ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ব্রাজিলের কাছে হেরেও ফুটবলারদের নিয়ে গর্বিত হাইতির কোচ বরকে মিষ্টিমুখ করাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচা শ্বশুরের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ২ চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চট্টগ্রামে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার সাতকানিয়ায় মাদরাসায় হামলা ও দেওয়ালে জয় বাংলা লেখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মোহনগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আত্মসমর্পণ এআই ক্যামেরা বন্ধের পেছেন কি তবে ‘ইঁদুরের হাত’ অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু রামপুরায় গুলিবিদ্ধ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্লা পলাশের’ মৃত্যু টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা ৮০তম জন্মদিন ঘিরে ট্রাম্পের ভাগ্যে বড় পরিবর্তনের আভাস জ্যোতিষীদের ৯০ মিনিট খেলতে এখনও প্রস্তুত নন ইয়ামাল ৪৮ লাখ টাকা খরচ করে বিয়ে, ৯ দিন পর বিচ্ছেদ চাইলেন যুবক টাঙ্গাইলে সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৪ জনের কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ আব্দুস সাদেক আর নেই ফেনী স্টেশনে মেঘনা ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের ভোগান্তি ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নস্যাৎ করতে পারেন নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা তুরস্কের হারে নকআউটে যুক্তরাষ্ট্র নওগাঁর আম আমদানি করতে চায় জাপান বিশ্বকাপ থেকে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিল হাইতি টাঙ্গাইলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ৫০ লাখ টাকার সরকারি অনুদান হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬১ হাজার ৬৯৭ হাজি দেশে আরও কমল স্বর্ণের দাম প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি আজ ‘লম্বা মেয়েদের’ প্রশংসা পাওয়ার দিন আনচেলত্তির সন্তুষ্টি, স্কটল্যান্ড ম্যাচেই ফিরছেন নেইমার কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প জি-৭ সম্মেলনের ‘আমি বস’ মন্তব্য ছিল শুধুই মজা, বললেন ট্রাম্প চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা তুমুল হট্টগোল, জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে ‘চুপ থাকতে’ বললেন ইসরায়েলি দূত

বছর বছর ফেলে রেখে ক্যাথল্যাব যাচ্ছে চট্টগ্রামে

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৫, ১০:১৮ এএম
বছর বছর ফেলে রেখে ক্যাথল্যাব যাচ্ছে চট্টগ্রামে
মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় চার বছরের বেশি সময় ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা কোটি টাকার ক্যাথল্যাব। খবরের কাগজ

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত দুটি অত্যাধুনিক ক্যাথল্যাবের মধ্যে একটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। মানিকগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, হৃদরোগের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারা এই মেশিনগুলো চালু করে জেলার চিকিৎসাসেবায় নতুন দ্বার উন্মোচন করার। অথচ বছরের পর বছর প্রশিক্ষিত জনবল না থাকার অজুহাতে ক্যাথল্যাব দুটি চালু করা হয়নি। এখন একটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে জেলাজুড়ে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, এই জেলা কি তবে গুরুত্বহীন? প্রায় ১৬ লাখ মানুষের জন্য হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসাসেবা কি শুধুই স্বপ্ন হয়ে থাকবে? ক্যাথল্যাব স্থানান্তরের আদেশ বাতিল করে দ্রুত সেবা চালুর দাবি স্থানীয়দের।

গত ৮ মে পাঠানো মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সেখানে চিকিৎসাসেবা জোরদারে উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর অংশ হিসেবে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুটি ক্যাথল্যাবের মধ্যে একটি উপযুক্ত ক্যাথল্যাব চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার উপসচিব মো. শাহাদত হোসেন কবির এই নির্দেশনা জারি করেন।
মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে ১৯ কোটি টাকা দামের দুটি ক্যাথল্যাব। ২০২০-২১ অর্থবছরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ট্রেড হাউস ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এইচটিএমএস নামের প্রতিষ্ঠান দুটি ক্যাথল্যাব সরবরাহ করে। কিন্তু দক্ষ জনবল সংকটের কারণে এতদিনেও এনজিওগ্রাম ও হার্টের রিং বসানোর এসব মেশিন চালু করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মন্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে এই জেলার মানুষদের হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়ে উচ্চ ব্যয়ে সেবা নিতে হচ্ছে। অথচ নিজ জেলার হাসপাতালে সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহারযোগ্য না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। এর মধ্যে একটি ক্যাথল্যাব স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত মানিকগঞ্জবাসীর প্রতি চরম অবিচার।

মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন খান বলেন, ‘আমরা সাধারণ মানুষ ভালো চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ছোটাছুটি করি। নিজের জেলায় যদি এই ধরনের প্রযুক্তি থাকে, তাহলে তা চালু না করে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত মানা যায় না। এটা আমাদের প্রতি অবিচার।’

নুরুল আমিন নামে একজন বলেন, ‘আমি নিজেও হৃদরোগে ভুগছি। চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে বলেছেন। অথচ আমাদের জেলায় দুই-দুইটা ক্যাথল্যাব ছিল- কিন্তু সেগুলো ব্যবহার হয়নি! এটা কেবল অব্যবস্থাপনা নয়, এটা চরম ব্যর্থতা। এখন আবার একটাকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মানে হলো মানিকগঞ্জের মানুষের জীবনের মূল্য নেই? এটা অত্যন্ত লজ্জার বিষয়।’

আনোয়ার চৌধুরী নামে পৌর শহরের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘সরকার এত টাকা খরচ করে এই প্রযুক্তি দিয়েছে। পরে সেগুলো ব্যবহারের ব্যবস্থা না করে বছরের পর বছর ফেলে রাখা হয়। এখন অন্যত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত এসেছে। এ থেকে বোঝা যায়, আমাদের জেলাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। দুটি ক্যাথল্যাবই মানিকগঞ্জে থাকা জরুরি। কারণ জেলার জনসংখ্যা ও রোগীর চাপ দিন দিন বাড়ছে।’

জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সদস্য অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এমন সিদ্ধান্ত আসা এই জেলার জন্য এক ধরনের বিপর্যয়। যখন রোগীদের জীবন রক্ষাকারী একটি প্রযুক্তি বছরের পর বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকে, আর শেষে তা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়- তখন প্রশ্ন ওঠে ব্যবস্থাপনার দায়ভার কার? যারা এতদিন ক্যাথল্যাব দুটি চালু করতে পারেননি, তারাই এ সমস্যার জন্য দায়ী।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস বলেন, ‘মানিকগঞ্জ জেলা ঢাকার পার্শ্ববর্তী হলেও স্বাস্থ্যসেবার মান খুবই নাজুক। তারপরও মেডিকেল কলেজের কল্যাণে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তাতে জেলার মানুষ আশাবাদী হয়েছিল। কিন্তু এই হাসপাতালের ক্যাথল্যাব অন্যত্র স্থানান্তরের উদ্যোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি মনে করি, এটা কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার ফল।’

তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাই মানিকগঞ্জবাসীর স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সেটাকে বিবেচনা করে ক্যাথল্যাব এখানেই রেখে দ্রুত চালুর ব্যবস্থা করা হোক।’

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে থাকা দুটি ক্যাথল্যাব থেকে একটি ক্যাথল্যাব চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুটি ক্যাথল্যাব স্থাপনের পর প্রশিক্ষিত জনবলের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে তা চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে আমি যোগদানের পর থেকেই এটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি। জনবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই একটি ক্যাথল্যাব চালু হবে।’

বরকে মিষ্টিমুখ করাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচা শ্বশুরের

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০১:০০ পিএম
বরকে মিষ্টিমুখ করাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচা শ্বশুরের
ছবি: সংগৃহীত

নড়াইলে ভাইয়ের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে গেটে বরকে মিষ্টিমুখ করানোর সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে নকুল মল্লিক (৫২) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার মুশুড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, বরকে মিষ্টি খাওয়ানোর সময় অসাবধানতাবশত আলোকসজ্জার একটি ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুতের তারে নকুল মল্লিকের হাত লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নকুল মল্লিককে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসকদের ধারণা, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই অসাবধানতামূলক দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলার প্রস্তুতি চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তামান্না রুপা/

