ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হাতি বনাম লা ত্রির লড়াই বিশ্বাসের সমুদ্রে ফন ডাইকের তরি ১৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি সমতায় বিশ্বকাপ মিশন শুরু ব্রাজিলের স্বপ্নের জাদুকর মুসিয়ালা পথপ্রদর্শক বাকুনা ভিনিসিয়ুসের গোলে সমতায় ফিরল ব্রাজিল পরাশক্তি জার্মানির সামনে পুঁচকে কুরাসাও ডার্কহর্স জাপান, সতর্ক নেদারল্যান্ডস ব্রাজিলের শুরুর একাদশে চমক অতিরিক্ত সময়ের গোলে সুইসদের রুখে দিয়ে কাতারের বাজিমাত ৯২ বছর ধরে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হারেনি ব্রাজিল নেইমারকে ছাড়াই নামছে ব্রাজিল, ভাঙছে ৪০ বছরের ঐতিহ্য পেনাল্টিতে এমবোলোর গোল, এগিয়ে সুইজারল্যান্ড ফিটনেস প্রশ্নে রোনালদো, ‘আমাকে খেলতে দেখেননি?’ ‘জাপানি মেসি’র সঙ্গী উয়েদা এমবাপ্পের সমালোচনা ‘অতিরিক্ত ও অন্যায়’ দেড় দশকের জ্বালানিনীতি ছিল আমদানিনির্ভর: তথ্যমন্ত্রী ইরানের অনুশীলন মাঠের পাশে মরদেহ উদ্ধার ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ ইমার্জিংদের ঝিলিকের মৃত্যুর রহস্যে নতুন মোড়, গ্রেপ্তার স্বামী রক্তদান মহৎ কিন্তু নিরাপদ রক্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ মার্তিনেজকে ঘিরে নতুন শঙ্কা শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন মাইকেল অলিভার ‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’
Nagad desktop

মানিকগঞ্জে একটিই পার্ক, তাও জরাজীর্ণ

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:৩১ এএম
মানিকগঞ্জে একটিই পার্ক, তাও জরাজীর্ণ
দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় মানিকগঞ্জ শহরের একমাত্র শিশু পার্কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ছবি: খবরের কাগজ

অযত্ন-অবহেলায় মানিকগঞ্জ শহরের একমাত্র শিশু পার্কটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ঝোপঝাড়ে ভরা পার্কটির ভেতরে থাকা রাইডগুলোতে এরই মধ্যে মরিচা পড়েছে। রঙ উঠে গিয়ে প্রাণীর প্রতিকৃতিগুলো সৌন্দর্য হারিয়েছে

মানুষের আসা-যাওয়া না থাকায় পার্কটি এখন মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, চাইলেই তারা বাচ্চাদের নিয়ে পার্কে যেতে পারেন না। এটি চালু হলে শিশুরা খেলাধুলার সুযোগ পাবে। পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তারা পার্কটি চালুর ব্যাপারে চেষ্টা করবেন।

জানা যায়, ২০০৭ সালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রায় এক একর জমির ওপর শিশু পার্কটি নির্মাণ করা হয়। এটি নির্মাণের পরপরই শিশুরা খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ পেতে শুরু করে। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ২০১২ সালে এটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। নাগরিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে পার্কটি সংস্কার ও ছয় লাখ ব্যয়ে একটি শৌচাগার নির্মাণ করা হয়। সংস্কার কাজ শেষে ২০১৮ সালে এটি পুনরায় উদ্বোধন করা হয়। তখন নাম রাখা হয় মুক্তিযোদ্ধা পৌর শিশু পার্ক। নতুনভাবে বছর দুয়েক ভালোভাবে চললেও করোনার পর থেকে আবারও জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পার্কের বৈদ্যুতিক ট্রেনটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে মরিচা পড়ে গেছে। দোলনা, স্লিপারসহ অন্যান্য রাইডগুলো নষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে রয়েছে। ডাইনোসর, বাঘ, ভালুকসহ বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিকৃতিগুলোর রং উঠে সৌন্দর্য হারিয়েছে। একেতো পার্কের রাইডগুলো অকেজো সেই সঙ্গে বসার জায়গাগুলো নোংরা আর ঝোপঝাড়ে ভরা। এমন পরিবেশে অভিভাবকরাও পার্কে আসতে ভয় পান। দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি বখাটে ও মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। পৌর এলাকার কিছু অভিভাবক এখনো মাঝে মধ্যে তাদের সন্তানদের নিয়ে পার্কে আসেন। কিন্তু পার্কের ভেতরের পরিবেশ তাদের হতাশ করে।

