ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ চট্টগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে মা-মেয়ে হত্যা শেষ হলো ‘রুচি বিউটিগ্রাম সিজন সেভেন’ টিভিতে আজকের খেলা হাইতিকে হারিয়ে 'সি' গ্রুপের শীর্ষে স্কটল্যান্ড র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ‘টেস্ট অফ ল্যাটিন’– সুস্বাদু খাবার আর ফিফা বিশ্বকাপের দারুণ এক উৎসব ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ফের অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত বিজিবির বাংলাদেশ নারী দলের টি-টোয়েন্টি অভিযান আজ শুরু বিশ্ববাজারে কেন কমছে সোনার দাম? হাতিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, পালিয়ে বেড়াচ্ছে পরিবার দুপুরের মধ্যে ১০ অঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা যেভাবে সত্যকে চিনলেন সালমান (রা.) নিজের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের আহ্বান এমপি মুশফিকুর রহমানের মরক্কো-ব্রাজিল দ্বৈরথে কাঁপল মেটলাইফ, গ্যালারিতে ৮০ হাজারের মহাসমুদ্র! চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে যুবক আটক, বিএসএফের মারধরের অভিযোগ রংপুরে চিকিৎসককে মারধর: মায়ের মরদেহ পেতে কান ধরে উঠবস যুবকের সিলেট সিটি করপোরেশনে চলতি বছরে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে: সিসিক প্রশাসক চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু সুবর্ণচরে নারীকে পিটিয়ে পদ হারালেন যুবদল নেতা সেনবাগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের মধুখালীতে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে কুপিয়ে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই ‘রোদে লিচু পোড়ায় ক্ষতির মুখে চাষি-ব্যবসায়ী’ প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খুশি ‘ফেবারিট’ তুরস্কের সামনে আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রেলিয়া পরিদর্শন নেই, অরক্ষিত রেলপথ বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড ২০২৬ এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি’ বিনিয়োগ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে সাহসী উদ্যোগ, বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ আরআইবিএর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল ব্র্যাকইউনিভার্সিটির পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস
Nagad desktop

সীমান্তে লাশ পড়লে কাঁটাতার পেরিয়ে লংমার্চ করা হবে: সারজিস আলম

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৫, ১১:২৮ পিএম
সীমান্তে লাশ পড়লে কাঁটাতার পেরিয়ে লংমার্চ করা হবে: সারজিস আলম
ছবি: খবরের কাগজ

সীমান্তে আর একটি হত্যা হলে কাঁটাতার পেরিয়ে লংমার্চ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতা সারজিস আলম। 

বৃহস্পতিবার বিকালে মার্চ ফর ফেলানী কর্মসূচি উপলক্ষে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রাম খানা দীঘির পাড়ে আয়োজিত জনসভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। ফেলানীর বাড়ির পাশে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। 

এর আগে সকাল ১০টায় কুড়িগ্রাম জেলা শহরের কলেজ মোড়ে স্বাধীনতা বিজয় স্তম্ভে সংবাদ সম্মেলন করেন সারজিস আলম। সেখান থেকে মার্চ ফর ফেলানী কর্মসূচি শুরু হয়। ফেলানীর এলাকা নাগেশ্বরীর রামখানা গিয়ে মার্চ ফর ফেলানী শেষ হয়। তার আগে পথে সদরের পাটেশ্বরী, মধ্যকুমর ও নাগেশ্বরী উপজেলার ব্যাপারী হাট এবং নাগেশ্বরী বাসস্ট্যান্ডে পথসভায় বক্তব্য রাখেন সারজিস আলমসহ জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। পথে পথে দাবি সংবলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। 

রামখানার পথসভায় তিনি আরও বলেন, ৫৩ বছর ধরে বাংলাদেশকে জিম্মি করে রেখেছে ভারত। আর নয়। বাংলাদেশ ভূখণ্ডে যারা ভারতের দালালি করবে, তাদের দেশ থেকে হঠানো হবে। 

মার্চে অংশ নেন জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক নিজাম উদ্দীন, যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ, কেন্দ্রীয় সংগঠক আবু সাইদ লিওন, কেন্দ্রীয় সংগঠক সাকিব মাহদী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রিফাত রিদওয়ানসহ কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক, জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সমন্বয়ক এবং শিক্ষার্থীরা। 

রামখানার পথসভা শেষে সারজিস আলম ফিরে গেলেও জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয় ও নেতারা ফেলানীর কবর জিয়ারত করেন।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে বিএসএফের হাতে নিহত হয় নাগেশ্বরীর কিশোরী ফেলানী। হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার পায়নি তার পরিবার। ফেলানী হত্যার বিচারের আশায় এখনো কাঁদে তার পরিবার। আশাহত ফেলানীর পরিবারকে বিচারের আশা বাড়িয়ে দিলেন ছাত্র নেতারা।

চট্টগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে মা-মেয়ে হত্যা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
চট্টগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে মা-মেয়ে হত্যা
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পারিবারিক বিরোধের জেরে মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে অভিযুক্ত তেজপ্রিয় বড়ুয়া (৩৫)।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ১১টার দিকে আনোয়ারার পারৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড চেনামতি গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তের ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। 

