মৌলভীবাজার শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও হাটবাজারের অলিগলিতে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার অবৈধ অটোরিকশায় ছেয়ে গেছে। প্যাডেলচালিত রিকশার সংখ্যা দিন দিন কমলেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা। কী পরিমাণ ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে, তার সঠিক হিসাব পাওয়া মুশকিল। তবে প্রতি মুহূর্তে যে হারে লাইন বেঁধে সড়কে রিকশাগুলো ছুটছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে, শহরে ১ হাজারেরও বেশি অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলছে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ছয়-সাত মাসে শহরে প্রবেশ করেছে দুই-তিন গুণ রিকশা। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকেও প্রতিদিন শহরে প্রবেশ করছে অগণিত রিকশা। এসব বাহনের গতি প্যাডেলচালিত রিকশার চেয়ে অনেক গুণ বেশি হওয়ায় দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকে। এ ছাড়া চালকদেরও নেই দক্ষতা। ফলে সড়কে অহরহ ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীদের অনেকেই সময় বাঁচাতে টমটম, প্যাডেলচালিত রিকশাসহ অন্য যানবাহন এড়িয়ে এসব বাহন বেছে নিচ্ছেন। এ রিকশাগুলো সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দ্রুতগতিতে সড়কে চলতে গিয়ে কখনো নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। অনেক সময় ডান-বাম না দেখে কিংবা কোনো ধরনের সিগনাল না মেনে রিকশা যেখানে সেখানে ঘুরাতে গিয়ে উল্টে যায়। গত মার্চ মাসে ব্যাটারিচালিত রিকশা উল্টে গুরুতর আহত হন চালক মইনুল মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি যাত্রী নামিয়ে রিকশা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ মুখোমুখি আরেক রিকশা চলে আসায় ব্রেক ধরতে না পারিনি। আমার রিকশা উল্টে যায়। এতে আমার ডান হাত ভেঙে যায়।’
শহরের চাঁদনীঘাট এলাকায় কথা হয় ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক জামিল মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘শহরে এসব রিকশা চালানো অবৈধ। তবুও পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাই। পায়ে সমস্যা থাকায় প্যাডেলচালিত রিকশা চালাতে পারি না।’
সূত্রে জানা যায়, শহরের চাঁদনীঘাট, বড়হাট, ঢাকা বাসস্ট্যান্ড, বড়কাপন, রঘুনন্দনপুর, ধরকাপন, সমশেরনগর সড়ক, কাজিরগাঁও ও চুবড়া এলাকায় এসব রিকশার গ্যারেজ রয়েছে। গ্যারেজে রাতের বেলা ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত চার্জ দেওয়া হয় প্রতিটি রিকশা। এতে প্রতিদিন উৎপাদিত বিদ্যুতের একটা অংশ চলে যাচ্ছে। সাধারণত একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানোর জন্য ১২ ভোল্টের চারটি ব্যাটারি প্রয়োজন হয়।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গড়ে প্রতিটি রিকশার জন্য মাসে অন্তত ৩ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। সব মিলিয়ে এক হাজার রিকশার জন্য প্রতি মাসে খরচ হচ্ছে তিন হাজার কিলোওয়াট বিদ্যুৎ। জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জোনাল কার্যালয়ের জিএম মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধ সংযোগ দিয়ে চার্জ দেওয়ার বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কী পরিমাণ ব্যাটারিচালিত শহরে চলছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে মৌলভীবাজার ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মারিকুল ইসলাম বলেন, ‘সঠিক পরিসংখ্যান আমাদের কাছে নেই।’ এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন বলেন, ‘যানজট নিরসনসহ ব্যাটারিচালিত রিকশার বিষয়ে পৌরসভাসহ সবার সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’