পৌর শহরের পূর্ব দাশুড়া এলাকার বাসিন্দা মহিদুর রহমান বলেন, ‘শহরে শিশুদের নিয়ে বেড়ানোর কোনো জায়গা নেই। ডিসি অফিসের সামনে একটি শিশু পার্ক করা হলেও সেটি এখন ঝোপঝাড়ে ভরপুর। চাইলেই বাচ্চাদের নিয়ে ওখানে বেড়ানোর সুযোগ নেই। সংস্কারের মাধ্যমে এটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হলে শিশুরা আবারও খেলাধুলার সুযোগ পাবে।’

কথা হয় শহরের সেউতা এলাকার বাসিন্দা তানজিয়া ইয়াসমিনের সঙ্গে। পার্কের পরিবেশ বাচ্চাদের নিয়ে যাওয়ার মতো নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ছেলে বায়না ধরেছিল পার্কে যাবে। রবিবার বিকেলে নিয়ে যাই। গিয়ে দেখি পার্কের গেটে তালা দেওয়া। বাইরে থেকে দেখলাম পার্কের ভিতরের অবস্থা খুবই নাজুক। বেঞ্চে বসে উঠতি বয়সী ছেলেরা আড্ডা দিচ্ছে।’ 
করোনার মহামারির আগে শিশুরা এখানে ভালো সময় কাটাত। পরে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বর্তমানে পার্কের জরাজীর্ণ অবস্থা এবং মাদকসেবীদের উপস্থিতির কারণে অভিভাবকরা আর এখানে আসতে চান না বলে মন্তব্য করেন আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি। তিনি জানান, পার্ক সচল করার আগে সেখান থেকে মাদকসেবীদের উৎখাত করা এখন বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে।
 
মানিকগঞ্চ জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট দীপক কুমার ঘোষ উল্লেখ করেন, জেলা প্রশাসন জায়গা দিয়ে সহযোগিতা করলেও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পৌরসভার। এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করায় পার্কটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক মানিকগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস মনে করেন, ‘শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা খুবই জরুরি। জেলার একমাত্র শিশু পার্কটি অবহেলার কারণে বিলুপ্তির পথে। কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নিতে হবে।’

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক সানজিদা জেসমিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা পৌর শিশু পার্কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার বিষয়টি আমি জানি। পৌরসভার দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র তিন মাস হলো। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বেশ পরিমাণ টাকা বকেয়া ও ঋণ থাকায় আমাদের সেগুলো আগে পরিশোধ করতে হচ্ছে।’

কবে নাগাদ পার্কটি চালু হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু শিশু পার্কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে আছে তাই আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হলে সেখানে টাকা ব্যয় করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে পৌরসভার যে অবস্থা তাতে একটু সময় লাগবে। তবে, শিশুদের কথা চিন্তা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এটা চালু করার চেষ্টা থাকবে।’

নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন
ছবি: সংগৃহীত

চোখের নানা সমস্যা স্বত্বেও টাকার অভাবে চিকিৎসা বঞ্চিত নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ৭০ জন দরীদ্র মানুষ পেতে যাচ্ছে বিনা খরচে চোখের ছানি অপারেশনের সুযোগ।

শনিবার (১৩ জুন) দিনব্যাপী ফ্রি পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেেষে ওই ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়। 

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক চক্ষু শিবিরে ওই কর্মসূচী পালিত হয়।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক ড.মোঃ জিয়াউল হক জিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,নলডাঙ্গা ডায়াবেটিক সেন্টারে গাক চক্ষু হাসপাতালে ওই চক্ষু শিবিরের আয়োজন করা হয়।

দিনব্যাপী শত শত রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়া হয়। এর মধ্যে ৭০ জনকে ছানি অপারেশনের জন্য চিহ্নিত করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান,বাছাইকৃত ওই ৭০ জন ছানি  অপারেশনর যোগ্য রোগীকে বগুড়ায় গাক চক্ষু হাসপাতাল পাঠানো হবে।সেখানেই অপারেশন হবে। তবে রোগীদের  যাওয়া, আসা, অপারেশন, ঔষধ, চশমা, ও থাকা খাওয়ার কেন খরচ দিতে হবে না।

