কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচিতে এক পুলিশ কনস্টেবলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ নিয়ে কুমিল্লায় দুইজন নিহত হলেন। নিহত পুলিশ সদস্যের নাম এরশাদ।
রবিবার (৪ আগস্ট) দুপুরে আন্দোলনকারীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন বলে জানায় হাইওয়ে কুমিল্লা রিজিওনের পুলিশ সুপার মো. খাইরুল আলম।
কনস্টেবল এরশাদ ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন।
এর আগে দুপুরে জেলার দেবিদ্বারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মীদের সংঘর্ষে গুলিবদ্ধ হয়ে রুবেল নামে একজন নিহত হন।
জানা গেছে, অসহযোগ আন্দোলনের সময় রবিবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে দাউদকান্দি। বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় তারা স্থানীয় রিলায়েবল সিএনজি অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ফিলিং স্টেশনের পাশে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্রাইভেটকারে আগুন দেন।
তারা ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও আওয়ামী লীগ নেতারা তাদের উদ্ধার করেন। এরপর বিকেলে খবর আসে ফাঁড়ির কনস্টেবল এরশাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে ইলিয়টগঞ্জে গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রোমেল বড়ুয়ার প্রাইভেটকার পুড়িয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।
একই জায়গায় দাউদকান্দি মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা শফিউল্লাহ প্রধানের গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে খাদে ফেলে দেওয়া হয়।
কাছাকাছি সময়ে শহিদ নগরের দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হকের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
এ ছাড়া ইলিয়টগঞ্জে পুলিশের একটি রেকারে আগুন দেওয়া হয়।
দুপুরের দিকে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।
পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ও হামলা থেকে রক্ষা পেতে গুলি ছুড়ে পুলিশ।
এদিকে দাউদকান্দি সদর সুন্দলপুর ইউনিয়ন পরিষদেও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
হামলায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আসলাম মিয়াজী আহত হন।
এ ছাড়া দাউদকান্দির শহিদ নগরে ট্রমা সেন্টার লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়েন আন্দোলনকারীরা।
জহির শান্ত/পপি/অমিয়/