কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে টানেল করে সরকারি অর্থ অপচয় করা হয়েছে। যে লক্ষ্যে টানেলটি করা হয়েছে তা পূরণ হচ্ছে না। বরং টানেলে অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
শুক্রবার ( ১৫ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘টানেল দিয়ে পর্যাপ্ত গাড়ি চলাচল করছে না। কারণ গাড়ির চলাচলের জন্য টানেলটি করা হয়নি। করা হয়েছে ঘুরে বেড়ানোর জন্য। আগে মহেশখালির মাতারবাড়ি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করা জরুরি ছিল। তখন টানেল দিয়ে গাড়িগুলো মহেশখালি ও কক্সবাজার পর্যন্ত চলত। এখন ট্যানেল দিয়ে গাড়ি গিয়ে কোথায় যাবে?’
তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ি যাওয়ার জন্য আমি একটা সড়ক করে ফেললাম তা তো হবে না। সড়ক করতে হলে আগে যাচাই-বাছাই করতে হবে। গাড়ি চলাচলের উপযোগিতা আছে কিনা সেটি আগে দেখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামের ইস্টার্ণ রিফাইনারিতে আরও একটি তেল শোধানাগার হবে। তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার এ পদক্ষেণ নিচ্ছে। দেশে দিন দিন জ্বালানী তেলের চাহিদা বাড়ছে। এ চাহিদা পুরণ করতে সরকার বদ্ধপরিকর।’
কক্সবাজারে নিয়মিত ট্রেন চলার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘অনেকেই চায় না কক্সবাজারে নিয়মিত ট্রেন চলাচল করুক। কারণ সেখানে তাদের স্বার্থ রয়েছে। আমরা কক্সবাজারের ট্রেন নিয়মিত চলাচল করার ব্যাপারে ভেবে দেখছি। সামনে নিয়মিত ট্রেন চলাচল করার ব্যপারে পদক্ষেপ নিব।’
নবায়নযোগ্য জ্বালানীর গুরুত্ব নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘সবাই ধীরে ধীরে নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অনেকে ডিজেল ইঞ্জিন ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছেন। সেক্ষেত্রে বিদ্যুতের খরচ আরও বেশি পড়ছে। ডিজেলেরও ঘাটতি সৃষ্টি হচ্ছে। সুতরাং আপনারা সোলার প্যানেল ব্যবহার করতে পারেন। আবার আমরা তরলীকৃত গ্যাস আমদানি করছি তবে সেক্ষেত্রেও খচর হচ্ছে বেশি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কুপ খনন করে গ্যাস উত্তোলন করতে পারি। সরকারের জন্য যেটি লাভজনক আমরা সেটিই করব। মুলকথা আমরা মৌলিক কাজগুলো করব।’
মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার তোফায়েল ইসলাম ও জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম উপস্থিত ছিলেন।
আবদুস সাত্তার/সুমন/এমএ/