বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, জুলাই বিপ্লবে পুলিশের যে ইমেজসংকট, তা মাথায় না রেখে এখনো কিছু পুলিশ বিভিন্ন মোড়কে কিছু দলের বা গোষ্ঠীর হয়ে কাজ করছে। দেশে মিথ্যা মামলার মাধ্যমে ব্যবসা হচ্ছে। কোনো কোনো পুলিশ নীরব দর্শক হয়ে আছেন, আর কেউ কেউ পরবর্তী সময়ে যাতে সুবিধা নেওয়া যায় সে চেষ্টা করছেন।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) রংপুর মহানগর পুলিশের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। রংপুর পুলিশ লাইনস অডিটোরিয়ামে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
সারজিস আলম আরও বলেন, ‘যেসব পুলিশ সদস্য আন্দোলনে আমার ভাইদের হত্যা করেছে, তাদের বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে অভ্যুত্থান পরবর্তী আগামী দিনে আমরা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, সেখানে এর চেয়ে আরও বড় অভ্যুত্থান হবে। বেশি রক্তপাত ঘটবে। কিন্তু তাদের সামনে একটা এক্সাম্পল (উদাহরণ) হবে যে, বদলির মাধ্যমে তাদের সব অপকর্মের সাজা নিশ্চিত করা হয়েছিল। বদলি ছাড়া খুনের জন্য পুলিশের আর কোনো শাস্তি হয় না। অপরাধের জন্য শুধু বদলি করা পুলিশের সাজা হতে পারে না।’
সারজিস আলম বলেন, ‘বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বৈধতা দেওয়ার জন্য যারা তাদের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং যারা সংসদ সদস্যের চেয়ারে বসে সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, তারা যে দলেরই হোন না কেন সবাই ফ্যাসিবাদের দোসর।’
সারজিস বলেন, ‘আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যে একটি দল ক্ষমতায় এসে অন্যদের শোষণ করবে। ছাত্র-জনতার রক্তে অর্জিত স্বাধীনতা-পরবর্তী যে বাংলাদেশ আমরা চাই, আবু সাঈদ ভাই যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন, সেই দেশ তৈরির পথে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াবেন না।’
এর আগে শনিবার সকালে পুলিশের আইজি মো. ময়নুল ইসলামের সফরসঙ্গী হয়ে রংপুরের পীরগঞ্জ বাবনপুরে যান সারজিস আলম। সেখানে তিনি আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তিনি বিকেলে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।