চট্টগ্রামে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
চট্টগ্রামে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার
র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি আলী আকবর। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বহুল আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি আলী আকবর (২৬)-কে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম। সীতাকুণ্ড থানার ছিন্নমূল ১নং সমাজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার (২০ জুন) র‍্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, 'আগের দিন রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে গত ২২ জানুয়ারি সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলার তদন্তে আলী আকবরের নাম উঠে আসে।​ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব জানতে পারে যে, আসামি আলী আকবর জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অবস্থান করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।​

আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। 

টাঙ্গাইলে সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৪ জনের

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
টাঙ্গাইলে সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৪ জনের
ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত সেফটিক ট্যাংকে পড়ে যাওয়া ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার টেলকি জলই গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন গ্রাব্রিয়েল নকরেক (৪৫), রতন নকরেক (২৫), বাবলু হাদিমা (৩৫) এবং নেইমার ম্রং (১০)। তারা সবাই উপজেলার জলই গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের সদস্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে একটি ছাগল বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত সেফটিক ট্যাংকের মধ্যে পড়ে যায়। ছাগলটিকে উদ্ধার করার জন্য প্রথমে গ্রাব্রিয়েল নকরেক ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিছুক্ষণ অতিবাহিত হলেও তিনি আর উপরে উঠতে না পারায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধারের জন্য একে একে রতন নকরেক, বাবলু হাদিমা এবং শিশুপুত্র নেইমার ম্রং ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিন্তু তারাও আর ফিরে আসতে পারেননি।

একপর্যায়ে স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পেরে মধুপুর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তাদের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ট্যাংকের ভেতর থেকে চারজনকে উদ্ধার করে।

মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, সেফটিক ট্যাংক, কূপ কিংবা গভীর গর্তে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা মিথেন, হাইড্রোজেন সালফাইড ও অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাস মানুষের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া এসব স্থানে নামা মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুর হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়, ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

জুয়েল/আমান

ফেনী স্টেশনে মেঘনা ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের ভোগান্তি

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৫১ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
ফেনী স্টেশনে মেঘনা ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের ভোগান্তি
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ফেনী রেলস্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকা পড়েছেন অন্তত ৮০০ যাত্রী। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। 

শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ৮টায় ট্রেনটি ফেনী জংশনে প্রবেশের সময় ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। 

রেলওয়ে সূত্র জানায়, স্টেশনে পৌঁছানোর পর ইঞ্জিনের মোটরে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। পরে মোটরে আগুন লাগার আশঙ্কা দেখা দিলে নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেনটি স্টেশনের ডাউন লাইনে থামিয়ে রাখা হয়।

দীর্ঘ সময় ট্রেন আটকে থাকায় অনেক যাত্রী স্টেশনে নেমে বিকল্প পরিবহনের খোঁজ করেন।

লাকসাম থেকে চট্টগ্রামগামী যাত্রী একরামুল হক বলেন, ’সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ট্রেনে উঠেছি। ফেনীতে এসে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বসে আছি। অনেক যাত্রী ট্রেন ছেড়ে সড়কপথে চলে যাচ্ছেন।’

আরেক যাত্রী সাহেদা বেগম বলেন, ’এতক্ষণে চট্টগ্রামে পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। দুই সন্তান নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এখানে আটকে পড়ে খুব ভোগান্তিতে পড়েছি।’

ফেনী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ হারুন জানান, চট্টগ্রাম থেকে বিকল্প ইঞ্জিন আনা হচ্ছে, যা ইতোমধ্যে ফৌজদারহাট অতিক্রম করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিন অপসারণের পর ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

তিনি আরও জানান, ফেনী থেকে যেসব যাত্রীর এই ট্রেনে ওঠার কথা ছিল, তাদের কেউ কেউ টিকিট ফেরত দিয়ে বিকল্প পরিবহনে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তবে মেঘনা এক্সপ্রেস একটি লাইনে আটকে থাকলেও পাশের দুটি লাইন সচল থাকায় অন্যান্য ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

