নাটোর শহরের কান্দিভিটুয়া এলাকায় ডিসির পরিত্যক্ত বাসভবনে রাখা বিপুল পরিমাণ ব্যালট উদ্ধার হলো পাশের বাঁশঝাড়ের গর্তে। ওই ব্যালটের সংখ্যা বা পরিমাণ নিরুপণে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। এর সঙ্গে আরও পাওয়া গেছে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের পুরাতন কিছু তার ও কম্পিউটার সামগ্রী।
ব্যালটগুলো গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। ওই সময়ে নাটোরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসক আবু নাছের ভূঞা।
নাটোর এনএসআই ডিডি ফয়সাল আহমেদ জানান, ওই স্থানের পাশেই একটি পুকুর থেকে শনিবার (২৯ মার্চ) ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়। ওই পুকুরে আরও অস্ত্র বা গুলি পাওয়া যায় কিনা তা অনুসন্ধানে শনিবার সকাল থেকেই পুকুরের পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। দুপুরের দিকে হঠাৎ তাদের নজরে আসে ওই ব্যালট। খবর পেয়ে রাজশাহীর উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান, নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) একরামুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নাটোর সদর সার্কেল) মাহমুদা শারমীন নেলি, নাটোর সদর থানার ওসি মাহবুর রহমান, জেলা প্রশাসন ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওই সময় জেলা প্রশাসনের নির্দেশে মাটি খুঁড়ে বস্তা বস্তা ব্যালট উত্তোলন শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, উদ্ধার ব্যালটের বেশির ভাগই সিল দেওয়া। বেশির ভাগ ব্যালট দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ওই বিষয়ে দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের।
তথ্যমতে, ওই ভবনে গত প্রায় তিন দশক থেকে কোনো জেলা প্রশাসক বসবাস করেননি। ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার সন্দেহ, গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির ব্যালটই হয়তো ওইভাবে পুঁতে রাখা হয়েছে। বিষয়টির সঠিক তদন্ত করে রহস্য উন্মোচনের দাবি করেন তারা।
এবিষয়ে জানতে চাইলে শনিবার (২৯ মার্চ) বিকালে নাটোর জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, যে ব্যালেট পেপারগুলো পাওয়া গেছে, তা সব দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালেট। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ব্যালেট পেপারের যে স্থায়ীত্বকাল তা ৬ মাস। ইতোমধ্যে ওই সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশনারের পক্ষ থেকে টেন্ডারও হয়ে গেছে। বাকী ব্যালেট পেপার নিয়েও গিয়েছে। এগুলো আমাদের ট্রেজারিতে রাখা ছিল। গত উপজেলা নির্বাচনের সময় জায়গার সংকুলান না হওয়ায় ডিসির ওই পরিত্যক্ত ভবনে রাখা হয়। তবে কারা ওই ব্যালটগুলো পুঁতে রাখলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তার দাবি, নির্বাচন অফিস থেকে যে টেন্ডার হয়েছে, ওই টেন্ডারের অর্থও পাঠানো হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ব্যালটের সঙ্গে পাওয়া তারসহ কম্পিউটার সামগ্রী জেলা প্রশাসনের অব্যবহৃত পুরাতন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নাটোর চারটি আসনের কোথাও নির্বাচন নিয়ে কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়নি। এতে ভোট জালিয়াতির প্রশ্ন উত্থাপন যথাযথ নয়।
নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, প্রায় একশ বস্তা ব্যালেট পেপার উদ্ধার করা হয়। তবে ব্যালট সংখ্যা বা পরিমাণ পরবর্তী সময়ে গণনা করে জানা যাবে। ওই বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে করণীয় ঠিক করা হবে।
কামাল মৃধা/মাহফুজ