গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে কোনো রকম বাচ্চাকে নিয়ে উঁচু স্থানে উঠে এসে প্রাণ রক্ষা করেন গীতা রানি নামের এক গৃহিণী। কিন্তু বন্যার জলে ভেসে গেছে ঘর, চাল-ডাল, থালাবাসনসহ আর সব।
গীতা বলেন, ‘আমি দ্রুত আমার বাচ্চাকে নিয়ে কোনো রকমে পাড়ে উঠে আসি। ঘর থেকে কিছুই নিয়ে আসতে পারিনি। যা ছিল পানিতে সব ভেসে গেছে।’
গীতা আরও জানান, আকস্মিক বন্যায় তার মতো আরও অনেকেই শূন্য হাতে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন। বিশেষ করে, যাদের ঘরে শিশু কিংবা বৃদ্ধ মানুষ ছিলেন, তারা কেউই ঘরের কোনো মালামাল নিয়ে আসতে পারেননি।
গীতা রানি কুমিল্লার গোমতী নদীর বেড়িবাঁধের পাড়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এ বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়েছে কয়েক শ পরিবার। গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যায়। এরপর থেকে বেড়িবাঁধে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না এসব পরিবারের। অনেকে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি নিয়ে এসেছেন।
শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সকালে বুড়িচং উপজেলার বুড়বুড়িয়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে এমন চিত্র।
দেখা গেছে, বুড়বুড়িয়া ও আশপাশের গ্রামের অন্তত ৫০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে নদীর পাড়ে। পাশের বিভিন্ন স্থানে বেঁধে রাখা হয়েছে শতাধিক গরু ও ছাগল। তার কাছেই কোনোরকম ছাউনি টানিয়ে বসবাস করছে একেকটি পরিবার। নদীর পাড়ের বুড়বুড়িয়া থেকে ভান্তি পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এসব মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
শামসু মিয়া নামের একজন বলেন, ‘গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ এদিক দিয়ে ভাঙবে আমরা চিন্তাও করতে পারিনি। নদীর অন্য স্থানগুলোতে ফাটল ছিল। কিন্তু রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ শুনি আমাদের এদিক দিয়ে ভাঙন ধরছে। তাড়াহুড়া করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নদীর পাড়ের ওপর উঠে আসছি।’
এদিকে গোমতীর ভাঙনের পর তীব্র স্রোত ও পানিতে তলিয়ে গেছে এসব এলাকার ঘরবাড়ি। প্লাবিত হয়ে গেছে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম। সময় যত যাচ্ছে প্লাবিত গ্রামের সংখ্যা বাড়ছে। সেই সঙ্গে ভেঙে গেছে অনেক স্থাপনা। অনেকেই আটকা পড়েছেন বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনায়।
উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তা করছেন স্বেচ্ছাসেবী জাবের হোসেন। তিনি বলেন, ‘গ্রামগুলোতে আটকে পড়া মানুষদের আমরা উদ্ধার করছি। এখনো অন্তত ৩০ শতাংশ মানুষ আটকা পড়ে আছে। তাদের বেশির ভাগই নারী ও বৃদ্ধ। তাদের উদ্ধার করতে নৌকা ও স্পিডবোট দরকার। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। জেলা প্রশাসনের সহায়তা প্রয়োজন।’
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পংকজ বড়ুয়া বলেন, দুর্গত এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষদের জন্য শুকনা খাবার ও স্যালাইনসহ জরুরি ওষুধ মজুত আছে।