নরসিংদীর রায়পুরা থেকে সাগর পথে লিবিয়া পাড়ি জমায় নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার ছয় যুবক। সেখান থেকে গত ২৫ জানুয়ারি আবারো নৌ পথে ইতালি যাত্রা শুরু করেন তারা, এমনই দাবি করে যুবকেদের স্বজনরা। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে লিবিয়া থেকে চোরাই পথে ইতালি যাওয়ার পথে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ হয়েছেন তারা।
নিখোঁজ ছয় যুবক হলেন হলেন- রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের গৌরীপুর এলাকার কালু মিয়ার ছেলে মোস্তাক আহমেদ, জয়নগর এলাকার নান্নু মিয়ার ছেলে আশিক মিয়া, মহেশপুর ইউনিয়নের সাপমারা এলাকার সাদেক মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়া, তুলাতলী এলাকার লিটন মিয়ার ছেলে ইমরান হোসেন, বেগমাবাদ ঝাউকান্দি এলাকার আব্দুল ছালামের ছেলে সায়েম মিয়া, আরশ মিয়ার ছেলে রাকিব হোসেন। নিখোঁজদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস নরসিংদীর সহকারী কর্মকর্তা এ কে এম দাউদুল হকে সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, নরসিংদীর কোনো যুবক নিখোঁজ বা ট্রলার ডুবিতে মারা গেছে, বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষ থেকে এমন কোনো বার্তা আমরা পাইনি। এছাড়া নিখোঁজ স্বজনদের কেউ আমাদের কাছে আসেনি।
নিখোঁজের স্বজনরা জানান, স্থানীয় একটি দালালচক্র প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে কর্মী পাঠাচ্ছে ইতালিতে। লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরীর পথ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) দৃষ্টিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। গত ২৫ জানুয়ারি রায়পুরার ওই ছয় যুবকসহ ৪৫ জন নিয়ে ভূমধ্যসাগরে ডুবে যায় একটি ট্রলার। এরপর থেকেই তারা নিখোঁজ রয়েছেন। তারা বেঁচে আছেন না কি মারা গেছেন, জানেন না পরিবারের সদস্যরা। তবে ২০ বাংলাদেশির মরদেহ পাওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।
নিখোঁজ পরিবারের সদস্যরা বলেন, প্রবাসী তোফাজ্জল ও কবিরের মাধ্যমে লিবিয়ার উদ্দেশে ২৫ জানুয়ারি পাড়ি দেন ওই ছয়জন। কিন্তু ঘটনার আটদিন পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।
নিখোঁজ জুয়েলের বাবা সাদেক মিয়া বলেন, গার্মেন্টসকর্মী ছিলেন জুয়েল। লিবিয়া প্রবাসী বড় ভাই কালামের মাধ্যমে ওই দেশে যান তিনি। সেখানে তোফাজ্জলের মাধ্যমে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালি যাওয়ার চুক্তি হয়। ২৪ জানুয়ারি জুয়েলের সঙ্গে শেষ যোগাযোগ হয়েছিল তার পরিবারের। এরপর থেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। একই অবস্থা আশিক, মুস্তাক, রাকিব ও ইমরানের। ইতালি যাওয়ার পথে তারাও ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানায় তাদের পরিবার।
নিখোঁজদের সন্ধান পেতে লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসসহ প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা চান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
রায়পুরা উপজেলা উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ট্রলারডুবিতে ২০ বাংলাদেশি নিহতের খবর শুনেছি। সেখানে ওই ছয়জন আছে কি না নিশ্চিত নয়। এ ব্যাপারে আমরা খোঁজ নিচ্ছি। মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া অবৈধ পথে বিদেশে পাড়ি না জমানোর জন্যও বিভিন্ন সময় আমরা সচেতনতামূলক সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছি।
শাওন খন্দকার শাহিন/মাহফুজ