দিনব্যাপী ওই চক্ষু চিবিরে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উপজেলা সভাপতি মামুনুর রশিদ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন,ছাত্র শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি ও বর্তমান কেন্দ্রীয় সহকারী দপ্তর সম্পাদক আফতাব আলী, নলডাঙ্গা শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের পৌরসভা সভাপতি সাইফুল ইসলাম, হাজী কল্যান সমিতির সাধারন সম্পাদক  আবুল হোসেন, নিজাম উদ্দিন ও জিয়ারুল।

কামাল মৃধা/এসএন

চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে দিনব্যাপী এক ব্যতিক্রমধর্মী চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলায় অংশ নেওয়া শতাধিক চাকরিপ্রত্যাশীর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ প্রার্থী প্রাথমিক বাছাই ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার শাহ ডাইন কনভেনশন সেন্টারে এ চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় এবং ‘রেইজ’ প্রকল্পের আওতায় ‘প্রয়াস’সহ তিনটি সামাজিক সংগঠন যৌথভাবে মেলার আয়োজন করে।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, মেলায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের ২৭টি প্রতিষ্ঠান এবং তিন শতাধিক চাকরিপ্রত্যাশী অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টলে দক্ষ জনবলের ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ কর্মী, সেলসম্যান এবং কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগের জন্য বিপুলসংখ্যক আবেদন গ্রহণ করা হয়।

মেলায় চাকরিপ্রত্যাশীরা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিভি জমা দেন এবং সরাসরি মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। প্রার্থীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা যাচাই শেষে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদনকারীকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরির জন্য নির্বাচিত করা হয়।

নিয়োগ কার্যক্রমের পাশাপাশি চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য সিভি হালনাগাদ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং চাকরির প্রস্তুতি বিষয়ক পরামর্শ ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ফলে তরুণ চাকরিপ্রত্যাশীরা একই স্থানে চাকরি খোঁজার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগও পান।

আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ-তরুণীদের বিভিন্ন কর্মমুখী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করা এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করাই এ মেলার মূল উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে শতফুল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক নাজিম উদ্দীন মোল্লার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) টুকটুক তালুকদার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর উপমহাব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম, রেইজ প্রকল্পের পিকেএসএফ উপ-প্রকল্প সমন্বয়কারী গোলাম জিলানী, প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন এবং শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মোহসিন আলীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এনায়েত করিম/এসএন

‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’
ছবি: সংগৃহীত
ফেনীর সাংবাদিকতার অঙ্গনে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের যে আলোকবর্তিকা জ্বালিয়ে রেখেছিলেন এনটিভি ও জনকণ্ঠের প্রবীণ সাংবাদিক ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল, তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে নাগরিক শোকসভা করেছে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটি। তিনি এ সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন।
 
শোকসভায় বক্তারা বলেন, ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল শুধু একজন সাংবাদিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন ফেনীর সংবাদজগতের এক প্রতিষ্ঠান। তার মৃত্যুতে ফেনীর সাংবাদিকতায় এমন এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
 
শনিবার (১৩ জুন) বিকালে শহরের রাজাঝির দিঘির পশ্চিম পাড়ে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রাঙ্গণে এ শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুফতি আবদুল হান্নান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, ফেনী আদালতের জিপি নুরুল আমীন খান, জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আ ন ম আবদুর রহিম।
 
বক্তারা বলেন, ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল ছিলেন ফেনীর চারণ সাংবাদিক। তিনি সংবাদকে কেবল পেশা হিসেবে নয়, মানুষের অধিকার ও জনস্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে দেখতেন। তিনি চলে গেলেও তার সততা, মানবিকতা, পেশাদারিত্ব এবং সাংবাদিকতার প্রতি দায়বদ্ধতা ফেনীর সংবাদজগতে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার কর্মময় জীবন আগামী দিনের সাংবাদিকদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
 
তারা আরও বলেন, ফেনীর সাংবাদিক সমাজে ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল ছিলেন একটি নির্ভরতার নাম। পেশাগত প্রতিযোগিতার ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সহকর্মীদের সহযোগিতা করতেন। সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, নতুনদের পথ দেখানো এবং সত্য প্রকাশে আপসহীন অবস্থানের জন্য তিনি সবার কাছে সম্মানিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো জেলার সংবাদমাধ্যম অঙ্গন একজন অভিভাবককে হারিয়েছে।
 
