ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
চকরিয়ায় সৌদিয়া বাস উল্টে আহত ৭ আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হবে ঈশ্বরগঞ্জে কৃষকদের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে আগুন অসংক্রামক রোগের আগ্রাসন মোকাবিলায় ৩৫ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে অভ্যন্তরীণ রুটে ১৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় গুজব মোকাবিলায় ফ্যাক্ট-চেকিং সেল ২৪ ঘণ্টা সক্রিয়: তথ্যমন্ত্রী শিবপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই মেশিন বিতরণ সাতকানিয়ায় মিলল মহাবিপন্ন হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১৬টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নোবিপ্রবিতে শিক্ষামন্ত্রী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনবল নিয়োগ, পদ ১১১ মালয়েশিয়া থেকে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাঙ্গায় শিক্ষার্থীর সঙ্গে অসদাচরণ, মাদরাসাশিক্ষক আটক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধরিয়ে দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা রাবি ছাত্রদলের বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রামগঞ্জে স্কুলছাত্র মেহেদী হত্যা মামলায় হল সুপারসহ গ্রেপ্তার ২ স্কটল্যান্ডকে হালকাভাবে নিচ্ছে না ব্রাজিল: লুকাস পাকুয়েতা আনোয়ার ইব্রাহিমের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেরপুরে পিকআপভর্তি ভারতীয় মদসহ আটক ৩ হাসানুল হক ইনুর মামলার রায় ৩০ জুন চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল প্রজন্মের বিশ্বকাপ উন্মাদনা পরিসংখ্যানের প্রশ্ন এড়াতে স্বচ্ছতা আনতে চায় সরকার: জুনায়েদ সাকি মামাবাড়ি থেকে ফেরার পথে ড্রেনে পড়ে শিশুর মৃত্যু সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বাড়ছেই রাজশাহীতে রেস্তোরাঁয় হামলা: সাবেক শিবির নেতাসহ ৩০ জনের নামে মামলা তাহিরপুরে ঢলে ঘরের সঙ্গে ভেসে গেছে মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণ জাইমা রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য করা যুবক গ্রেপ্তার মঙ্গল ও চাঁদে অভিযানের জন্য নাসার নতুন রোভার আরনেস্ট

হাত বদলেই চড়া ইলিশের দাম

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:০১ পিএম
হাত বদলেই চড়া ইলিশের দাম
খবরের কাগজ

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সেকৃবি) উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মাৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা সামছুজ্জামান ও তার গবেষণা টিমের মাধ্যমে সম্প্রতি দেশের ইলিশ আহরণ, বাজারজাতকরণ ও বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর একটি জরিপভিত্তিক গবেষণাকর্ম পরিচালিত হয়। গবেষণায় উঠে এসেছে ইলিশের দাম না কমার অনেক অজানা তথ্য। গবেষণা দলের তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, ইলিশ আহরণ থেকে শুরু করে বাজারে সরবরাহ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব এবং ইলিশ বাজারজাতকরণে তদারকি সংস্থার দুর্বলতা ও যথাযথ নজরদারির অভাবের কারণে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও দাদনব্যবস্থা ইলিশের দাম বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। সাম্প্রতিক সময়ে জেলে, আড়তদার, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা এবং ভোক্তা পর্যায়ে প্রায় ৩১৭ জন ব্যক্তির ওপর জরিপ করে এসব তথ্য জানা গেছে। 

