মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার রায়জাদাপুর গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা শাফিউল্লাহ মেছবাহ। ২০১৩ সালে পড়াশোনা সূত্রে ঢাকায় আসা যাওয়ার পথে পরিচয় হয় তুরস্কের নাগরিক তাহসিন ইয়াজানের সঙ্গে। এরপর থেকে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে বন্ধুত্বের সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের জেরে মাওলানা শাফিউল্লাহ মেছবাহর গ্রামের মানুষকে সহায়তার কথা বলেন তাহসিন ইয়াজান। সেই থেকে আজ পর্যন্ত প্রতি রমজান মাসে খাদ্যসামগ্রী ও কোরবানির ঈদে গরুর মাংস বিতরণ করে আসছেন তিনি।
‘জাহেদি ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে এ বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন তুরস্কের এই নাগরিক। সেই ধারাবাহিকতায় রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রায়জাদাপুর গ্রামে আট শতাধিক দরিদ্র পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। এ ছাড়া ছয় দরিদ্র পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য ৫০০ ডলার করে সহায়তা করেন। এর পাশাপাশি অন্য দরিদ্রদের নগদ অর্থ দেন তিনি। খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আটা, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি ডাল ও ১ কেজি তেল বিতরণ করেন।
খাবার নিতে আসা রায়জাদাপুর গ্রামের বাসিন্দা অলিউল্লাহ বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে এভাবে তুরস্কের নাগরিকের দেওয়া খাবার পেয়ে আসছি। রোজার আগে পাওয়া এ খাবারগুলো আমাদের জন্য অনেক উপকার হবে।’
খাবার নিতে আসা মোছা. হালিমা বলেন, ‘শাফিউল্লাহ আমাদের জন্য প্রতিবছরই বিদেশি নাগরিকের দেওয়া খাবার বিতরণ করেন। কোরবানির সময় মাংস দেন তিনি।’
এদিকে এ কাজে স্বেচ্ছায় শ্রম দিতে আসা কেরামত উল্লাহ বলেন, ‘এমন একটি মহৎ কাজের সঙ্গে থাকতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। ভবিষ্যতেও এমন কাজের সঙ্গে থাকতে চাই।’
ঘরের জন্য টাকা পাওয়া পরিবারের সদস্যরা বলেন, ‘আমাদের ভাঙাচোরা ঘর দেখে তিনি আমাদের ৬০ থেকে ৬২ হাজার করে টাকা দিয়েছেন।’
বিতরণের আয়োজনে থাকা মাওলানা শাফিউল্লাহ মেছবাহ বলেন, ‘২০১৩ সালে ঢাকায় যাওয়া আসার পথে তুরস্কের এই নাগরিক তাহসিন ইয়াজানের সঙ্গে আমার পরিচয়। এরপর তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তিনি আমার এলাকার দরিদ্র মানুষকে সহায়তার কথা বলেন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিবছরই আমার গ্রামের দরিদ্র মানুষের মধ্যে রমজান মাসে খাদ্য সহায়তা দিয়ে আসছি। এ ছাড়া কোরবানি ঈদে ১০ থেকে ১২টি গরুর ক্রয় করে সেই মাংস বিতরণ করি। আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি যে, তার মাধ্যমে গ্রামবাসীর জন্য অন্তত কিছু করতে পারছি।’
খাবার বিতরণের আগে তুরস্কের নাগরিক তাহসিন ইয়াজান বাংলাদেশের মানুষের মঙ্গল কামনা করে দোয়া করেন। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের নাগরিকদের জন্য দোয়া করেন তিনি। এ ছাড়া তুরস্কের মানুষের জন্য ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টের জন্য দোয়া চান।