ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন না বেরোবিতে রিডিং রুমের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে হলে টিভি স্থাপন, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ সংবাদ উপস্থাপক থেকে জনপ্রতিনিধি: শামীমা তন্বীর অসাধারণ অভিযাত্রা ন্যাশনাল ব্যাংকে চাকরির সুযোগ স্বীকৃত কূটনৈতিক পথে সমাধান খুঁজতে হবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে ৩০ শতাংশ ডিভিডেন্ড অনুমোদন নারী থাকুক নিরাপদে... মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের জনসভায় চিরচেনা বিলবোর্ড-ব্যানারের অনুপস্থিতি স্বপ্নে জীবিত দেখার দাবি! ১৮ দিন পর তরুণীর কবর খনন নওগাঁয় রেল লাইনের পাশ থেকে কলেজশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা মেসির হ্যাটট্রি গোলে আর্জেন্টিনার জয়, হিলিতে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ‘আমরা সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি’, মোদিকে জর্জিয়া মেলোনি সিলেটে একদিনে হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু নাটোরে বলাৎকার মামলায় ২ জন কারাগারে ডলার স্থিতিশীল, বেড়েছে ইউরো ও পাউন্ডের দাম চাঁদপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস রাসুল (সা.)-এর চুল সাদা হলেও যেমন দেখাত ১৯৭৮ সালে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট বাবা, ৪৮ বছর পর একই মাঠে প্রধানমন্ত্রী ছেলে লক্ষ্মীপুরে স্কুলছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় ভাঙচুর সিলেটে বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানালেন চা শ্রমিকরা ‘সমর্থকরা আর্জেন্টিনার এই দলকে নিয়ে পাগল’, ইতিহাস গড়ার পর মেসি সিলেট পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ইরানি কৌশলেই উপসাগর থেকে গোপনে তেল সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে ইতিহাস বদলানোর হুঙ্কার টমাস টুখেলের ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার খরচ করলেও ১১৪ বছরে শেষ হবে না মাস্কের সম্পদ প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত মৌলভীবাজারবাসী রংপুরে আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান ভুট্টু গ্রেপ্তার আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাস
Nagad desktop

আনিসুলের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেই দিতেন মামলা

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৪, ০১:৫২ পিএম
আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৪, ০৯:৫৭ পিএম
আনিসুলের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেই দিতেন মামলা
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

সাবেক আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভায় টানা তৃতীয়বারের মতো জায়গা করে নিয়েছিলেন অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি পরপর তিন মেয়াদে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে করেছেন অনেক অপকর্ম। নিজ সংসদীয় এলাকায় অনেক কিছু করার প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত তা ফাঁকা বুলিতে পরিণত হয়েছে। মসজিদে দাঁড়িয়ে বলা কথাও রাখতে পারেননি। তাকে নিয়ে কেউ সমালোচনা করলে তার বিরুদ্ধে দেওয়া হতো ডিজিটাল আইনসহ বিভিন্ন মামলা।

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মালিকানাধীন সিটিজেন্‌স ব্যাংক পিএলসির একটি শাখা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর চালু হয়। এরপর থেকে আনিসুল হকের সংসদীয় আসন কসবা ও আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বড় ব্যবসায়ীদের ওপর নেমে আসে অ্যাকাউন্ট খোলা কিংবা এফডিআর, ডিপিএস করার চাপ। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে চাপ দিয়ে অন্য ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির টাকা সিটিজেন্‌স ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে নিয়ে যাওয়া হতো। আখাউড়ার বাসিন্দা ওই ব্যাংকের এক কর্মকর্তা রাজনীতিবিদদের এ কাজে সহায়তা করতেন। কার কার বেশি টাকা আছে এসব তথ্য ওই কর্মকর্তা রাজনীতিবিদদের দিতেন। এরপর রাজনীতিবিদরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের চাপ দিতেন।

