পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় আগুনে পুড়ে আজেলা খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া সাত কৃষকের বাড়ি আসবাবপত্রসহ ভস্মিভূতসহ মারা গেছে ১৩টি ছাগল ও হাঁস-মুরগি।
বুধবার (৫ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আসনা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পরে ঈশ্বরদী শহর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সদস্য ও এলাকাবাসীর চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
নিহত আজেলা খাতুন কৃষক জিয়ারুল ইসলামের স্ত্রী।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁড়া ইউনিয়ন পরিষদ সচিব শহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, 'বেলা ১১টার দিকে ইউনিয়নের আসনার পূর্বপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান কাদিরের বাড়িতে প্রথমে আগুন লাগে। এর পর আশপাশের বাড়িতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসকে আগুন লাগার খবর জানানো হয়। তবে তারা আসতে দেরি করে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসীর চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে পুড়ে কৃষক জিয়ারুল ইসলামের স্ত্রী আজেলা বেগম নিহত হয়েছেন। মারা গেছে দুই কৃষকের ১৩টি ছাগল ও হাঁস-মুরগি। আগুনে আব্দুর রহমান কাদিরসহ আশপাশের ৭ বাড়ির ২৭টি কক্ষসহ আসবাবপত্র পুড়ে ভস্মিভূত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার বেশি।'
ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ মীর আমিরুল ইসলাম বলেন, বেলা ১১টা ১৮মিনিটে খবর পেয়ে আগুন নেভানোর জন্য আমরা রওনা হই। কিন্তু পথে রেলগেটে আটকা পড়ায় ঘটনাস্থলে পৌঁছতে ১০ মিনিট দেরি হয়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আগুন তখনো জ্বলছিল। এর পর গ্রামবাসীর সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুতের সটসার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। আগুনে পুড়ে আজেলা খাতুন নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে দাফনের জন্য গৃহবধূর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবীর কুমার দাশ ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
জাহাঙ্গীর/মেহেদী/