৫ আগস্টের বিকেল। গণভবনের সামনে বিজয় মিছিল শেষে শ্যামলীর রিং রোড হয়ে বাসায় ফিরছিলেন পোশাককর্মী নাসিরুল ইসলাম। রিং রোডেও তখন বিজয় মিছিল চলছিল। নাসির তাতে যোগ দেন। এ সময় পুলিশের ছোড়া গুলি লাগে তার বাম পায়ে। পথের ওপর তিনি লুটিয়ে পড়েন।
মীরপুর কলেজের দুই ছাত্রী রিকশায় উঠিয়ে তাকে সরকারি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে নেওয়া হয় পঙ্গু হাসপাতালে। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজে। চিকিৎসকরা জানান, গুলি লেগে নাসিরুলের বাম পায়ের হার ভেঙে গেছে। ঢাকা মেডিকেলে ১ মাস ২০ দিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরেন নাসিরুল। এখন প্রতি মাসে তাকে একবার ঢাকায় যেতে হয় চিকিৎসার ফলোআপ করাতে। চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে নাসিরুলের বাবার আয়ের একমাত্র উৎস রিকশাটি বিক্রি করতে হয়েছে। এতেও চিকিৎসার টাকার সংকুলান না হলে সুদে টাকা ধার করেছেন বাবা। এভাবে টাকা জোগাড় করতে গিয়ে পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে গেছে। সুদের টাকা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
নাসিরুল বলেন, ‘একমাত্র জামায়াতে ইসলামী ছাড়া কারও কাছ থেকে চিকিৎসার জন্য তেমন কোনো অর্থ সহযোগিতা পাইনি।’ সুদের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে বাড়ি বিক্রি করার উদ্যোগ নিয়েছেন তার বাবা।
নাসিরুলের বাড়ি রংপুর সদরের সদ্যপুস্করনী ইউনিয়নের জমিদারপাড়া গ্রামে। সংসারে অভাব-অনটন থাকায় ২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষার পর ঢাকায় গার্মেন্টে চাকরি নেন তিনি। নিজেদের কোনো জমিজমা নেই।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাছিরুল এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে সংসারের হাল ধরতে ঢাকায় চলে যান। সেখানে টিম টেক্সট গ্রুপে চাকরি নেন। থাকতেন আমিনবাজারে ফুফুর বাসায়। ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ৩টার দিকে গণভবনের সামনে বিজয় মিছিলে অংশ নিয়ে রিং রোড দিয়ে ফুফুর বাসায় ফিরছিলেন। তখনই পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলির শিকার হন নাসিরুল। গুলিতে তার পায়ের হাড় ভেঙে যায়। এখন তিনি পঙ্গু। প্রতি মাসে একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে ঢাকায় যেতে-আসতে তার খরচ হয় ২০ হাজার টাকা। সুদের টাকায় চিকিৎসা করাচ্ছেন বলে মাসে মাসে সুদের টাকাও শোধ করতে হচ্ছে। নিঃস্ব পরিবারটি তাই এখন দিশেহারা।
নাসিরুলের মা নাজনীন বেগম বলেন, ‘একমাত্র বুকের ধন সংসারে হাল ধরছিল। সে মারা গেলে আমার সংসার ভাঙ্গি তছনছ হই যাইত। বাঁচি আছে আল্লাহর রহমতে। এখন সংসার চলবে কী দিয়ে, সুদের টাকা দেব কীভাবে, ব্যাটা (পুত্র) কামাই করবের পারবে না। সরকারের কাছে চাওয়া, ব্যাটাক যেন একটা চাকরি দেয়।’