আবার কেউ কেউ আনিসুল হককে খুশি করতে তার ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন, এফডিআর কিংবা ডিপিএস করেছেন। আখাউড়ায় এক ডজনের মতো সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থাকলেও ওই পৌরসভার টাকার একটি বড় অংশ রাখা হতো কসবার সিটিজেন্‌স ব্যাংকের শাখায়। কেননা, ওই সময় পৌর মেয়র ছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. তাকজিল খলিফা কাজল। আখাউড়াতে তাকজিল খলিফাই মূলত প্রভাব খাটিয়ে সিটিজেন্‌স ব্যাংকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টাকা রাখতে বাধ্য করাতেন। কসবাতে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থান দৃঢ় করতে কাজ করতেন সাবেক আইনমন্ত্রীর আরেক ঘনিষ্ঠজন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. রাশেদুল কায়সার ভূঁইয়া জীবন।

তবে গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। চাপ দিয়ে যাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল তাদের অনেকেই টাকা উঠাতে শুরু করেন। অনেকে আবার ব্যাংক কী অবস্থায় পড়ে- সেই ভয় থেকেও টাকা উঠিয়ে ফেলেন। চাপ দিয়ে টাকা আনার কাজে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা এক ব্যাংক কর্মকর্তা ইতোমধ্যেই ওই শাখা থেকে বদলি হয়ে ঢাকায় চলে গেছেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর সিটিজেন্‌স ব্যাংক পিএলসি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পায় ও এটিকে তফসিলি ব্যাংক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন আনিসুল হকের মা বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহানারা হক। তিনি মারা যাওয়ার পর মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন তৌফিকা আফতাবকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান বানানো হয়। ২০২২ সালের জুলাইয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই কসবার নয়নপুর বাজার শাখার উদ্বোধন হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা জানান, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের টাকা তার এখানে এফডিআর করা ছিল। মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন তাকজিল খলিফা প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টদের চাপ দিয়ে ওই টাকা সিটিজেন্‌স ব্যাংকে নিয়ে যান। আখাউড়া পৌরসভার একটি সূত্র জানায়, তৎকালীন মেয়র একক সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অঙ্কের টাকা সিটিজেন্‌স ব্যাংকে নিয়ে রেখে দেন। তখন এ বিষয়ে কেউ কিছু বলারও সাহস পাননি। তবে শিগগিরই ওই টাকা সেখান থেকে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বর্তমানে একাধিক মামলায় কারাগারে আছেন। তার ঘনিষ্ঠজন সিটিজেন্‌স ব্যাংকের চেয়ারম্যান তৌফিকা আফতাবও বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তিনি সন্তানদের সঙ্গে কানাডায় অবস্থান করছেন বলে আলোচনা আছে। তৌফিকা আফতাব দেশ থেকে হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এ বিষয়ে তদন্ত করছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

মসজিদে দাঁড়িয়ে বলা কথাও রাখতে পারেননি, আওড়াতেন ফাঁকা বুলি

‘আমি যা বলি তা করি’ নিজ নির্বাচিত এলাকায় আয়োজিত বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নিয়মিতই এ কথাটা বলতেন সাবেক আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের এ সংসদ সদস্য প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর কথা ও কাজের মিল রেখে তার নির্বাচনি এলাকা কসবা ও আখাউড়া উপজেলার মানুষের মন জয় করে নেন। নির্বাচনে জেতার পর সারা দেশে যখন মন্ত্রী-এমপিরা দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে স্বর্ণ কিংবা রুপার নৌকাসহ এটা-সেটা নেওয়া শুরু করেন, তখন গণসংবর্ধনায় উপস্থিতদের মধ্যে পাঁচ হাজার গাছের চারা বিতরণ করে প্রশংসা কুড়ান আনিসুল হক। সাধারণ মানুষের ফোন তিনি ধরেন- এ প্রশংসাও ছিল মুখে মুখে।