শোকসভায় স্মৃতিচারণ করে আরও বক্তব্য রাখেন ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু তাহের ও আবদুর রহিম, ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি আরিফুল আমিন রিজভী, শুকদেব নাথ তপন ও এনামুল হক পাটোয়ারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক যতন মজুমদার, মরহুমের মামাতো ভাই নাসির উদ্দিন হায়দার সাইমুন, সাংস্কৃতিক সংগঠক শান্তি চৌধুরী, সহকর্মী আক্তার হোসেন, টেলিভিশন জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি আতিয়ার সজল, ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সহসভাপতি মো. মাঈন উদ্দিন, সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সভাপতি সিদ্দিক আল মামুন, ফেনী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনির, ইউনিটির নির্বাহী সদস্য নুর উল্লাহ কায়সার, কোষাধ্যক্ষ শফি উল্লাহ রিপন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ নিলয়।
 
অনুষ্ঠানে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন মরহুমের একমাত্র ছেলে রুথান মাহমুদ। 
 
শোকসভার শেষে মরহুম ওছমান হারুন মাহমুদ দুলালের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ফেনী কোর্ট জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মীর হোসেন।
 
এসএন/

একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম
একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

বরগুনায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জেলায় চরম উদ্বেগ, আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার দুপুর থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত সদর, পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

২৪ ঘন্টায় বরগুনায় আত্মহত্যা, পিটুনি, রহস্যজনক মৃত্যুর ও অস্বাভাবিক মৃত্যু থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উৎকণ্ঠার যেমন জন্ম দিয়েছে তেমনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রতিটি ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ চলছে। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেছে, একজন নিহত হয়েছেন পিটুনিতে এবং অপর একজন অটোরিকশাচালকের মরদেহ সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন সদর উপজেলার বাসিন্দা। আর বাকি দুজন পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলার।

শনিবার সকালেই সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের লেমুয়া গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে মোসা. কনা (৩৪) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

একই সময়ে সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের নলী এলাকায় সালেহা বেগম (৯৩) নামে এক বৃদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে শুক্রবার সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নে একটি সহিংস ঘটনার জেরে ইব্রাহিম হোসেন কালু (২৮) নামে এক যুবক নিহত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ক্ষুব্ধ জনতা পাল্টা হামলা চালিয়ে কালুকে পিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলীম বলেন, দুই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং পিটুনিতে নিহতের ঘটনাটিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে পুলিশ নিজ উদ্যোগে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে।

এদিকে পাথরঘাটা উপজেলায় মিজানুর রহমান (৪৫) নামে এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোরে পৌরসভার পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণ পাশের সড়ক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মিজানুর রহমান স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। 

পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার রাতে খাবার শেষে তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। রাত দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে কোনো এক সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে যান এবং এরপর আর ফেরেননি। ভোরে স্থানীয়রা সড়কের পাশে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে শনিবার দুপুরে বামনা উপজেলার কলাগাছি এলাকা থেকে এহসান (১৮) নামে এক কলেজছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা জানান, ঘটনাস্থলে তার কানে হেডফোন ছিল। যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়েছে। বিস্তারিত তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মহিউদ্দিন অপু/এসএন

সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম
সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে কিশোরীসহ একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। 

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত দক্ষিন কদমতলী এলাকায় ডিএনএ লেক থেকে একে একে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন- গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার মনোহরদী এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রাশেদুজ্জামান, নড়াইলের কালিয়া থানার রঘুনাথপুর এলাকার বাসিন্দা আকরাম মিয়ার ছেলে মো. গালিব এবং মেয়ে সুরাইয়া আক্তার। তারা সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিণ কদমতলী এলাকার অ্যাডভোকেট জালাল মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন।

প্রতক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যরা জানায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শ্যালক ও শালিকাকে নিয়ে গোসল করতে ডিএনপি খালে নামে দুলাভাই রাশেদুজ্জামান। প্রায় আধঘন্টা পর তাদের কোন খোঁজ খবর না পাওয়ায় তাদের খোঁজাখুজি শুরু করেন পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে খালে তল্লাশি শুরু করে।

উপ-সহকারি পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, খালে তিনঘন্টা ব্যাপী তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে দুলাভাই রাশেদুজ্জামান ও শ্যালক গালিবের মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে আরও এক ঘন্টা পর শ্যালিকা সুরাইয়া আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

বিল্লাল হোসাইন/রিফাত/