ফ্যাক্টরির ভেতরে প্রতিদিন একই ছন্দে চলে কাজ। যন্ত্রের একটানা শব্দ, সময়ের তাড়া আর উৎপাদনের চাপ- সব মিলিয়ে জীবনটা যেন থামার সুযোগ পায় না। এই একঘেয়েমির ভেতরেই জমে ওঠে ক্লান্তি, জমে ওঠে অবসাদ। ঠিক তখনই দরকার পড়ে এমন একটি উপলক্ষ্যের, যেখানে কাজের মানুষগুলো নিজেদের ক্লান্তি আর অবসাদ ঝেড়ে ফেলে আবার নতুন উদ্যমে কাজে ফেরার অনুপ্রেরণা খুঁজে পান।
হপ লুনের বার্ষিক পিকনিক সেই দিনেরই নাম। এটি স্রেফ কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, নিছক বিনোদনের আয়োজনও নয়। এটি কর্মীদের প্রতি হপ লুনের যত্নের বহিঃপ্রকাশ, কর্মীদের মানসিক সুস্থতাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। একই সঙ্গে এটি সহকর্মীদের মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় করার এক মিলনমঞ্চ।
বছরের শুরুতেই এই পিকনিক আয়োজনের উদ্দেশ্য একটাই- নতুন বছর শুরু হোক সতেজ মন নিয়ে, উদ্ভাবনী ভাবনায় ও ইতিবাচক শক্তিতে। টানা কাজের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে আবার ফিরে যাওয়া কাজে, আরও মনোযোগী হয়ে, আরও বেশি প্রাণশক্তি নিয়ে।
এই আয়োজনের অন্যতম বিশেষত্ব হচ্ছে এর অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি। আটটি কারখানার ২০ হাজারের বেশি কর্মীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আলাদা আলাদা দিনে আয়োজন করা হয়েছে পিকনিক, যাতে শিফট বা লোকেশনের কারণে কেউ বাদ না পড়েন।
ঢাকা ইপিজেড ইউনিটের কর্মীদের জন্য ফ্যান্টাসি কিংডমে আয়োজন করা হয় পিকনিক। একই দিনে লিনটাস ইউনিটের কর্মীরা মিলিত হন গার্ডেন পার্কে। ফ্যাশন ইউনিটের কর্মীদের জন্য ভিন্ন আরেক দিন ফ্যান্টাসি কিংডমে আয়োজন করা হয় এই আনন্দের উপলক্ষের।
একই দিনে হপ লুন পিওয়াই গার্মেন্টসের কর্মীরা অংশ নেন ব্লু ওয়াটার পার্কে অনুষ্ঠিত পিকনিকে। আর সবশেষে ব্র্যান্ডস ও ইনটিমেট ইউনিটের কর্মীদের জন্য আবারো ফ্যান্টাসি কিংডমে আয়োজন করা হয় পিকনিক।
এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল পদমর্যাদার দেয়াল ভেঙে দেওয়া, যাতে কর্মকর্তা-সুপারভাইজার থেকে শুরু করে অপারেটর ও শ্রমিক- সবাই একসঙ্গে উদযাপন করতে পারেন এই বিশেষ দিনটি। সেই ভাবনার সফল বাস্তবায়নই দেখা গেছে পিকনিকের প্রতিটি ধাপে। বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা একসঙ্গে বিভিন্ন রাইডে চড়েছেন, একসঙ্গে হেসেছেন, গান গেয়েছেন, আড্ডা দিয়েছেন, একই টেবিলে বসে খেয়েছেন। এর ফলে কর্মীদের মধ্যে একে অপরের প্রতি আস্থা বেড়েছে। সম্পর্কের বন্ধন হয়েছে আরও দৃঢ়।
হপ লুনের কর্মীদের জন্য দিনটি ছিল দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্লান্তির ওপর পড়ে শান্তির ছোঁয়া। কাজের চাপ, সময়ের দুশ্চিন্তা, সংসারের ভাবনা- সবকিছু থেকে বাইরে বের হয়ে একে অপরের সান্নিধ্যে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার এক স্বস্তির দিন।
আয়োজন প্রসঙ্গে হপ লুন বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি হেড নিশান্তা মোহত্তিজ বলেন, “আমাদের কর্মীরাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের মানসিক সুস্থতা ও ভালো থাকা নিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার। এই পিকনিক সেই ভাবনারই অংশ। আমরা চাই, তারা নতুন বছর শুরু করুন নতুন উদ্যম নিয়ে।”
হপ লুনের সিনিয়র অপারেটর বিথী বলেন, “আমরা সাধারণত কাজের জায়গায় শুধু কাজটাই করি। কিন্তু আজ এখানে এসে মনে হচ্ছে, আমাদেরও আনন্দ করার অধিকার আছে। কোম্পানি আমাদের কথা ভাবে- এজন্য হপ লুনকে ধন্যবাদ।’’
এ ধরনের ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনের মধ্য দিয়ে হপ লুন দেখিয়েছে, কর্মীদের মানসিক প্রশান্তি কতটা জরুরি। কারণ, মানুষের মন ভালো থাকলে কাজে আসে গতি, আসে মনোযোগ, আসে দায়বদ্ধতা। আর একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে আরও দৃঢ় দলগত বন্ধন। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে মানবিক চর্চার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত এ উদ্যোগ।
বিজ্ঞপ্তি/