গবেষণায় দেখা যায়, জেলে থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে ইলিশ অন্তত ৪-৫ বার হাত বদল হয়। হাত বদলের প্রতিটি ধাপে মধ্যস্বত্বভোগীদের দ্বারা মুনাফা যোগ হওয়ায় প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৮০০-৯০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। বরিশালে জেলেরা ৮০০-৯০০ গ্রাম সাইজের প্রতি কেজি ইলিশ ৮০০-১০০০ টাকায় বিক্রি করলেও আড়তদাররা সেটা ১০০০-১২০০ টাকায় এবং সর্বশেষে খুচরা বিক্রেতারা সেগুলো ১৬০০-১৭০০ টাকায় বিক্রি করেন। জ্বালানি তেলের দাম, শ্রমিক মজুরি, পরিবহন এবং সংরক্ষণ খরচ বৃদ্ধিও ইলিশের দামের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বরিশাল থেকে ঢাকায় এক ট্রাক ইলিশ পরিবহনে তিন বছর আগে খরচ হতো ১৮-২০ হাজার টাকা, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫-৩০ হাজার টাকারও বেশি। বরফ সংরক্ষণ এবং প্যাকেজিং বাবদ প্রতি কেজিতে ১৫০-২০০ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়। এ ছাড়া দাদনের কারণে জেলেদেরকে আড়তদারদের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে মাছ বিক্রি করতে হয়। তথ্য উপাত্ত থেকে আরও জানা যায়, অবৈধ পথে ইলিশ পাচার হয়ে যাওয়াও একটি বড় সমস্যা। সাধারণত সমুদ্রপথে সীমান্ত এলাকা দিয়ে এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অন্য মাছের সঙ্গে মিস ডিক্লারেশন দিয়ে রপ্তানির মাধ্যমে ইলিশ পাচার করে থাকে। সেই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার সময়ে ভারতীয় জেলেদের এদেশের জলসীমা থেকে বিনা বাধায় মাছ ধরার অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, কিন্তু ভারতে ১৫ এপ্রিল হতে ১৪ জুন অর্থাৎ জুন-জুলাইয়ের এই সময়টায় ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ ধরা অব্যাহত রাখে। এর ফলে দেশের জেলেরা নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী সময়েও আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

ইলিশ বিপণনের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের প্রভাব বর্তমানে এতটাই শক্তিশালী যে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকার বাজারে ইলিশের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রেও ইলিশের দাম বেড়ে যায়। এভাবে সিন্ডিকেট ইলিশের ভরা মৌসুমেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। জেলেরা মাছ ধরার মৌসুমে ৪-৫ বার সাগরে যেতে পারলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশগত সমস্যা, অনাবৃষ্টি, সমুদ্রে নিম্নচাপ, জোয়ার ভাটা, ডুবোচর, বালু জমে নদীর মোহনা ভরাটসহ নদীগুলোর নাব্য হারানো, নদী ও সমুদ্রের দূষণ, বাঁধ-সেতুসহ নানা অবকাঠামো ইলিশ মাছের প্রজনন ও বৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে এর আহরণ কমে গেছে। এরপরও গত এক দশকে ইলিশের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। 

গবেষণা কাজে নিয়োজিত উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মাৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মো. আকিমুন হাসান রাফি খবরের কাগজকে বলনে, মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী যদিও ইলিশ বাংলাদেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের ১২ শতাংশ যোগান দেয়, কিন্তু, যথাযথ বাজার ব্যবস্থাপনার অভাব এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যর কারণে সাধারণ মানুষের পাতে ইলিশ পৌঁছা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। এক্ষেত্রে সরকারের উচিত হবে জেলেদের সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার খরচ কমিয়ে আনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং প্রকৃত জেলেদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা। ডিজেলের খরচ কিছুটা কমিয়ে আনা যেতে পারে এবং পাইকারি ও খুচরা বাজারের সব ধরনের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। পাশাপাশি ইলিশসম্পদ রক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে ব্যানিং সিজনে (মাছ ধরার নিষিদ্ধ সময়ে) বাংলাদেশের জলসীমার ভেতরে অবৈধভাবে ভারতীয় জেলেরা যাতে মাছ ধরতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে।

প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা সামসুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, ‘ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ এবং নবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি আয় ও আমিষ সরবরাহে ইলিশের গুরুত্ব অপরিসীম। ইলিশ ধরা লাভজনক হলেও লাভের অসম বণ্টন, পক্ষপাতমূলক, অসাম্য ও শোষণমূলক ব্যবস্থা এবং ইলিশ আহরণে ব্যাপক খরচ এ সমস্যা সমাধানের প্রধান অন্তরায়। তা ছাড়া সমুদ্রগামী একটি ট্রলারে ৮-১০ দিনে ১০-১৫ জন জেলের জন্য জ্বালানি, বরফ, খাদ্য-দ্রব্য ইত্যাদি বাবদ ৩-৫ লাখ টাকা খরচ হয়। জেলেদের দেওয়া তথ্যমতে, একটি ট্রলারে ২০ মণের (৮০০ কেজি) কম মাছ ধরা পড়লে সব খরচ মেটানোর পর আর কোনো লাভই থাকে না, ক্ষেত্রবিশেষে লোকসানও হয়ে থাকে।