তবে দিন যত যায় এমন পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে থাকে। তার কথা ‘ফাঁকা বুলি’ হিসেবে প্রমাণিত হতে থাকে। চাটুকারবেষ্টিত থাকা সাবেক এ মন্ত্রী মিল রাখতে পারেননি কথা ও কাজের। তিনি নিজে কিছু বললেও চাটুকারদের স্বার্থ উদ্ধার না হলে তারা ওই কাজটি করতে দিতেন না। নিয়মিত ফোন ধরার বিষয়টি থেকেও তিনি সরে আসেন । সবচেয়ে খারাপ বিষয় হয়ে দাঁড়ায় চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে টাকা না নেওয়ার যে কথা বলতেন, সেটি শেষ পর্যন্ত ধোপে টেকেনি। মন্ত্রী সরাসরি টাকা না নিলেও তার একাধিক ঘনিষ্ঠজন চাকরি দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অথচ একটা সময় ছিল যখন মন্ত্রী হাতে থাকা ইন্টারভিউ কার্ড দেখে কে গরিব সেটি খোঁজ করতেন। পরবর্তী সময়ে সেই প্রক্রিয়া তিনি ধরে রাখতে পারেননি।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আখাউড়ায় একটি মিনি স্টেডিয়াম করার ঘোষণা দিয়েছিলেন আনিসুল হক। একাধিক সভা-সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন। কোথায় করবেন সে বিষয়ে একটি প্রাথমিক সিদ্ধান্তের কথাও জানান। কিন্তু এ প্রতিশ্রুতি দীর্ঘ পাঁচ-সাত বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। এ বছরের নির্বাচনে আগে তিনি এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আখাউড়া উপজেলার আজমপুর রেলওয়ে স্টেশনে দুটি আন্তনগর ট্রেন যাত্রাবিরতির প্রতিশ্রুতি দেন। এমনও বলেন যে, ‘নির্বাচিত হয়ে আমি যেদিন আসব এর আগে থেকেই এখানে ট্রেন থামবে। অর্থাৎ আমি যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করেই আসব।’ ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি এলাকায় একাধিকবার এলেও ট্রেনের যাত্রাবিরতির বিষয়টি ফাঁকা বুলি হিসেবেই রয়ে যায়।

বছরখানেক আগে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার পথে রাস্তার বেহাল দেখে বেশ চটেন আনিসুল হক। এ সময় তিনি হাসপাতালটি দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্যত্র স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে কাগজে-কলমে এ কাজ বেশি দূর এগোয়নি। তবে আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠজন তাকজিল খলিফা চাচ্ছিলেন তার মালিকানাধীন জায়গা যেখানে আছে, সেখানে যেন হাসপাতালটি হয়। দলীয় রাজনীতিতেও বেশ অপরিপক্বতার পরিচয় দেন আনিসুল হক। কথায় কথায় কসবা ও আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগকে মডেল হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিলেও সেটা তিনি করতে পারেননি। নিজেই বনে যান কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। ঘনিষ্ঠজন ও এপিএস অ্যাডভোকেট রাশেদুল কায়সার জীবনকে বানান সাধারণ সম্পাদক।

আখাউড়ায় প্রবীণ সব রাজনীতিবিদকে তিনি ‘মাইনাস’ করে রাখেন। সাধারণ সম্পাদক করেন আরেক ঘনিষ্ঠজন পৌর মেয়র মো. তাকজিল খলিফা কাজলকে। আর পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদদের বাদ দিয়ে তাকজিল খলিফার পছন্দের লোক মোহাম্মদ আলী ভূঁইয়াকে সভাপতি করেন। যে কারণে আখাউড়া আওয়ামী লীগের পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে আসে তাকজিল খলিফা কাজলের হাতে। কয়েক মাসের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কয়েক বছরেও আখাউড়া আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেননি আনিসুল হক। মূলত, তাকজিল খলিফা তার নিয়ন্ত্রণকে হাতছাড়া না করতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে দিতেন না। তাকজিল খলিফা একই সঙ্গে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়কের পদ ধরে রাখেন। প্রায় ১০ বছর ধরে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করার কথা বললেও আনিসুল হক সেটা করতে পারেননি।

