিক্ষার্থী’ ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার লাভ করেন।
‘সেরা শিক্ষার্থী’ ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড পাওয়া ১০ জন শিক্ষার্থী হলেন- গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী রিফাহ রাফিয়া বারী, অর্থনীতি বিভাগের মোছা. নাফিসা ইয়াসমিন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বর্ষা রানী মন্ডল, সমাজকর্ম বিভাগের অন্তরা, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সানজিদা ফারজানা, ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের রাজিয়া সুলতানা পারুল, লোকপ্রশাসন বিভাগের মমতাজ ফারজানা তিথি, নৃবিজ্ঞান বিভাগের মিস জান্নাতুল মাওয়া শিন, ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের তৃষা দাস এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফুল খান ফয়সাল।
অন্যদিকে, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আরমান হোসেন ‘সেরা প্রবন্ধ’ ক্যাটাগরিতে এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক মো. আওয়াল হোসেন মোল্যা এবং ড. প্রণব কুমার পান্ডে ‘সেরা গ্রন্থ’ ও ‘সেরা গবেষক’ ভিন্ন ক্যাটাগরিতে এই অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে অনুষদের সাবেক ডিনদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘এই পুরস্কার শিক্ষার্থীদের আগামীর পথ চলায় বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তবে অর্জিত জ্ঞান তখনই সার্থকতা পাবে, যখন তা সমাজের কল্যাণে বিলিয়ে দেওয়া হবে। জ্ঞান বিতরণে কখনো কৃপণতা করা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের জন্য আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। ২০২৫ সাল থেকে এই সম্মাননা চালু হওয়া একটি মাইলফলক। আমরা চেষ্টা করব ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে এই আয়োজন অব্যাহত রাখতে।’
সভাপতির বক্তব্যে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ‘১৯৮৫ সালে এই অনুষদ যাত্রা শুরু করলেও দীর্ঘ ৪০ বছর পর আমরা প্রথমবারের মতো ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রবর্তন করতে পেরেছি। ২০১৪ সালে উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান প্রশাসনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আজ তা সম্ভব হলো।’
তিনি আরও জানান, আগামী বছর থেকে অটোমেশন সিস্টেমে শিক্ষার্থীদের সরাসরি মতামতের ভিত্তিতে ‘সেরা শিক্ষক’ ক্যাটাগরিতেও পুরস্কার দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে ৪টি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করা রাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে বর্তমানে ১০টি বিভাগ রয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৪ সালে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করে এ বছর প্রথমবারের মতো এই সম্মাননা প্রদান করা হলো।
শাকিবুল হাসান/এসএন