ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
অভিমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন বিএনপির অনেক নেতা জিতলেই নকআউটে জার্মানি গতির রাজা জর্ডান মরোক্কোর রেকর্ড ভেঙে দ্রুততম গোল প্যারাগুয়ের ব্রাজিল ম্যাচের চেয়েও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো খেলেছে মরক্কো: ওয়াহবি হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন ব্রাজিলের রাফিনহা ৯ বছরেও খোলেনি রোহিঙ্গাদের ফেরার পথ বিশ্বকাপ ফুটবলের ডামাডোলে সাগরিকায় ক্রিকেটের উন্মাদনা শ্রীমঙ্গলে হারমোনি ফেস্টিভ্যালের বর্ণিল উদ্বোধন ইসমাইল সাইবারিকে ছাড়িয়ে এবার ৬৪ সেকেন্ডে দ্রুততম গোল গ্যালারজারের দূষণের শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার অবস্থান কত? ব্রেকে হাওয়া না থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর পাড়ে ঝুলে পড়ল যাত্রীবাহী বাস আর্জেন্টিনা ম্যাচের রেফারিং নিয়ে ফিফায় আলজেরিয়ার অভিযোগ সিরিজ বাঁচাতে পারল না বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া জয়ী ৭ রানে নাটোরে ওড়না পেঁচিয়ে যুগলের আত্মহত্যা প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান ফেসবুকে কান্না করা সেই নয়ন পেলেন ছাত্রদলে পদ নামফলকে নিজের নাম থাকলে উদ্বোধন করব না: এমপি মমিনুল ঈশ্বরদীতে রুশ নাগরিকের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ: উচ্ছ্বাসে ভরা প্রবেশিকা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা হাইতিকে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে ব্রাজিল কুমিল্লায় চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতাকে হত্যাচেষ্টা যুবদল কর্মীর পাকিস্তান সম্মান ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে: শেহবাজ শরিফ ২০ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে সর্বশেষ হ্যাটট্রিক করেছেন যিনি ২০ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল গফরগাঁওয়ে মাদরাসা থেকে ফেরার পথে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ বাংলাদেশের আজ দ্বিতীয় লক্ষ্য পূরণের ম্যাচ প্রতিপক্ষ পাকিস্তান ধানমন্ডিতে শিশু গৃহপরিচারিকার রহস্যজনক মৃত্যু

বানভাসির আহাজারি ‘নদী হামাক শ্যাষ করি দিছে’

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৪, ১০:১৬ এএম
‘নদী হামাক শ্যাষ করি দিছে’
কুড়িগ্রামের উলিপুরের একমাত্র বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। কিছু ধ্বংসাবশেষ এখনো পাড়ে পড়ে আছে। বন্যা হলে মানুষের যাওয়ার জায়গাটাও থাকল না। সম্প্রতি তোলা ছবি। খবরের কাগজ

‘যাবার কোনো জায়গা নাই হামার। স্কুলত উঠছি। যেমন করি ভাঙগে, দুই দিনত স্কুলত ভাঙি যাইবে। হামাক শ্যাষ করি দিছে নদী। বাচ্চাদের নিয়ে কী খামো। কোডাই থাকমো উপায় নাই।’ এভাবেই নিজেদের আকুতি জানাচ্ছিলেন নুরনবী-মরিয়ম দম্পতি। সম্প্রতি ধরলা নদীর ভাঙনে বাড়ি হারিয়ে খুদিরকুটি আব্দুল হামিদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আশ্রয় নিয়েছেন।

ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নে ধরলা নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে একের পর এক সরকারি স্থাপনা বিলীন হচ্ছে। ভিটেমাটি হারাচ্ছেন নুরনবী-মরিয়ম দম্পত্তির মতো শত শত মানুষ। এরই মধ্যে খুদিরকুটি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বহুতল এই বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রটি বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের একমাত্র আশ্রয়কেন্দ্র ছিল। ধসে গেছে আক্কেল মামুদ কমিউনিটি ক্লিনিকটিও। বেগমগঞ্জ কমিউনিটি ক্লিনিকটি যেকোনো মুহূর্তে ধরলায় পতিত হতে পারে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েক দিনে এলাকাটির শতাধিক বাড়ি ধরলায় ভেঙে পড়লেও ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।

