দরিদ্র পরিবারের সন্তান লিটন সরকার। তিনি পড়ালেখা করে প্রতিষ্ঠিত হবেন, এ আশা ছিল তার পরিবারের। তার লেখাপড়ার খরচ জোগাতে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেয় পরিবারটি। ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার বানাতে সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করেন তার বাবা-চাচারা। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পাস করেন।
এদিকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধে মা-বাবা ও চাচারা দিন-রাত মাঠেঘাটে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। পিএসসির প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে লিটন সরকার সম্প্রতি গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ নিয়ে হতাশ হয় তার পরিবার।
লিটন সরকার বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের নির্মল সরকারের ছেলে।
লিটনের মা লীলা সরকার বলেন, ‘সহায়-সম্বল বিক্রি ও ধারদেনা করে লিটনকে পড়াশোনা করিয়েছি। ওরে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। আশা ছিল, লেখাপড়া শেষে ভালো চাকরি করে পরিবারের অভাব ঘোচাবে। কিন্তু এখন কী যে হচ্ছে, বুঝতে পারছি না।’
লিটনের বাবা নির্মল সরকার বলেন, ‘লিটনকে ঢাকায় পড়ানোর জন্য প্রায় আট লাখ টাকার জমি বিক্রি করেছি। ওর মায়ের সোনার অলংকার বিক্রি করেছি। দুটি ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছি। মেয়ের জামাইয়ের কাছ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা ধার করেছি। গ্রামের বিভিন্নজনের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়েছি। সেই ঋণের কিস্তি দিতে তিন ভাই মিলে মিস্ত্রির কাজ করছি। কেন সে অপরাধে জড়াবে? বুঝতে পারছি না।’
লিটনের মেজো চাচি শিল্পী সরকার বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লিটনকে গ্রেপ্তার করায় আমাদের স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেছে। লিটন এমন জঘন্য কাজের সঙ্গে জড়াতে পারে, এ আমাদের বিশ্বাস হয় না।’
লিটনের মামা সুনীল সরকার বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করতে পারছি না যে লিটন এটা করবে। সে হয়তো কোনো ফাঁদে পড়েছে।’
তিনি আরও জানান, লিটন দুই মাস আগে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার রাখালতলা এলাকার সুস্মিতাকে বিয়ে করেছে। সে লিটনের সহপাঠী ছিল। বর্তমানে সুস্মিতা একটি ব্যাংকে চাকরি নিয়েছে। হয়তো কারও প্ররোচনায় পড়ে লিটন এ কাজে জড়িয়েছে।
লিটনের প্রতিবেশী মায়া সরকার বলেন, ‘তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। লিটনের মা আমাদের কাছে সাহায্য চাইলে আমরা তা দিই। লিটনের জন্য তার মা অনেক কষ্ট করেছেন। তারা অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। লিটনের লেখাপড়ার খরচ চালাতে আমি সব সময় সহযোগিতা করতাম।’
আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নাপুর ইউপির ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য বিধান রায় বলেন, ‘আমরা লিটনকে ভালো ছেলে হিসেবে চিনি। শুনেছি, সে একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে। বিসিএস প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় লিটন জড়িত এ খবর আমরা বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনের খবর থেকে জেনেছি।’