জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদকে (জকসু) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাজনৈতিক ও দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রদল প্যানেলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, জকসুর পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক মো. রিয়াসাল রাকিব, পরিবহন সম্পাদক মো. মাহিদ হোসেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মো. তাকরিম মিয়া এবং নির্বাহী সদস্য মো. সাদমান আমিন সাদমান সাম্য।
ছাত্রদল প্যানেল থেকে নির্বাচিত নেতৃবৃন্দরা জানান, জকসুর মতো একটি প্ল্যাটফর্মকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ইশতেহার বাস্তবায়নে সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা যেন পেশাদার আচরণ করেন। অন্যথায় জকসু কখনোই শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে ন।
সংবাদ সম্মেলনে জকসুর পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক রিয়াসাল রাকিব বলেন, জকসুর আগে ছাত্রশিবির তার ব্যানারে পলিটিক্স করেছে, কিন্তু জকসুর পরে তারা শিবিরের ব্যানারে একটিও না করে জকসুকে ব্যবহার করছে। গত রাতেও জকসুর আয়োজনে প্রতিবাদ মিছিলে জকসুর জিএস ‘ছাত্রদলকে নামিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন, এমন বক্তব্য কীভাবে একজন জকসু নেতা দিতে পারেন? এটা তো শিবির সভাপতি হিসেবে তার বক্তব্য হওয়া উচিত ছিল। আমরা তাদেরকে আহ্বান জানাব সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানার রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করবেন না। আর আপনারা এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখলে আমরাও যথাযথ ব্যবস্থা নেব।
সংবাদ সম্মেলনে জকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাকরিম আহমেদ বলেন, আমরা মোট পাঁচজন যারা ছাত্রশিবিরের বাইরে থেকে নির্বাচিত হয়েছি; তারা আগে থেকেই একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদেরকে চাপিয়ে দেয়। আমরা যদি কোনো কিছুতে মতামত দিই, তবে আমাদের সংখ্যা কম হওয়ার কারণে তারা নিজেরা দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে তা জকসুতে বাস্তবায়ন করে। আমার তো মনে হয়, জকসুর কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে সভাপতি ভিসি স্যারকেও অবগত করা হয় না; তারও তো এখানে কোনো বক্তব্য থাকতে পারে।
তাকরিম মিয়া আরও বলেন, শিবির প্যানেল রাস্তায় দাঁড়িয়ে কারো সঙ্গে কথা বললেও সেটি নিয়ে জকসুর পেইজে পোস্ট হয়, কিন্তু আমি এত বড় প্রোগ্রাম করলাম, সেটি নিয়ে কোনো পোস্ট হয় না।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জকসু নির্বাচনে মোট ২১ টি পদের মধ্যে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ১৬টি, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল ৪টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ১টি পদে জয় লাভ করে। কিন্তু নির্বাচনের তিন মাস অতিবাহিত হলেও জকসুতে প্রায়শই শিবির ও ছাত্রদল থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়হীনতা সামনে আসে। জকসু এখন বিভক্ত ছাত্রদল ও শিবিরে। যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা আশাহত।
মুজাহিদ বিল্লাহ/নাঈম