ইউনিয়নের খুদিরকুটি, ব্যাপারীপাড়া, বালাডোবা, মোল্লারহাট গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা ছিল কমিউনিটি ক্লিনিকটি। খুদিরকুটি গ্রামের রেশমা বেগম বলেন, ‘বাড়ি নাই। ক্লিনিকত গেইল (গেছে)। সোগ (সব) যাবার নাগছে। এলা (এখন) জ্বর হলে এলাকার মানুষ ওষুধ পাবার নোয়ায় (পাবে না)। বাড়িত পানি উঠলে যাওয়ার জাগা থাকিল (থাকল) না।’

আক্কেল মামুদ কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) ইমরান হাসান বলেন, ‘৫ থেকে ৬টা চরের মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল ছিল এই কমিউনিটি ক্লিনিকটি। প্রায় ১০ হাজার মানুষ এখানে সেবা পেত। ক্লিনিকটি ভেঙে পড়ায় চরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের লোকেরা আবার স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ল।’ কমিউনিটি ক্লিনিক প্রসঙ্গে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন মঞ্জুর এ মুর্শেদ বলেন, ‘ভাঙনের খবর পেয়ে পাউবো ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয়ব্যবস্থা নেওয়ার আগে ক্লিনিকটি ভেঙে পড়েছে।’ 

শুধু এবারই নয়, ধরলা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করলে বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া, মণ্ডলপাড়া, খুদিরকুটি, কালিগঞ্জ এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। এ বছর ভাঙনে তিনটি মসজিদ বিলীন হয়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকেই খুদিরকুটি আব্দুল হামিদ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করেন। সেই স্কুলটিও যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। 

বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এবারে ধরলা নদী যেভাবে ভাঙছে, গত কয়েক বছরে এমনটা দেখা যায়নি। শতাধিক বসতবাড়ি ভেঙে গেছে।

 অনেকেই ঘর সরানোর সুযোগ পাননি। এখানকার মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল, আক্কেল মামুদ কমিউনিটি ক্লিনিকটাও গেল। বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র বিলীন হলো। বন্যা হলে মানুষের যাওয়ার জায়গাটাও থাকল না। এই ইউনিয়নে আরও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক আছে। সেটাও যেকোনো মুহূর্তে নদীতে ভেঙে পড়তে পারে। ইউনিয়নের মধ্যে একটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সেটাও ভাঙনের মুখে পড়েছে। এ ভাঙন ঠোকানো না গেলে কমপক্ষে দুই কিলোমিটার জায়গা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। এতে পাঁচ শতাধিক পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারাবে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। ভাঙনরোধে কয়েক দিন ধরে পাউবো জিও ব্যাগ ফেলছে। তবে আগে থেকেই যদি পাউবো ভাঙনরোধে কাজ করত তবে আশ্রয়কেন্দ্র ও ক্লিনিকটি রক্ষা করা যেত।’ 

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘প্রথম কয়েক দিন ভাঙন তীব্র থাকায় কাজ শুরু করার সুযোগ হয়নি। তবে বেগমগঞ্জ কমিউনিটি ক্লিনিক ও আব্দুল হামিদ উচ্চবিদ্যালয়টি রক্ষায় প্রাথমিকভাবে নদীতে ২ হাজার ৫০০ বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ শুরু হয়েছে।’

ব্রেকে হাওয়া না থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর পাড়ে ঝুলে পড়ল যাত্রীবাহী বাস

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
ব্রেকে হাওয়া না থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর পাড়ে ঝুলে পড়ল যাত্রীবাহী বাস
নদীর তীরের দিকে ঝুলে আছে সেলফি পরিবহন । ছবি খবরের কাগজ

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে একটি যাত্রীবাহী বাস। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটির সামনের অংশ নদীর তীরের দিকে ঝুলে পড়লেও শেষ পর্যন্ত নদীতে পড়েনি।

শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে পাটুরিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেলফি পরিবহনের একটি বাস ঘাট এলাকায় সিরিয়ালের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল। ট্রিপের সিরিয়াল আসার পর বাসটি ঘাট এলাকা থেকে স্ট্যান্ডের দিকে নেওয়ার জন্য চালু করা হয়। এ সময় ব্রেকে পর্যাপ্ত হাওয়া না থাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে বাসটির দুটি চাকা রাস্তার বাইরে চলে যায় এবং বাসটি নদীর পাড়ের কিনারে বিপজ্জনক অবস্থায় আটকে পড়ে।

