খবরের কাগজে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। গত দুই জানুয়ারি দৈনিক খবরের কাগজে ‘জয়পুরহাটে অনুমোদন ছাড়াই চলছে ইটভাটা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর অভিযানে নেমে অনুমোদনহীন ওই ইটভাটার মালিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে জেলার সদর উপজেলার পশ্চিম পুরানাপৈল এলাকার মেসার্স এআর ব্রিকস নামে ইটভাটায় এ অভিযান চালানো হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রউফ অভিযানটি চালান।
জানা গেছে, এআর ব্রিকসের পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের ছাড়পত্র নেই। এ ছাড়াও ওই ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো হচ্ছিল। এসব অভিযোগে সেখানে অভিযান চালিয়ে ইটভাটার মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে ইটভাটার মালিক আবু রায়হান জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রউফ জানান, জেলার ৪৭টি ইটভাটার মধ্যে ৩০টির পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। এ ছাড়া সব ইটভাটার মধ্যে ৯টির জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স রয়েছে। দুটি ইটভাটার লাইসেন্স প্রক্রিয়াধীন। অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর জয়পুরহাট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, জয়পুরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফুল ইসলামসহ অন্যরা।
এর আগে প্রকাশিত খবরে প্রকাশ করা হয়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাটবাজারসহ সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রতিষ্ঠানের আশপাশে বা ফসলি জমিতে কোনো ইটভাটা করা যাবে না। কিন্তু এ আইনের বাস্তবায়ন নেই এ জেলায়। এ ছাড়া কোনো কোনো ভাটায় শিশু শ্রমিকদের কাজ করতেও দেখা গেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেছিলেন, ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপনা নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল-ক্লিনিকের আশপাশে ও কৃষিজমিতে ইটভাটা গড়ে তোলা যাবে না। আমরা অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’