বাজারে ইলিশ মাছের দাম নাগালের মধ্যে না থাকার অনেক কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইলিশ মাছের দাম বৃদ্ধির কারণ হলো চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা, নদী ও সমুদ্রের ইলিশের মধ্যে স্বাদের পার্থক্য, মোকামে আসার আগেই সাগরে হাতবদল হয়ে যাওয়া, আড়তদার/মহাজনের কাছ থেকে দাদন নেওয়া ও তাদের কাছেই বাধ্যতামূলকভাবে কম দামে মাছ বিক্রি করা, কুলিভাড়া, ভ্যানভাড়া ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়া, অবৈধ জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে ছোট-বড় ইলিশ আহরণ, দেশীয় ট্রলিং জাহাজগুলোর তীরবর্তী অল্প গভীরতায় মাছ আহরণ, ভরা মৌসুমে আড়তদারদের কোল্ডস্টোরেজে বেশি বেশি মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা এবং পরবর্তী সময়ে সেসব ইলিশ বিভিন্ন বাজারে চড়া দামে বিক্রি বা চোরাচালান করা, বিত্তবানদের নিজেদের খাওয়ার জন্য সারা বছর ফ্রিজে ইলিশ মজুত করে রাখা, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, বরফের মূল্য ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি। এ ছাড়াও রয়েছে প্যাকিংয়ের বাক্স, হোগলাসহ অন্যান্য উপকরণ খরচ, ভারতে রপ্তানির ঘোষণা, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে ইলিশের ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আহরণ খরচ বৃদ্ধিসহ নানা কারণেও ইলিশের দাম বাড়ছে। ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার থেকে শুরু করে জেলে, মহাজন, আড়তদার, পাইকার, খুচরা ব্যবসায়ী হয়ে ক্রেতা পর্যন্ত ক্ষেত্রভেদে চার থেকে পাঁচ হাত ঘুরে ইলিশ ভোক্তার হাতে পৌঁছায় এবং প্রতি হাতবদলে প্রায় ১০-১৫ শতাংশ করে ইলিশের দাম বৃদ্ধি পায়। ফলে চূড়ান্তভাবে ক্রেতার নিকট পৌঁছাতে একটি ইলিশের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।

ইলিশের দাম কমাতে কার্যকরী পদক্ষেপের প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরবরাহ চেইন আধুনিকায়ন করা, মাছ সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও পরিবহন নিশ্চিতকরণ, পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। জেলেদের হরেক-রকম খরচ, যেমন- ডিজেলের দাম, জাল, সুতা ও রশির দাম কমাতে ভর্তুকি দেওয়া। ইলিশ মাছের চাহিদা ও প্রাপ্যতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগ জরুরি। সমন্বিতভাবে বাজার মনিটরিং করলে মূল্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। সেক্ষেত্রে জেলা মৎস্য বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্মিলিতভাবে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করতে পারে। তা ছাড়াও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো দাম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বাংলাদেশে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ডের ব্যাপকভাবে সমুদ্রসীমা পাহারা দেওয়ার অপ্রতুলতার কারণে ভারতের জেলেরা ৩৮ দিন বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ ধরে নেওয়ার সুযোগ পায়। কাজেই ভারতে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশে একই সময়ে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা জারি হলে এ সমস্যার লাঘব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসন যদি ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র ও জেলেদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে পারে তাহলে ইলিশের বর্তমান খুচরা উচ্চমূল্য থেকে অনেক কম দামে ইলিশ বিক্রি সম্ভব। ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র থেকে শুরু করে খুচরা বাজারের ক্রেতা পর্যন্ত জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান একযোগে পরিচালনা করলে সুফল পাওয়া যাবে। ঋণ ব্যবস্থা সহজীকরণ করা উচিত; যাতে জেলে, ট্রেডার এবং আড়তদাররা সরকার এবং এনজিওর কাছ থেকে সহজ শর্তে ও কম সুদে ঋণ পেতে পারে। বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে সরাসরি জেলেদের কাছ থেকে উন্মুক্ত ডাকে ইলিশ কেনার ব্যবস্থা করা উচিত। এ ছাড়াও জেলেদেরকে কো-অপারেটিভ সোসাইটি তৈরিতে উৎসাহিত করতে পারলে তাদেরকে আর মহাজনদের কাছ থেকে দাদন নিতে হবে না, যা ইলিশের দাম কমাতে সহায়ক হবে। তদুপরি নৌপথে পরিবহন করলে এক ট্রাক সমপরিমাণ ইলিশে পরিবহন খরচ প্রায় ৩০০০ টাকা পর্যন্ত কমানো সম্ভব, যদিও এক্ষেত্রে নৌকা ঘাট থেকে আড়ত পর্যন্ত লোড-আনলোড করার জন্য কিছুটা বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ ছাড়াও টেকসই ইলিশ বিপণন ব্যবস্থার জন্য সরকারি পর্যায়ে একটি নীতিমালা থাকা আবশ্যক। 