তবে বাসটিতে কোনো যাত্রী ছিল না। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চালক দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে আসেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিআইডব্লিউটিসির র্যাকার দিয়ে বাসটিকে উদ্ধার করে সড়কে তোলা হয়।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অঞ্চলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আব্দুস সালাম বলেন, ‘তারা বাসটিকে বাস বা ট্রাক স্ট্যান্ডে না রেখে আমাদের ঘাট এলাকায় রাখে। বারবার নিষেধ করার পরও কথা শোনে না। আজ যদি বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটত, তাহলে মানুষ জানত ফেরিঘাট থেকে আবারও বাস নদীতে পড়ে গেছে। আসলে তারা আমাদের ৩ নম্বর ঘাটের হাই ওয়াটার লেভেল এলাকায় অবৈধভাবে পার্কিং করে রেখেছিল।’

মানিকগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) মো. রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমরাও বাস ও ট্রাক চালকদের নির্ধারিত স্ট্যান্ডে গাড়ি রাখার জন্য বলে থাকি। কিন্তু তারা বিভিন্ন স্থানে নিজেদের সুবিধামতো পার্কিং করে। পাটুরিয়া এলাকায় আমাদের মাত্র দুইজন সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। ফলে সব বিষয় সার্বক্ষণিক তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে আমরা কঠোর নির্দেশনা দেব। নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আসাদ জামান/আজহার/

নাটোরে ওড়না পেঁচিয়ে যুগলের আত্মহত্যা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
নাটোরে ওড়না পেঁচিয়ে যুগলের আত্মহত্যা
ছবি: প্রতীকী

নাটোর সদর উপজেলার কাফুরিয়া ইউনিয়নের ঢালান এলাকায় দীর্ঘদিন প্রেমের পরও বিরহ নেমে আসে এক প্রেমিক-প্রেমিকার জীবনে। দুজনার রাস্তা হয় দুদিকে। কিন্তু প্রেমের পূর্ণতা পেতে মরিয়া ছিলেন তারা। অবশেষে বিয়ে করলেও জীবনাবসান হলো মাত্র দুই মাসেই। নিজ ঘরে এক ওড়নায় আত্মহত্যা করলেন ওই দম্পতি।
 
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে সদর থানা পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।

মৃতরা হলেন রাহাত (২৩) ও তানিয়া (২০)। 

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান এবং কাফুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃতদের প্রতিবেশী আনোয়ার আলী জানান, শিক্ষাজীবনে তানিয়া-রাহাতের পরিচয় থেকে প্রেম। সাত-আট বছর প্রেম চললেও উভয়ের পরিবার মেনে না নেওয়ায় দুইজনেরই পৃথক সংসার হয়। এক পর্যায়ে রাহাত ঢাকায় চাকরি শুরু করেন। কিন্তু কিছুদিন পর উভয়ের আবারও যোগাযোগ হয়। এরপর প্রেমের পূর্ণতা দিতে প্রথম সংসার ত্যাগ করে উভয়ে গত প্রায় দুই মাস আগে বিয়ে করেন।

রাহাতের স্বজনদের দাবি, শুক্রবার জুম্মা নামাজ পড়ে নিজ ঘরে যান রাহাত। বিকেল হলেও দরজা না খোলায় ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে দরজা ভাঙার পর তাদের গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উভয়ে এক ওড়নায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান জানান, নিজেরা দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করেন ওই যুগল। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে নিজেদের ইমোশনেই এমন সিদ্ধান্ত নেন তারা। পরিবারের আবেদন পেয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের হস্তান্তর করা হয়েছে।

কামাল মৃধা/খাদিজা রুমি/

ঈশ্বরদীতে রুশ নাগরিকের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
ঈশ্বরদীতে রুশ নাগরিকের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ
ছবি: সংগৃহীত

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পে কর্মরত এক রাশিয়ান নাগরিক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। 

শুক্রবার (১৯ জুন) জুম্মা নামাজের পর শহরের পিয়ারপুর কোর্টপাড়া জামে মসজিদের ইমামের পড়ানো কালেমা পড়ে সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এ সময় মসজিদে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। 

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার আগে রাশিয়ান এই নাগরিকের নাম ছিল সেরগি। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর তার নাম রাখা হয়েছে মো. আব্দুল্লাহ। 

মো. আব্দুল্লাহ রূপপুর প্রকল্পের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমে কর্মরত। 

পিয়ারপুর কোর্টপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মো. এনামুল হক খবরের কাগজকে বলেন, রাশিয়ান নাগরিক স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে ও স্বপ্রণোদিত হয়ে কালেমা পাঠ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তিনি নিজের সুস্থ ও দীর্ঘজীবন কামনা করেন। 