নিহত ব্যক্তিরা হলেন, ওই এলাকার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। নিহত প্রিয়ন্তী মাহাতা পাঠনিকোটা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনায় গুরুতর আহত শিশুসন্তান পিয়াস বড়ুয়াকে (৫) উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু দিন ধরে সুজন বড়ুয়ার পরিবারে সুদের টাকাসহ অভ্যন্তরীণ ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরেই গতকাল রাত ১১টার দিকে বসতঘরে ঢুকে মা, মেয়ে ও শিশুর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় অভিযুক্ত তেজপ্রিয় বড়ুয়া (৩৫)। তিনি ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।

চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করেন। এর মধ্যে এনি বড়ুয়া ও প্রিয়ন্তী বড়ুয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশু পিয়াস বড়ুয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আনোয়ারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুয়েল আহমেদ জানান, 'হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ নিহত মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের জেরে এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে জড়িত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন।'

ইফতেখারুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ফের অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:১১ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ফের অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস রোড থেকে আবারও এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার কেওয়াটখালী ব্রিজ-১ সংলগ্ন এলাকায়, মাওয়ামুখী লেনের সার্ভিস রোডে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা দেওয়ান আজাদ হোসেন জানান, তাৎক্ষণিক মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

এর আগে গত ১২ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে একই এক্সপ্রেসওয়ের কামারখোলা এলাকায় সার্ভিস রোডে এক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। পরে তাকে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ উভয় ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে দেখছে।

সুমন/খাদিজা রুমি/

হাতিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, পালিয়ে বেড়াচ্ছে পরিবার

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
হাতিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, পালিয়ে বেড়াচ্ছে পরিবার
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে (১২) ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ও তাদের পেষোয়াদের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ভুক্তভোগীর পরিবারটি। 

গত কয়েক মাস আগে এই ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি তারা। 

শনিবার (১৩ জুন) ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার মায়ের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণসহ একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলমকে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা ও ভাই জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মেসে রান্নাবান্নার কাজ করত। সে সুবাদে কিশোরীও সেখানে মাঝে মধ্যে যাতায়াত করতো। 

ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, সে যখন স্কুলে বা বিকালে দোকানে যেতো, তখন খোরশেদ আলম তদন্ত কেন্দ্রের পাশের রাস্তার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে প্রায়ই বাসার তিনতলার ব্যালকনি থেকে ডাকতেন। প্রথম দিকে ভুক্তভোগী ভয়ে যেতো না। পরবর্তীতে বাসার ঘর ঝাড়ু দেওয়া, কাপড় ধোয়া এবং বিছানা ঠিক করার অজুহাতে ডেকে নেওয়া হতো। বাসায় ডেকে নিয়ে খোরশেদ আলম তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। কিশোরী এতে বাধা দিলে তাকে ও মাকে একেবারে মেরে ফেলার হুমকি দেন। ধর্ষণের পর তাকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য ৫০০ বা ১০০০ টাকা দিয়ে বিদায় করা হতো এবং 'মোবাইল' কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হতো। 

লোকলজ্জা ও সামাজিক মানসম্মানের ভয়ে ভুক্তভোগী প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানায়নি উল্লেখ করে বলেন, সর্বশেষ ৫ জানুয়ারি বিকালে কিশোরীর মা খোরশেদ আলমের বাসার দরজার সামনে গিয়ে ভুক্তভোগীকে ডাকলে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ধমক দিয়ে বাথরুমে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য করেন এবং তার মাকে মিথ্যা কথা বলে বিদায় করে দেন। পরবর্তীতে রাতে মা তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে কিশোরী সব সত্য ঘটনা খুলে বলেন। 

কিশোরীর মা বলেন, আমার মেয়েকে ধর্ষণের বিষয়টি আমরা পুলিশের হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারকে জানিয়েছিলাম। এ বিষয়ে তার কাছে লিখিত জবানবন্দিও দিয়েছি। কিন্তু তিনি টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছেন। স্থানীয় রাকিব ও স্বর্ণকার কবির নামে দুই জন পুলিশের পক্ষ নিয়ে আমাদের থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছিল। আমরা এখন ভয়ে বাড়িতে যেতে পারি না। গত চার মাস ধরে আমরা পালিয়ে বেড়াচ্ছি। 

তবে অভিযোগের বিষয়ে আইসি খোরশেদ আলমের বক্তব্য জানা যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন,  অনেক আগে এ ধরনের একটি অভিযোগ উঠেছিল। তখন এই অভিযোগের ভিত্তিতে হাতিয়া সার্কেল কর্মকর্তা একটি তদন্ত করেছিলেন। তদন্তে এর সত্যতা মেলেনি বলে জানতে পেরেছি। কিন্তু রবিবার (১৪ জুন) আবার এই ধরনের একটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বর্তমানে কোনও লিখিত কিংবা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী কিশোরী কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকেও আমার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি।

নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনা সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

সাকিব/খাদিজা রুমি

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে যুবক আটক, বিএসএফের মারধরের অভিযোগ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে যুবক আটক, বিএসএফের মারধরের অভিযোগ
ছবি: খবরের কাগজ

