দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমীতে গতকাল শুক্রবার সিলেট নগরীর নয়াবাজার কুশিঘাট মণিপুরীপাড়ার পূজা মণ্ডপে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল দুপুড়ে এ পূজার আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় বিধি মোতাবেক এবার এই মণ্ডপে ৭ কন্যাশিশু এই কুমারী পূজায় অংশ নেয়। একই সময় লালাদীঘিরপাড় মণিপুরীপাড়া মণ্ডপে ৫ কন্যাশিশু এই কুমারী পূজায় অংশ নেয়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুর্গাপূজা করলেও সব পূজা মণ্ডপে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয় না। দেশের বিভিন্ন জেলায় রামকৃষ্ণ মিশনের আয়োজনে মহাঅষ্টমীতে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সিলেটে রামকৃষ্ণ মিশনের আয়োজনে কুমারী পূজা না হলেও মণিপুরীদের মণ্ডপে কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়।
সিলেট নগরীতে ১৫৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে মণিপুরী সম্প্রদায়ের ৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই ৫টির মধ্যে নয়াবাজার কুশিঘাট মণিপুরীপাড়া ও লালাদীঘিরপাড় মণিপুরীপাড়া মণ্ডপে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৪ থেকে ১০ বছরের এক বা একাধিক কন্যাশিশু এই কুমারী পূজায় অংশগ্রহণ করে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মণিপুরী সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী কুমারী পূজা দেখতে ভিড় করছেন। বিধি অনুযায়ী কুমারী পূজা শেষে দর্শনার্থীরা ছোট্ট দুর্গারূপী কুমারীদের ভক্তি করে তাদের কাছ থেকে আশীর্বাদ নেন।
মণিপুরীপাড়া মণ্ডপে কুমারী পূজা দেখতে আসা কিশোরী সুপ্রভা সিনহা বলেন, ‘দুর্গাপূজায় কুমারী পূজা সবচেয়ে আকর্ষণীয়। আমি নিজেও ২০১৮ সালে কুমারী হয়েছিলাম। এবার আমার খালাতো বোন কুমারী হয়েছে। তাই আমি অনেক উচ্ছ্বাসিত।’
নয়াবাজার কুশিঘাট মণিপুরীপাড়া মণ্ডপে দেবী দুর্গার কুমারী রূপে মিথিলা দেবী মৃদুলা, নেহা শর্মা, পূজা দেবী, প্রত্যুষা সিনহা, মৌনতা, তাহেণবী তাথৈ ও সায়ন্তি দাস সিনহাকে পূজা দেওয়া হয়। লালাদীঘিরপাড় মণিপুরীপাড়া মণ্ডপে শ্রেয়া সিনহা, শ্রেষ্ঠা সিনহা, প্রাপ্তি, দিপ্তামনি ও অদৃকা শর্মা দেবী দুর্গার কুমারী রূপে পূজা দেওয়া হয়।
নীলাকাশ সংঘ সর্বজনীন দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি মিন্টু সিংহ বলেন, ‘স্বামী বিবেকানন্দ কুমারী পূজা প্রচলন করেন। নারীকে দেবী জ্ঞানে সেবা করা, নারীদের শ্রদ্ধা করা, যেন তাদের শ্রদ্ধার আসনে রাখা হয়, সে জন্য কুমারী নারীর পূজা করা হয়। এবার ১২তম বারের মতো আমরা কুমারী পূজা করছি। সকাল থেকেই পূজার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে কুমারী পূজা দেখার জন্য আমাদের মণ্ডপে দর্শনার্থীরা এসেছেন।’