চলতি বছরে কসবা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের সময় মসজিদে দাঁড়িয়ে বলা প্রতিশ্রুতিও রাখতে পারেননি আনিসুল হক। চেয়ারম্যান পদে আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই মো. সাইদুর রহমান স্বপন ও সাবেক এপিএস রাশেদুল কায়সার ভূঁইয়া জীবন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মন্ত্রী ভোটকে সামনে রেখে গত ১৭ মে স্থানীয় মডেল মসজিদে দেওয়া বক্তব্যে দুজনকে আপনজন উল্লেখ করে নিজেকে নিরপেক্ষ দাবি করে সুষ্ঠু ভোটের আশ্বাস দেন। তবে সেখানে সুষ্ঠু ভোট না হওয়ার বিষয়টি ছিল ওপেন সিক্রেট। নির্বাচনের পর চেয়ারম্যান প্রার্থী রাশেদুল কায়সার ভোট কারচুপির অভিযোগ আনেন আনিসুল হক ও তার ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে।

আনিসুল হকের গ্রেপ্তারের খবরে ওই সময়ে কসবা ও আখাউড়ায় একাধিক আনন্দ মিছিল-সভা বের করে বিএনপি। এসব কর্মসূচি থেকে অভিযোগ করা হয়, আনিসুল হক মুখে রাজনৈতিক সহাবস্থানের কথা বললেও কসবা ও আখাউড়ায় বিএনপিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেননি। তিনি অনেককে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। চাকরি দেওয়ার নাম করে তার লোকজন কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এলাকার রাস্তাঘাট দেখলেই বোঝা যায় তিনি উন্নয়নের নামে ফাঁকা বুলি আউড়ে গেছেন। 

মন্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনা করলেই হতো ডিজিটাল আইনসহ বিভিন্ন মামলা

শুধু বিএনপি নেতা-কর্মীই নন, সাবেক আইনমন্ত্রীর খড়্গ থেকে রক্ষা পাননি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও। এমনকি আওয়ামী লীগদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ আলমের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়। এসব মামলার বেশির ভাগই আইনমন্ত্রী কিংবা তার ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখালেখির কারণে করা হয়।

নেতা-কর্মীরা জানান, মন্ত্রী কিংবা তার কোনো ঘনিষ্ঠজনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখা ছাড়াও সভা-সমাবেশে মন্তব্য করে হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়েছেন। দলীয় নেতা-কর্মীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে কসবা ও আখাউড়া থানায় ডিজিটাল আইনে অন্তত ২০টির মতো মামলা ও জিডি হয়। এসব মামলায় অনেককেই জেল খাটতে হয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রীর নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খোলার অভিযোগেও ঢাকাতে জিডি হয়। 

সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের মার্চ মাসেই সাতটি মামলা করা হয় কসবা থানায়। রাশেদুল কায়সার ভূঁইয়া জীবনসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার অভিযাগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় এসব মামলা করা হয়। মামলায় আওয়ামী লীগদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য মো. শাহআলম, এমপি প্রার্থী শ্যামল রায়, সৈয়দ মো. মহসীন, তসলিমুর রেজাসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। 

২০২০ সালের জুন মাসে ‘হক কথা তিতা লাগে’ নামে একটি ফেসবুক আইডিতে তৎকালীন আইনমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় মামলা হয়। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইব্রাহিম মিয়ার করা মামলায় উপজেলার কায়েমপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে মাঈন উদ্দিন সরকারকে আসামি করা হয়।

আনিসুল হকের বিরুদ্ধে বলায় ২০২০ সালের ২ জুলাই আখাউড়াতে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি (তৎকালীন ডাকসুর ভিপি) নুরুল হক নূরের বিরুদ্ধে মিছিল হয়। মিছিল শেষে নূরের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। এ সময় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তার বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের জনসভায় চিরচেনা বিলবোর্ড-ব্যানারের অনুপস্থিতি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের জনসভায় চিরচেনা বিলবোর্ড-ব্যানারের অনুপস্থিতি
ছবি: মামুন হোসেন

মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনসভাকে ঘিরে শহরে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র -নেই বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন কিংবা বিশাল তোরণের প্রচলিত সাজসজ্জা।

বুধবার (১৭ জুন) সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা জনসভাস্থলের দিকে আসছেন। আগের জনসভাগুলোর মতো এবারও মাঠমুখী মানুষের ঢল থাকলেও শহরের চেহারায় নেই সেই চিরচেনা উৎসবের দৃশ্য।

