ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীতে নৌযানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন জেলেরা। নদীতে স্বাধীনভাবে মাছ ধরা ও নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত তারা। তাদের দাবি, বিগত সময়ে এ অঞ্চলের নদীগুলোতে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করত জেলেদের মাছ শিকারের নিশ্চয়তা।
উপকূলীয় জেলা ভোলার বিভিন্ন জেলেপাড়া ও মাছঘাটগুলোতে সেখানকার ভু্ক্তভোগীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা এমন তথ্যইজানান। জেলেরা জানান, নদীর এসব দস্যুবাহিনীর কাছে ভোলার প্রায় দুই লক্ষাধিক মৎস্যজীবীরা জিম্মি হয়ে আছে।
ভোলার মেঘনা নদীর মধ্যখানে অবস্থিত মাঝের চর এলাকার বাসিন্দা কামাল, রতন ও ইউসুফ মাঝি অভিযোগ করে বাসসকে বলেন, ‘ভোলার সাবেক কাচিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম নকীবের নির্দেশ ছাড়া আমরা নদীতে মাছ ধরতে পারতাম না। নেতার কাছ থেকে লাল টোকেন কিনে নদীতে যেতে হতো।’
রামদেবপুর চরের অপর মাছ শিকারী আলাউদ্দিন মাঝি ও হাবু মাঝির সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, নকীব চেয়ারম্যানের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিল সোহেল মোরাদার।
সূত্রমতে, ওইসব ক্ষমতাধরদের ফরমান না মানলে জাল, নৌকা আর ইঞ্জিনসহ মাঝিমাল্লাদের অপহরণ করে নিয়ে যেত দস্যুবাহিনী। মুক্তিপণের বিনিময়ে জেলেদের ফিরিয়ে দেওয়া হতো। জেলেরা জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পরও থেমে ছিল না জেলেদের ওপরসোহেল বাহিনীর তাণ্ডব। ভোলা সদর মডেল থানার ওসি হাসনাঈন পারভেজ বাসসকে জানান, গত সপ্তাহে সোহলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে উপকূলীয় জেলা ভোলা ও তার আশপাশের নদ-নদীগুলো এখনো পুরোপুরি শান্ত হয়নি। জেলেদের মতে, সময়ের পালাবদল হলে মাছের উপর ভাগ বসানোদের এখনো বদল হয়নি। ফলে একে তো জেলেরা দাদনের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে নদ-নদী ও জেলে এবং জলযানের সুরক্ষায় এখানে কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও নৌপুলিশ সব সময় সতর্কতায় থেকে সন্ত্রাস দমনে কাজ করলেও জেলেদের শঙ্কা কাটেনি।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বাসসকে জানান, প্রাথমিকভাবে আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা ও হত্যাচেষ্টা মামলার হয়েছে।