প্রধান গবেষক ইলিশ আহরণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবহন ও সংরক্ষণ খরচ কমানোর জন্য কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করেছেন। পাশাপাশি, দাদন প্রথা দূর করতে জেলেদের জন্য বিকল্প আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আরও মনে করেন যে, ইলিশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় বাজার ব্যবস্থাপনা ও নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। গবেষণাটিতে আরও কাজ করেছেন, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ইফতেখার আহমেদ ফাগুন। গবেষণা কার্যক্রমটি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্স সিস্টেমের (সাউরেস) অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়েছে। 

চকরিয়ায় সৌদিয়া বাস উল্টে আহত ৭

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
চকরিয়ায় সৌদিয়া বাস উল্টে আহত ৭
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার আজিজনগর গয়ালমারা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ‘সৌদিয়া পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে গিয়ে অন্তত সাতজন যাত্রী আহত হয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন)ভোর ৬টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বৃষ্টির কারণে সড়ক পিচ্ছিল থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজারগামী সৌদিয়া পরিবহনের বাসটি ভোরে গয়ালমারা এলাকায় পৌঁছালে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ভোরে বৃষ্টি হওয়ার কারণে মহাসড়কের ওপর মাটি ও পানি মিশে সড়ক অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে পড়েছিল। চাকা পিছলে যাওয়ায় চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং বাসটি সড়কের ওপর উল্টে যায়।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ও চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করে। বাসটির ভেতর থেকে গুরুতর আহত ৭ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

বানিয়ারছড়া হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফুল আমিন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করে। দুর্ঘটনাকবলিত সৌদিয়া পরিবহনের বাসটিকে জব্দ করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।

রাকিবুল/রিফাত/

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে আগুন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে আগুন
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) একটি আরটিজি-৪০১৪ (রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি) ক্রেনে আগুন লেগেছে। পরে একঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আরটিজি হচ্ছে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর যন্ত্র।

সোমবার (২২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে এনসিটির তিন নম্বর জেটিতে আগুন লাগে।

জানা গেছে, আগুন লাগার খবর পেয়ে নগরের বন্দর ফায়ার স্টেশন থেকে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভাতে কাজ শুরু করে। পরে নৌবাহিনীর একটি দলও আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত হয়। এ সময় ঘটনাস্থলের কাজ সাময়িক বন্ধ ছিল।

বন্দর ফায়ার স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মো. মোনেম বিল্লাহ জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে একটি আরটিজি ক্রেনের ইঞ্জিন থেকে আগুনটি লাগে। দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনের তাপে চারটি কনটেইনার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নাসির উদ্দিন জানান, দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে ক্রেনে আগুনের সূত্রপাত হয়। বন্দর ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি দলও যুক্ত হয়। বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় ও লাভজনক টার্মিনাল এনসিটি। এটিতে চারটি জেটি রয়েছে এবং বন্দরের মোট কনটেইনারের প্রায় অর্ধেক হ্যান্ডলিং করা হয় এই টার্মিনাল দিয়ে। এই টার্মিনালে একসঙ্গে ছোট-বড় মিলিয়ে পাঁচটি জাহাজ ভেড়ানো যায়। ২০০৭ সালে ৭০০ কোটি টাকা খরচ করে টার্মিনালটি নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা খরচ করে ১৪টি কি গ্যান্ট্রিক্রেনসহ আধুনিক ইকুইপমেন্ট স্থাপন করা হয়। এর আগে গত বছরের ১ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে এনসিটিতে আমদানি করা যন্ত্রাংশের একটি কনটেইনারে আগুন লেগেছিল।