স্থানীয়রা জানান, বিগত সময়ে বড় রাজনৈতিক জনসভা মানেই ছিল শহরের প্রধান সড়ক, মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার-ফেস্টুনের বন্যা। দলীয় নেতাদের ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড আর রঙিন তোরণে সয়লাব হয়ে যেত পুরো শহর। কিন্তু এবার সেই চিত্র একেবারেই অনুপস্থিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পরিবর্তনের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। দলীয় ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি, পরিবেশ সচেতনতা কিংবা খরচ কমানোর প্রবণতা। সবকিছু মিলিয়ে দলগুলো এখন প্রচারণার ধরনে পরিবর্তন আনছে।

স্থানীয়রা বলছেন, এর আগে মৌলভীবাজারে বিভিন্ন সভা সমাবেশগুলো ঘিরে প্রচার-প্রচারণার নেতা-কর্মীদের ব্যানার-পোস্টারের আধিক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে এবার ব্যতিক্রমী এই চিত্রে শহর যেন অনেকটাই নিরব। কেবল জনসমাগমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে আয়োজনের দৃশ্যমানতা।

অটোরিকশাচালক মনির হোসেন, রাস্তা-ঘাট আগে বিলবোর্ড, বড় বড় গেইট ও ব্যানারে ভরে যেত, চলাচলে সমস্যা হতো। এবার সেই ঝামেলা নেই, এটা আমাদের জন্য ভালো।

আগে বড় নেতা আসলে শহরজুড়ে ব্যানার-ফেস্টুনে ভরে যেত। এখন তেমন কিছু চোখে পড়ছে না। বলছিলেন চা দোকানি শফিক মিয়া।

ব্যবসায়ী বাসিত মিয়া বলেন, ব্যানার-ফেস্টুন হলে শহরে একটা উৎসবের আমেজ থাকত। এবার সেই অনুভূতিটা একটু কম লাগছে।

স্কুলশিক্ষক সায়মা আক্তার বলেন, আমি মনে করি, এটা একটা ভালো দিক। শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকছে। অপ্রয়োজনীয় ব্যানার-ফেস্টুন না থাকলে পরিবেশও ভালো থাকে।

এদিকে সাধারণ মানুষ বলছেন, শহরের সৌন্দর্য রক্ষার দিক থেকেও এটি ইতিবাচক উদ্যোগ হতে পারে। তবে রাজনৈতিক উৎসবের ঐতিহ্যগত রঙিন আবহ না থাকায় অনেকের কাছেই বিষয়টি কিছুটা অচেনা লাগছে। সব মিলিয়ে, জনসভা ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ থাকলেও প্রচারণার দৃশ্যমান রূপে এসেছে স্পষ্ট পরিবর্তন। যা মৌলভীবাজারের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন একটি ধারা তৈরি করতে পারে।

বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠ এবং পরে মৌলভীবাজার জেলা সদরে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন।

পুলক পুরকায়স্থ/রিফাত/

স্বপ্নে জীবিত দেখার দাবি! ১৮ দিন পর তরুণীর কবর খনন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০১:০০ পিএম
স্বপ্নে জীবিত দেখার দাবি! ১৮ দিন পর তরুণীর কবর খনন
ছবি: খবরের কাগজ

ভোলা সদর উপজেলায় দাফনের ১৮ দিন পর এক তরুণীর কবর খুঁড়ে দেখেছেন তার স্বজনরা। কবরের ভেতরে তিনি জীবিত আছেন এমন স্বপ্ন ও গুজবকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি  হয়।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের চর রমেশ গ্রামের হোসেন লাহারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মরিয়ম (২০) ওই গ্রামের দিনমজুর খলিল লাহারী ও গৃহিণী তাসনুর বেগমের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য কয়েক বছর আগে চট্টগ্রামে গিয়ে একটি গার্মেন্টসে পোশাকশ্রমিকের কাজ শুরু করেন মরিয়ম। ঈদুল আজহার ছুটিতে গত ২৬ মে বাড়িতে আসার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ মে ভোরে বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। পরে ঈদের নামাজ শেষে বাড়ির সামনের মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

