মহেশপুর-যশোর হাইওয়ে সড়কটি ঝিনাইদহের মহেশপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে মহেশপুর উপজেলার হুদোর মোড়-বেলেমাঠ বাজারের মাঝামাঝি অবস্থিত কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ায় ওই রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এখানে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। এতে করে পথচারীরা পড়েছেন বিপাকে। সড়কটি পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে। এই সড়কে অসাবধানতায় যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা।
মহেশপুরের স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী আব্দুর রহমান খবরের কাগজকে জানান, কালভার্টটি প্রায় আট মাস হয় ভেঙে গেছে। সড়কটি তাই চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। দিন-রাতে অপরিচিত লোকজন দূর্ঘটনার শিকারও হচ্ছেন।
প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ ওই সড়ক দিয়ে জেলা ও উপজেলা শহরে যাতায়াত করেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্যও সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহেশপুর উপজেলাবাসীর যশোরের সঙ্গে যোগাযোগের এই সড়কটিই একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু কালভার্টটি সংস্কার না হওয়ায় মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এটিকে প্রশাসনের গাফিলতি মনে করছেন।
কালভার্টটির দুই পাশ ধসে গিয়ে বড় বড় দুটি গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর মাঝখান দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে বাস-ট্রাকসহ অন্যান্য ভারী যানবাহন চলাচল করছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে। এটি দ্রুত মেরামত না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
পথচারী স্কুলশিক্ষক নাজির উদ্দীন খবরের কাগজকে বলেন, বিভিন্ন যানবাহনসহ শত শত পথচারীকে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। এটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ট্রাকচালক তরিকুল ইসলাম, ইমতিয়াজ হোসেন এবং ট্রলিচালক আকাশ মিয়া খবরের কাগজকে বলেন, ‘কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় আমাদের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক চালাতে হয়।’ অটো ভ্যানচালক জাফর আলীরও একই অভিযোগ। তারা সবাই বলছেন, শত শত গাড়িচালককে ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় শিক্ষক খসরুল আলম খবরের কাগজকে বলেন, ‘কালভার্টের ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা চলাচল করছে। দীর্ঘদিন হয়ে যাওয়ায় কালভার্টের ধসে যাওয়া অংশটি বড় হয়ে গেছে। এতে ঝুঁকি আরও বাড়ছে। কালভার্টটি দ্রুত মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’
মহেশপুর উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ শাহারিয়ার আকাশ খবরের কাগজকে জানান, উপজেলার হুদোর মোড়-বেলেমাঠ বাজারের রাস্তাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের। এ বিষয়ে তাদের কিছুই করার নেই।
মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়াসমিন মনিরা খবরের কাগজকে জানান, কালভার্টটির বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগকে জানানো হয়েছে। দ্রুতই সংস্কার করা হবে।