বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে চোখ হারাতে বসেছেন সিরাজগঞ্জের আমিনুর রহমান টুটুল ও জুবায়ের হাসান জিহাদ। অর্থসংকটে তারা সঠিক চিকিৎসা করাতে পারছেন না। এ আন্দোলনে নেতৃত্বে দেওয়া সমন্বয়ক, সরকার ও সবার কাছে চিকিৎসার সহযোগিতা চাচ্ছেন তারা।
আমিনুর রহমান টুটুল জেলার তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী। জুবায়ের হাসান জিহাদের বাড়ি কামারখন্দ উপজেলার হায়দাপুর গ্রামে। সে সরকারি হাজি কোরপ আলী মেমোরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী ও এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।
গত ১৬ জুলাই সিরাজগঞ্জ ইসলামিয়া কলেজ মাঠে আন্দোলনে আমিনুর রহমান টুটুলের বাম চোখে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটের গুলি লাগে। একই দিনে শহরের রেলগেট এলাকায় পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট জুবায়ের হাসান জিহাদের চোখে লাগে।
আমিনুর রহমান টুটুল বলেন, ‘ইসলামিয়া কলেজ মাঠে আন্দোলনে গেলে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট আমার পিঠে ও চোখে লাগে। সহপাঠীরা আমাকে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে বন্ধুদের সহযোগিতায় ১৮ জুলাই ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি হই। এখন একটু সুস্থ আছি। তবে আমার বাম চোখের অবস্থা ভালো না। ঝাপসা দেখতে পাচ্ছি। ডাক্তার বলছেন, অপরেশন করতে হবে। দেশে অপারেশন করতে অনেক টাকা লাগবে। অপারেশনের পরেও চোখ ভালো হওয়ার গ্যারান্টি দেননি। এ জন্য ভারতে গিয়ে অপারেশন করতে হবে। সেখানে চিকিৎসা করাতে অনেক টাকা প্রয়োজন। আমার বাবার আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। এ মুহূর্তে চরম অর্থসংকটে ভুগছি। চোখের আলো ফেরাতে উন্নত চিকিৎসা পেতে সরকারের কাছে সহযোগিতার দাবি জানাই।’
টুটুলের মা আনেছা খাতুন বলেন, ‘আমার সন্তান বাম চোখ দিয়ে দেখতে পারছে না। ৬ দিন হাসপাতালে থাকলেও টাকার অভাবে চিকিৎসা শেষ না করে বাড়িতে চলে এসেছি। আমাদের কোনো জমিজমা নেই যে বিক্রি করে সন্তানের চিকিৎসা করাব।’
জুবায়ের হাসান জিহাদ বলেন, ‘মিছিল নিয়ে ইসলামিয়া কলেজ মাঠ থেকে বের হয়ে রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ছোড়ে। একপর্যায়ে একটা রাবার বুলেট আমার বাম চোখে লাগে। বন্ধুরা হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থা ভালো না দেখে চিকিৎসকরা ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। অপারেশনের পর থেকে বাম চোখে দেখতে পাই না। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তাররা আমাকে বলেছেন, এখনো তিনটা অপারেশন করাতে হবে। এ জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা দরকার।’
জিহাদের মা হাসি বেগম বলেন, ‘জিহাদের বয়স যখন ৫ মাস, তখন ওর বাবা মারা যান। আমার তিন মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলেকে নিয়ে কত আশা ছিল। কিন্তু তা আর হলো না। পুলিশের গুলিতে চোখ হারাতে বসেছে জিহাদ। ছেলের চোখের চিকিৎসা করার মতো সামর্থ্য আমার নেই।’