দাফনের কয়েকদিন পর এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, মরিয়মের কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবারের কয়েক সদস্য দাবি করেন, তারা স্বপ্নে মরিয়মকে দেখেছেন এবং তিনি নাকি জীবিত অবস্থায় কবরের ভেতরে রয়েছেন। এসব বিষয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং প্রতিদিন কবরটি দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে।

স্থানীয় পাঞ্জেখানা মসজিদের ইমাম আবুল কাশেম জানান, তিনি মরিয়মের জানাজার নামাজ পড়িয়েছেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে জানান, মরিয়মের একমাত্র ভাই ও ছোট বোন স্বপ্নে দেখেছেন যে তাকে জীবিত অবস্থায় দাফন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আলেমদের সঙ্গে আলোচনা করলে তারা এটিকে অবাস্তব বলে মত দেন। এছাড়া কবর থেকে সুগন্ধি বের হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়লে আলেমদের পরামর্শে কবরের ওপর অতিরিক্ত মাটি দেওয়া হয়েছিল।

তবে সব আলোচনা-সমালোচনার অবসান ঘটাতে মঙ্গলবার বিকেলে প্রায় ৩০০ মানুষের উপস্থিতিতে স্বজনরা কবরটি খনন করেন। কবর খুঁড়ে দেখা যায়, মরিয়মের মরদেহ স্বাভাবিকভাবেই পচন ধরেছে। এরপর পুনরায় মরদেহটি যথাযথভাবে দাফন করে কবর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

পরিবারের সদস্যরা প্রকাশ্যে কথা বলতে না চাইলেও জানান, মরিয়মকে নিয়ে যে সন্দেহ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, কবর খোঁড়ার মাধ্যমে তা দূর হয়েছে।

এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, পরিবারের সদস্যরা আগে থানায় এসে জানিয়েছিলেন যে কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে এবং তারা স্বপ্নে দেখেছেন মরিয়ম জীবিত আছেন। তখন তাদের বলা হয়েছিল, কবর খুঁড়ে দেখতে চাইলে আদালতের অনুমতি প্রয়োজন। তবে মঙ্গলবার কবর খোঁড়ার বিষয়টি আমার জানা ছিল না।

স্থানীয়দের ধারণা, পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের একজন হওয়ায় মরিয়মের আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। শোক ও অতিরিক্ত চিন্তার কারণেই এমন স্বপ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হতে পারে।

ইমতিয়াজুর রহমান/আজহার/

নওগাঁয় রেল লাইনের পাশ থেকে কলেজশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
নওগাঁয় রেল লাইনের পাশ থেকে কলেজশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় রেললাইনের পাশ থেকে নেয়ামুল বাশির (৫১) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

বুধবার (১৭ জুন) সকালে উপজেলার শাহাগোলা এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নেয়ামুল রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার নামকান দেওয়ানপাড়া গ্রামের মৃত নবিবর রহমানের ছেলে। তিনি বড়শিমলা মহিলা কলেজে শিক্ষকতা করতেন।

নেয়ামুলের স্ত্রী সাহিদ বেগম জানান, গতকাল (১৬ জুন) বিকেলে গ্রামের বাড়ি থেকে নওগাঁ আসছিল নেয়ামুল। সন্ধ্যার কিছু আগে আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন থেকে মোবাইলে স্ত্রীকে জানান এশার নামাজ নওগাঁ এসে পড়বেন। কিন্তু এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। আজ (১৭ জুন) সকালে পুলিশের মাধ্যমে তার মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারে পরিবার। 

নেয়ামুলের স্ত্রীর দাবি এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে সুনির্দিষ্ট ভাবে কে বা কারা জড়িত তা বলতে পারেনি তিনি।

আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর জানান, সকালে স্থানীয়রা রেললাইনের পাশে মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রেলওয়ে পুলিশকে জানায় বিষয়টি। যেহেতু রেললাইনের পাশের ঘটনা তাই মরদেহটি রেলওয়ে পুলিশ উদ্ধার করেছে। এবং আত্রাই থানা পুলিশ সহযোগিতা করেছে।

সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাদা জোব্বা-পাজামা পরিহিত নেয়ামুল বাশিরের মরদেহের পাশেই পরেছিল তার ব্যবহৃত ব্যগ। হাত ঘড়ি, জোব্বার পকেটে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ব্যগে কিছু টাকা ছিল। মরদেহ উদ্ধারের সময় এগুলো পাওয়া গেছে। প্রাথমিক সুরতহালে নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে৷ তবে এখনো কেউ অভিযোগ করেননি।

হারুন/খাদিজা রুমি/

মেসির হ্যাটট্রি গোলে আর্জেন্টিনার জয়, হিলিতে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
মেসির হ্যাটট্রি গোলে আর্জেন্টিনার জয়, হিলিতে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস
ছবি: খবরের কাগজ

বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিক গোলে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা বিজয়ী হওয়ায় দিনাজপুরের হিলিতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, এবারের বিশ্বকাপ জয়ের আশাবাদ তাদের। 

এর আগে সকাল ৭টা বাজার আগেই প্রিয় দলের জার্সি পরে ও পতাকা হাতে নিয়ে শিশু থেকে বয়স্ক, বিভিন্ন বয়সি সমর্থকরা হিলির খাদ্যগুদাম মোড়ে বড় পর্দায় খেলা দেখতে হাজির হন।

খেলা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে সমর্থকদের ভিড় বাড়তে থাকে গুদাম মোড় থেকে রাস্তা পর্যন্ত ছড়িয়ে যায় তাদের উপস্থিতি। 

প্রথমেই মেসি গোল করে আনন্দের জোয়ারে ভেসে যায় আর্জেন্টিনা সমর্থকরা যদিও অফসাইটের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে একইভাবে আলজেরিয়া গোল করলে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা কিছুটা হতাশ হয়ে পড়ে যদিও সেটি অফসাইটের কারণে বাতিল হয়। 

পরবর্তীতে মেসি গোল করে দলকে এগিয়ে নিলে নেচে গেয়ে বাঁশি বাজিয়ে আনন্দের জোয়ারে ভাসতে থাকে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। একে একে তিন গোল করলে সেই আনন্দের জোয়ার আরো বেড়ে যায়। মেসি ও আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়দের খেলা দেখে এবারের বিশ্বকাপ জয়ের আশাবাদ তাদের। সেই সঙ্গে অন্য দলের সমর্থকদের টিপ্পুনি কাটতেও ছাড়েননি তারা।

কুদ্দুস আলী/রিফাত/

নাটোরে বলাৎকার মামলায় ২ জন কারাগারে

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৫১ এএম
নাটোরে বলাৎকার মামলায় ২ জন কারাগারে
ছবি: সংগৃহীত

নাটোরের লালপুর উপজেলায় কিশোরকে বলাৎকারসহ পৃথক মামলায় দুইজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে এ আদেশ দেন আদালত।

কিশোরকে বলাৎকার মামলার আসামি মিরাজ আলীর বয়স ৬০ বছর। অপর আসামীর নাম আকাশ (২৩)। তিনি একজন টিকটকার। লালপুর গ্রিনভ্যালি পার্কে এক বিদেশিকে হেনস্তা করার মামলারও আসামি তিনি।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে খবরের কাগজকে জানান, গত ১০ জুন সন্ধ্যায় লালপুরের জয়রামপুর এলাকার এক আমবাগানে ১৬ বছর বয়সী কিশোরকে আম কুড়ানোর জন্য ডেকে নিয়ে যায় আসামি মিরাজ। এক পর্যায়ে ওই বাগানেই কিশোরকে বলাৎকার করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ভিকটিমের বাবা মামলা করেন।

অপরদিকে গত ৮ জুন লালপুরের গ্রিনভ্যালিপার্কে টিকটকারর বন্ধু মিলনমেলার আয়োজন করে। ওই পার্কে বেড়াতে যান রূপপুর পারমাণবিক প্রজেক্টে কর্মরত দুই বিদেশি নাগরিক। ওই সময় তাদের হেনস্তার অভিযোগে মামলার মূল আসামি আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তাদের কারাগারে পাঠান আদালত।

কামাল মৃধা/থিওটোনিয়াস/