নাঈম/

সাতকানিয়ায় মিলল মহাবিপন্ন হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
সাতকানিয়ায় মিলল মহাবিপন্ন হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় বস্তাবন্দি অবস্থায় একটি মহাবিপন্ন হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। পরে কচ্ছপটিকে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়।

সোমবার (২২ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের সামনে থেকে কচ্ছপটিকে উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, বাজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের সামনে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা দাঁড়িয়েছিল। চালক একটি দোকান থেকে খাবার খেয়ে অটোরিকশায় ওঠার সময় সামনের সিটের পাশে বস্তাবন্দি অবস্থায় কচ্ছপটি দেখতে পান। এরপর স্থানীয়রা বড়দুয়ারা বিট কাম চেক স্টেশন কর্মকর্তাকে খবর দেন। পরে তারা এসে হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপটি উদ্ধার করে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রথমে এটাকে সাধারণ কচ্ছপ মনে করেছিলাম। পরবর্তীতে বন বিভাগের লোকজনদের মাধ্যমে জানতে পারি, এটি মহাবিপন্ন হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ। এরপর আমরা সেটিকে বন বিভাগের হাতে তুলে দিয়েছি।

বড়দুয়ারা বিট কাম থেকে স্টেশন কর্মকর্তা মো. ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, এটি মূলত মহাবিপন্ন প্রজাতির হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ। সাধারণত এরা ডাঙায় বসবাস করে। উদ্ধারের পরপরই কচ্ছপটিকে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আবমুক্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বন বিভাগ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএনের হিসাবে বাংলাদেশে মোট ৩০ প্রজাতির কচ্ছপ পাওয়া যায়। এদের মধ্যে হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ একটি মহাবিপন্ন প্রজাতি। এরা বেশিরভাগ সময় ডাঙাতেই থাকে।

আরিফুল ইসলাম/নাঈম

ভাঙ্গায় শিক্ষার্থীর সঙ্গে অসদাচরণ, মাদরাসাশিক্ষক আটক

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
ভাঙ্গায় শিক্ষার্থীর সঙ্গে অসদাচরণ,  মাদরাসাশিক্ষক আটক
মাদরাসা শিক্ষককে উদ্ধার থানায় নিয়ে যাওয়ার সময়। ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাদরাসা পড়ুয়া তৃতীয় শ্রেণির এক মেয়ে শিক্ষার্থীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরের দিকে উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের ভরিলহাট নেছারিয়া দাখিল মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত আমির হোসেন ওই মাদরাসার সহকারী শিক্ষক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ছুটির পর এক শিক্ষার্থীকে উপহার দেওয়ার কথা বলে তার সঙ্গে অসদাচরণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

সোমবার সকালে শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও স্থানীয়রা মাদরাসায় গিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করেন। এ সময় শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় মাদরাসার সামনে থাকা কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে থানায় নিয়ে যায়৷

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, 'খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনকেবি নয়ন/আজহার/

রামগঞ্জে স্কুলছাত্র মেহেদী হত্যা মামলায় হল সুপারসহ গ্রেপ্তার ২

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
রামগঞ্জে স্কুলছাত্র মেহেদী হত্যা মামলায় হল সুপারসহ গ্রেপ্তার ২
ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে স্কুলছাত্র মেহেদী হত্যা মামলায় ফরিদ আহাম্মদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হলের সুপার ও দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

সোমবার (২২ জুন) তাদের মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে  আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত ১৮ জুন মেহেদীর বাবা জিয়া উদ্দিন একাডেমির অধ্যক্ষসহ দুই শিক্ষক ও ১৫ জন ছাত্রের নাম উল্লেখ করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে রামগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। 

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফিরোজ উদ্দীন চৌধুরী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যহত রয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন, আবাসিক হল সুপার ও সহকারী অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম (৪৮) ও ফরিদ আহাম্মদ ভূঁইয়া একাডেমির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. সাজিদুল ইসলাম মজুমদার ওরফে মাহি (১৯)।

ফরিদ আহাম্মদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হলে দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রের আইফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদীসহ কয়েকজন ছাত্রকে চোর আখ্যা দিয়ে মারধর করে। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবাসিক হলের বারান্দা থেকে মেহেদীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিদ্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও বিক্ষোভ করেন। মেহেদীর খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী,  বিদ্যালয় এর অভিভাবক  ছাত্রছাত্রীরা মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিল করেন।

রফিকুল ইসলাম/তামান্না রুপা/