জাহাঙ্গীর হোসেন/থিওটোনিয়াস

গফরগাঁওয়ে মাদরাসা থেকে ফেরার পথে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:০১ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
গফরগাঁওয়ে মাদরাসা থেকে ফেরার পথে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মাদরাসা থেকে ফেরার পথে ১১ বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তের নাম আল আমিন (৩৭)।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় একটি মাদরাসার ৫ম শ্রেণিতে পড়ে। 

ভুক্তভোগীর পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মেয়েটি বাড়ি থেকে প্রতিদিন সকালে মাদরাসায় যায় এবং পড়া শেষে বাড়িতে চলে আসে।

গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটায় মেয়েটি পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় আল আমিনের মনোহারী দোকানে ১০০ টাকা ভাংতি নেওয়ার জন্য যায়। পরবর্তীতে আল আমিন মেয়েকে মজা বিস্কুট দেওয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে পরিত্যক্ত এবতেদায়ি টিনসেড মাদরাসার ভিতর নিয়ে মুখ চেপে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন।

আরও জানা গেছে, এই ঘটনা কাওকে না বলার জন্য শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছাড়ার হুমকি দিয়ে শিশুটিকে আল আমিন নিজের কাছে আসতে বলে এবং বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে মেয়েটিকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে ডাকে।

গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর দেড়টায় মেয়েটি মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে আল আমিন পুনরায় মেয়েটিকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে টানাহেঁচড়া করলে মেয়েটি চিৎকার দিয়ে দৌড়ে বাড়িতে এসে তার মাকে বিস্তারিত জানায়।

ভুক্তভোগী শিশুটির মা বলেন, 'আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। শিশু মেয়েটির সঙ্গে এমন করবে ভাবতেও পারিনি। মানুষরূপী এই জানোয়ারের ফাঁসি দাবি করছি।'

মেয়েটির ভাই বলেন, 'একজন মানুষ কোনো শিশুর সঙ্গে এমন জঘন্য আচরণ করতে পারে না। আমার বোনটি সবসময় কান্নাকাটি করছে। এই নরপশুর উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।'

অভিযোগের পর পরই বাড়ি থেকে পালিয়েছে অভিযুক্ত আল আমিন। তার মোবাইল বন্ধ রয়েছে। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, 'এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করা হবে এবং অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হবে।'

কামরুজ্জামান মিন্টু/তামান্না রুপা/

জাতীয় চা দিবস আজ ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত চা-শ্রমিকরা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত চা-শ্রমিকরা
চা শ্রমিক। ছবি: সংগৃহীত

আজ শনিবার, দেশে ‘চা-শিল্পের উন্নতি, সবুজ হোক অর্থনীতি’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় চা দিবস উদযাপিত হচ্ছে। তবে দেশের চা-শিল্প অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও চা-বাগানের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান এখনো উদ্বেগজনক। দৈনিক মজুরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও শ্রম অধিকারের ক্ষেত্রে নানা বঞ্চনার শিকার চা-শ্রমিকরা। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়েও শ্রমিকদের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। 

জানা গেছে, চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি অতীতে ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন চুক্তি ও বার্ষিক বৃদ্ধির ফলে কিছু বাগানে মজুরি কিছুটা বেড়েছে। তবে শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে এই আয় দিয়ে পরিবারের খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা অত্যন্ত কঠিন।

শিক্ষার ক্ষেত্রেও চা-শ্রমিক পরিবারের সন্তানরা পিছিয়ে রয়েছে। অনেক বাগানে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পর্যাপ্ত শিক্ষা সুবিধার অভাব রয়েছে। ফলে দারিদ্র্য ও শিক্ষাবঞ্চনার চক্র থেকে বেরিয়ে আসা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতাও প্রকট। অনেক বাগানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, ওষুধ ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয় না। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সুবিধা এখনো অপর্যাপ্ত।

চট্টগ্রাম চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও কর্ণফুলী চা-বাগানের শ্রমিক বাবু চিত্ত রঞ্জন মন্টু বলেন, ‘শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা সব ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয় না। আমাদের মজুরি পুনর্নির্ধারণ, ভাতা বৃদ্ধি, পেনশন সুবিধা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অনেক বাগানে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ঠিকমতো দেওয়া হয় না। চা-শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি।’