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে জুলফিকার (২২) নামে এক বাংলাদেশি যুবককে আটক করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ভারতের সীমান্তরক্ষীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যার আগে দর্শনা-গেদে আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক জুলফিকার দর্শনা জয়নগর গ্রামের কালু মৌলভীর ছেলে। তিনি দর্শনা পৌর এলাকার রামনগর বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, শনিবার বিকেলের দিকে কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় লাকড়ি কুড়াতে যান জুলফিকার। এ সময় চেকপোস্টের মাঝামাঝি এলাকা থেকে বিএসএফ তাকে ধাওয়া করে আটক করে। 

তার সঙ্গে থাকা আরও দুই-তিনজন পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও জুলফিকারকে বিএসএফ সদস্যরা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, জুলফিকার দর্শনা-গেদে সীমান্তের রেললাইনের পাশে ভারতীয় অংশে থাকা নিরাপত্তা বেষ্টনী কাটার চেষ্টা করছিল। এ সময় বিএসএফ তাকে আটক করে এবং পরবর্তীতে ভারতীয় পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে ভারতীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।

মিজানুর রহমান/তামান্না রুপা/

রংপুরে চিকিৎসককে মারধর: মায়ের মরদেহ পেতে কান ধরে উঠবস যুবকের

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩২ এএম
রংপুরে চিকিৎসককে মারধর: মায়ের মরদেহ পেতে কান ধরে উঠবস যুবকের
রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসককে মারধরের পর পরিচালকের কার্যালয়ে রিফাত হোসেনের কান ধরে উঠবস করার দৃশ্য। —ছবি: খবরের কাগজ

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে রোগীর ছেলে রিফাতের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে।

স্বজনদের দাবি, একপর্যায়ে অভিযুক্ত রিফাত হোসেনকে কান ধরে ওঠবস করানোর পর মায়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে। এর আগে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হাসপাতালে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

রোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে রংপুর নগরের নিউ জুম্মাপাড়া এলাকার মাহবুবুর রহমানের স্ত্রী নুর নাহার বেগমকে (৫৫) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় অক্সিজেন দেওয়ার কথা বললে চিকিৎসকরা ভর্তির কাজ সম্পন্ন করে আসার পরামর্শ দেন। এর মধ্যেই রোগীর মৃত্যু হয়।

এ সময় চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মৃতের ছোট ছেলে রিফাত। একপর্যায়ে রিফাত ও চিকিৎসকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডা. নাঈম বকশীকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। একপর্যায়ে শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন তারা।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, নুর নাহার বেগমের মৃত্যুর পরও তার মরদেহ হাসপাতালের আইসিইউতে আটকে রাখা হয় এবং রোগীর স্বজনদের দেখতে দেওয়া হয়নি। পরে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তুলে বাড়িতে নেওয়ার সময় কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী বাধা দেন। একপর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স থেকে মরদেহ নামিয়ে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনেরা।

শনিবার দুপুরে হাসপাতালের মর্গের সামনে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের দেখা যায়। এ সময় তারা চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার দাবি করেন।

তবে মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেন ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আসিফ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। তবে কোনো মরদেহ আটকে রাখা হয়নি।”

একপর্যায়ে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত রিফাত হোসেন হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে অবস্থান করছেন- এমন খবর পান চিকিৎসকরা।

পরে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় অভিযুক্ত রিফাত হোসেনকে প্রকাশ্যে কান ধরে ওঠবস করানোর দাবিতে তারা স্লোগান দিতে থাকেন। পরবর্তীতে পরিচালকের কার্যালয়ের ভেতরে রিফাতকে কান ধরে ওঠবস করানোর পর তার মায়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অন্যদিকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবিতে স্বজনরা মহাসড়ক অবরোধ করেন।

এ সময় নুরুজ্জামান রিন্টু বলেন, “ভোরবেলা থেকে এখন পর্যন্ত মায়ের মুখটা দেখতে পারলাম না। মারা যাওয়ার পরও মা কষ্ট পাবেন, এটা ভাবতে পারিনি। আমি আমার মায়ের লাশ দাফন করতে পারছি না। সরকারি মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে এসে যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে মানুষ কীভাবে আসবে? আমি আমার মায়ের লাশ চাই।”

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, “হাসপাতালে যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক। রোগীটিকে শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আনা হয়। আনার পরই তিনি মারা যান। সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছি, সেখানে ডাক্তারের কোনো ভুল ছিল না। কোনো কারণ ছাড়াই সামনে থাকা ডাক্তারকে মারধর করা হয়েছে।”

মরদেহ আটকে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মরদেহ আটকে রাখার বিষয়টি সঠিক নয়। পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে সেখানে অনেক লোকজন ছিল, ফলে মরদেহটি গাড়িতে তোলা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। সবার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছু সময় মরদেহটি মর্গে রাখা হয়। পরে আমরা মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা অভিযোগ করব, এজাহার দেব। অভিযুক্তকে পুলিশের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে।”

শনিবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, “এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”

সেলিম সরকার/আজহার