শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে বগুড়া সদর থানাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগে যারা ইন্ধন জুগিয়েছেন, তার মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মী ছাড়াও পৌরসভার চার কাউন্সিলরও রয়েছেন। তারা হলেন, বগুড়া পৌরসভার কাউন্সিলর এরশাদুল বারী, মো. এনামুল হক সুমন, মো. সিফার আল বখতিয়ার ও শ্রী পরিমল চন্দ্র দাস।
এ ছাড়া নাশকতায় জড়িত থাকার পাশাপাশি নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে জেলার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ৬ শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনা, সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল, বিএনপির জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর শহর শাখার আমির আবেদুর রহমান, জামায়াতের সহযোগী সংগঠন শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম ও জামায়াতের সাবেক নেতা মাজেদুর রহমান জুয়েল।
পুলিশ জানিয়েছে, বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানোসহ পুলিশের ওপর হামলা ও নাশকতায় ব্যবহার করা হয়েছে পেট্রলবোমা, ককটেল ও লাঠিসোঁটাসহ সাত ধরনের বস্তু। শহরের সেউজগাড়ী এলাকায় গুলিতে নিহত সিয়াম শুভসহ বিভিন্ন এলাকায় নাশকতার অভিযোগে ১২টি মামলায় ইতোমধ্যেই বিএনপি-জামায়াত এবং এই দুই রাজনৈতিক দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অন্তত ২৫৩ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
এর মধ্যে বগুড়া সদর ভূমি অফিস ও জেলা আওয়ামী লীগ অফিসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে ৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে ৩ শতাধিক ব্যক্তির নামে। গত ১৯ জুলাই কিশোর সিয়াম শুভ হত্যার ঘটনায় ভিপি সাইফুল ইসলাম, কাউন্সিলর জামায়াত নেতা এরশাদুল বারীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মো. জাকির হোসেন। সদর থানা এলাকায় হামলায় নেপথ্যে থেকে নেতৃত্ব দেন বগুড়া পৌরসভার কাউন্সিলর শ্রী পরিমণ চন্দ্র দাস। এ ছাড়া শহরের লতিফপুর কলোনি এলাকায় নাশকতার নেপথ্যে ছিলেন মো. এনামুল হক সুমন। আর ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড় এলাকায় দুর্বৃত্তরা নাশকতা চালায় কাউন্সিলর সেফার আল বখতিয়ারের নেতৃত্বে।
তবে বড়গোলা এলাকায় সিটি ব্যাংকের বুথ ও জনতা ব্যাংক করপোরেট শাখা ভবনের গ্লাস ভাংচুরের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ জানায়, জেলা স্কুল ও বগুড়া পোস্ট অফিসসহ অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি ভবনে হামলার অভিযোগে কেউ মামলা দিলে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।