চট্টগ্রামের নেপচুন চা-বাগারের দেশসেরা শ্রমিক জেসমিন আক্তার খবরের কাগজকে বলেন, ‘কম মজুরি দিয়ে সংসার চলে না। স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সুবিধার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা ও আবাসনের অভাব এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের ঘাটতি রয়েছে। শ্রমিকদের সংগঠিত হয়ে দাবি আদায়ে নানা বাধা, নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বৈষম্য ও অতিরিক্ত ঝুঁকিতে কাজ করতে হচ্ছে। বিভিন্ন বাগানে শ্রমিকরা চা তুলতে না পারলে হাজিরাও দেওয়া হয় না। রোদ-বৃষ্টি মাড়িয়ে কাজ করতে হয় বাগানে।’ 

কর্ণফুলী চা-বাগানের শ্রমিক রিকু ত্রিপুরা জানান, শুধু মজুরি বৃদ্ধি নয়; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, বিশুদ্ধ পানি ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করলেই তাদের জীবনমানের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। 

রাঙ্গাপানি চা-বাগানের শ্রমিক মাধবী ত্রিপুরা বলেন, ‘আমাদের বাগানের অফিসের পাশে একটি মাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বাগানের ভেতর থেকে আমাদের শিশুরা এই স্কুলে আসতে পারে না। বাগানের মালিকরা চান, শ্রমিকের ছেলেমেয়েরাও শ্রমিক হোক। আমরা চাই, আমাদের সন্তানরা লেখাপড়া করে মানুষ হোক।’

ইস্পাহানি গ্রুপের নেপচুন চা-বাগানের ব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) মো. রিয়াজ উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘দেশের অন্যতম প্রাচীন এই শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তবে পরিস্থিতি সব জায়গায় এক নয়। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, মানবাধিকার সংস্থা ও সরকারের উদ্যোগে নানা সময়ে মজুরি বৃদ্ধি ও কল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারপরও বহু চা-শ্রমিক এখনো জীবনযাত্রার ব্যয় ও শ্রমের তুলনায় পর্যাপ্ত সুবিধা পান না।’

বাংলাদেশ টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘চা-বাগানের শ্রমিকরা অধিকার থেকে বঞ্চিত সেটি সঠিক নয়। তারা দৈনিক মজুরি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, রেশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও শ্রম অধিকার অনুযায়ী বেতন-ভাতাদি পেয়ে থাকেন। বাগানের মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে সম্পাদিত শ্রমচুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর শ্রমিকদের মজুরি ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ চা বোর্ডের পক্ষ থেকে বাগান মালিকদের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যেন সময়মতো বৃদ্ধি করা হয়, সে জন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করার কাজ চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, চা-শ্রমিকরা দৈনিক মজুরির পাশাপাশি টাস্ক অনুযায়ী অতিরিক্ত কাজ সম্পাদন করলে চুক্তি অনুসারে অতিরিক্ত টাকা পেয়ে থাকেন। পাশাপাশি সাপ্তাহিক রেশন এবং যারা রেশন গ্রহণ করেন না তারা চাষাবাদের জন্য ধানি জমি পেয়ে থাকেন।

এদিকে প্রতিবছর ২১ মে জাতীয় চা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত থাকলেও চলতি বছর ঈদুল আজহার কারণে মূল আনুষ্ঠানিকতা পিছিয়ে দিবসটির উদযাপন ২০ জুন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২০ জুন জাতীয় চা দিবস পালন করা হচ্ছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি থাকবেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এ ছাড়া চা-শিল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন ও চা-শ্রমিক প্রতিনিধিরা আলোচনা সভায় অংশ নেবেন।

বেলা ১১টায় বাণিজ্যমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হবে। উদ্বোধনী পর্বের পর চা-শিল্পবিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভা শেষে দেশের চা-শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আটটি ক্যাটাগরিতে ‘জাতীয় চা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি চলতি বছর প্রথমবারের মতো শ্রেষ্ঠ বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরিতে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হবে।

প্রধান অতিথি বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও সনদ তুলে দেবেন। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ চা বোর্ড ও দেশের শীর্ষস্থানীয় চা-প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণে একটি চা-প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে মোট ১৭২টি চা বাগান রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের সমতল ভূমিতেও চা চাষের সম্প্রসারণ ঘটেছে। দেশের চা-শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে চায়ের রাজধানীখ্যাত শ্রীমঙ্গলে এবার ষষ্ঠবারের মতো জাতীয় চা দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।