ঠাকুরগাঁও জেলায় গত কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশা ও মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনের বেলাতেও সূর্যের দেখা নেই। ঘন কুয়াশার কারণে সড়কপথে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে চালকদের হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে। তীব্র হিমেল হাওয়া শীতের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে গেছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর এবং কৃষকরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
সদর উপজেলার কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ‘কুয়াশার কারণে আলু ও ধান খেতে পচন ধরার আশঙ্কা করছি। ফসল বাঁচাতে কী করব বুঝতে পারছি না। এমন শীতে মাঠে কাজ করাও কঠিন।’ দিনমজুর রহিম উদ্দিন বলেন, ‘শীতের কারণে কাজে যেতে পারছি না। বাড়িতে বসে থাকলে সংসার চালানো যাবে না, আর বাইরে গেলে হাত-পা অবশ হয়ে আসে। কাজ না করলে পেট চলবে কীভাবে?’
শহরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, ‘এবারের শীত অন্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি কষ্টদায়ক। বিশেষ করে শিশু এবং বৃদ্ধরা ভীষণ কষ্ট পাচ্ছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি আমাদেরও একে অপরের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’
আবহাওয়াবিদ জুলফিকার আলী জানিয়েছে, কুয়াশার ঘনত্ব এবং নিম্ন তাপমাত্রার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দিনের তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে এসেছে, যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, আগামী কয়েকদিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন দরিদ্র মানুষ। তাদের শীতবস্ত্রের অভাব রয়েছে। শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয়দের সহায়তা প্রয়োজন। শহরের ‘বাতিঘর’ নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা নিজেদের উদ্যোগে কিছু শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন। তবে তীব্র শীতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে আরও বড় আকারে উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
শীতের এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন শিশু ও বৃদ্ধদের পরিবারগুলো। শহরের বাসিন্দা শাহিনুর বেগম বলেন, ‘আমার দুই সন্তান শীতে ভুগছে। বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে কোনো রকমে দিন পার করছি। বাজারে শীতবস্ত্রের দাম বেশি হওয়ায় কেনা সম্ভব হচ্ছে না।’
জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করেছি। দরিদ্র ও শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সড়কপথে দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, শীতার্তদের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।