যশোর সদরে ভাড়াটিয়ার হাতে শাহানারা বেগম (৫৫) নামে এক বাড়িওয়ালা খুন হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে ভাড়াটিয়ারা পলাতক।
বৃহস্পতিবার (৩১অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে শহরের শেখহাটি বাবলাতলা এলাকায় ভাড়াটিয়া বাবলা ও সুমনের ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শাহানারা দুই দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, শাহানারা বেগম ও তার স্বামী ছাড়া তাদের বাড়ির একটি ঘরে দুই যুবক ভাড়ায় থাকতেন। বুধবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে শাহানারার স্বামী আনিসুর ইজিবাইক চালাতে বের হন। রাতে বাড়ি ফিরে গেটে তালা লাগানো দেখতে পান তিনি। আশপাশে খোঁজ করেও স্ত্রীর কোনো সন্ধান পাননি। পরে দেয়াল টপকে বাড়ির ভিতরে গিয়ে ঘরে তালা দেখতে পান এবং ভাড়াটিয়ার ঘরের সামনে কাপড়ে রক্ত দেখে লোকজন ডেকে তালা ভাঙলে ঘরের ভিতরে শাহানারা বেগমের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান।
নিহতের ছোট ভাই মাসুদ পারভেজ বলেন, ভাড়াটিয়া বাবলা ও সুমন মাদকাসক্ত হওয়ায় তাদের ঘর ছেড়ে দিতে বলা হয়েছিল। গত কয়েক মাস ধরে তাদের বাড়ি ছেড়ে দিতে বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়। এমনকী শাহানারা ও ভাড়াটিয়াদের মধ্যে বাগবিতণ্ডাও হয়। এর জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হত্যার পরে তার শরীরে থাকা স্বর্ণলংকার নিয়ে গেছে খুনীরা।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকেলে প্রতিবেশীরা ওই দুই যুবককে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে দেখেন।
যশোর ডিবির পুলিশ পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম হাওলাদার জানান, ‘পরিচিত লোকের হাতেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে তা বের করার চেষ্টা করা চলছে। হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়া কক্ষে একটি নোটপ্যাড পাওয়া গেছে। তাতে তিন চার পৃষ্ঠায় হত্যার কারণ উল্লেখ করা আছে। সেখানে পূর্বে তাদের বিরোধ, বাগবিতণ্ডা ও বিভিন্ন স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে। তবে আসলেই এই হত্যার কারণ কী, আসলেই এই নোটপ্যাড ভাড়াটিয়াদের কিনা সেটাও তদন্ত চলছে।’
এইচ আর তুহিন/সুমন/অমিয়/