রাঙামাটির সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে ৯৪টি রিসোর্ট, দোকানঘর, রেস্টুরেন্ট ও বসতঘর পুড়ে গেছে। আগুনের তীব্রতা থাকায় প্রায় ৫ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সক্ষম হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এ ঘটনায় সাজেকে পর্যটক গমনের ওপর সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।
স্থানীয়রা জানান, সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে ইকো ভ্যালি নামক একটি রিসোর্ট থেকে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে আগুনের ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকের ধারণা, রান্নাঘরের সিলিন্ডার অথবা শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। অনেকে মনে করছেন, সিগারেটের আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত।
তবে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ইমতিয়াঝ ইয়াসিন এক প্রেস বার্তায় জানিয়েছেন, শর্টসার্কিটের মাধ্যমে সাজেক অবকাশ ম্যানুয়েল রিসোর্টসহ পার্শ্ববর্তী রিসোর্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এতে পর্যটনকেন্দ্রের এক পাশে পুড়ে যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১২০ থেকে ১৪০টির বেশি রিসোর্ট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি আগুনে পুড়ে গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় লোকজন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও তাৎক্ষণিক তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন। বাঘাইছড়ি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস না থাকায় খাগড়াছড়ি সদর, পানছড়ি, দীঘিনালাসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১১টি ইউনিট খবর পেয়ে রওনা দেয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সাজেক পৌঁছাতে আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। এরপর তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তাদের বেগ পেতে হয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তারা। এ ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুন লাগার ঘটনায় সাজেকে অবস্থান করা পর্যটকদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দেয়। পরে সাজেকে থাকা পর্যটকদের নিরাপদ প্রহরায় খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুবর্ণ দেববর্মণ জানান, ভয়াবহ আগুনে ৩২টি রিসোর্ট, ৩৫টি বসতঘর (ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ১৯টি ও লুসাই ১৬টি), ২০টি দোকান ও ৭টি রেস্টুরেন্ট পুড়ে গেছে। এতে থাকা মালামালের কিছুই রক্ষা করা যায়নি।
খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক মোহাম্মদ জাকের হোসেন জানান, বিকেল ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও আগুন যাতে অন্যত্র ছড়াতে না পারে সে জন্য পানি ছিটানো হচ্ছে। তবে সাজেক পর্যটনটি পাহাড়ের ওপর হওয়ায় পানির সংকটে পড়তে হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ বলেন, পর্যটক গমনের ওপর সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এয়ারফোর্সের সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় হেলিকপ্টারের দরকার পড়েনি। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা হবে।