তোফায়েল নিলয়/খাদিজা রুমি/

নওগাঁর আম আমদানি করতে চায় জাপান

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৩১ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
নওগাঁর আম আমদানি করতে চায় জাপান
নওগাঁর আম বাগান পরিদর্শন করেছে জাপানের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা/ছবি: খবরের কাগজ

নওগাঁর বেশ কয়েকটি আম বাগান পরিদর্শন করেছে জাপানের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের যৌথ প্রতিনিধিদল। পরিদর্শন শেষে দলটি নিরাপদ আম উৎপাদন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। সুযোগ পেলে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ আম জাপানে আমদানি করতে চান তারা।

শনিবার (২০ জুন) নওগাঁর পোরশা উপজেলার ছাওড় ও তেঁতুলিয়া এলাকার দুটি রপ্তানিযোগ্য আমবাগান পরিদর্শন শেষে এমন প্রত্যাশার কথা জানায় জাপানের ব্যবসায়ীরা।

জাপানি ওই প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন জাপানি ব্যবসায়ী কাওয়ামতু, সাকাকিবারা, ইশিমটু ও শিগিমরি। এ ছাড়া পরিদর্শনের সময় জাপানি প্রতিনিধিদলটির সাথে আবু সাঈদ নামে এক বাংলাদেশী আম রপ্তানীকারকও ছিলেন।

ছাওড় এলাকার ম্যাংগো ফার্ম নামে একটি বড় বাগান পরিদর্শন শেষে জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সদস্য কাওয়ামতু বলেন, মূলত বাংলাদেশে জাপানের দূতাবাসের আমন্ত্রণে তারা রাজশাহী ও নওগাঁ অঞ্চলে রপ্তানিযোগ্য বেশ কিছু আমবাগান পরিদর্শন করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় নওগাঁর আমবাগানেও এসেছেন। জাপানে সুমিষ্ঠ আমের ব্যপক চাহিদা রয়েছে। সেই দিক মাথায় রেখে বাংলাদেশ থেকে আম রপ্তানির বিভিন্ন পর্যায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সব পক্ষ রাজি থাকলে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ আম নেওয়া হবে। মূলত বাংলাদেশের রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের প্রশংসা করেন তারা।

কাওয়ামতু বলেন, তারা জেনেছেন মাটির গুনগত মানের কারনে নওগাঁর আম খুবই সুমিষ্ট। এই এলাকায় বেশ কিছু রপ্তানীযোগ্য আম বাগান রয়েছে। চাষিরাও রপ্তানীতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আর তাই এখানে উৎপাদিত সুস্বাদু ফ্রেশ আম তারা জাপানে বাজারে নিতে চান।

এর ঠিক আগের দিন প্রতিনিধি দলটি নওগাঁর পোরশা উপজেলার বন্ধুপাড়া এলাকার ফ্রুটস মিউজিয়াম এগ্রো ফার্ম নামে একটি রপ্তানিযোগ্য আমবাগান পরিদর্শন করেন। এরইমধ্যে নওগাঁ ছাড়াও রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানিযোগ্য আমবাগান পরিদর্শন করেছেন তারা।

জাপানি ব্যবাসায়ী প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রপ্তানিযোগ্য আমবাগান পরিদর্শন ছাড়াও তারা কয়েকটি জেলায় আম গ্রেডিং, শর্টিং ও শোধনকেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখছেন। পরিদর্শন শেষে তাঁরা বাংলাদেশ থেকে আম আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেন। আর এতে খুশি বাগানমালিক ও উদ্যোক্তারা।

বাগান পরিদর্শনের সময় ম্যাংগো ফার্ম এর মালিক আনিছুর রহমান, স্থানীয় সোহেল, সালাউদ্দিন ও পোরশা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজা উপস্থিত ছিলেন।

আম চাষি সালাউদ্দিন জানান, নওগাঁয় উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে জাপানি প্রতিনিধিদলকে ধারণা দেওয়া হয়েছে। গত বছর থেকে চিনে আম রপ্তানী হচ্ছে। এছাড়া কয়েক বছর ধরেই নওগাঁ থেকে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের আম যাচ্ছে। তবে এ বছর প্রথম জাপানের বাজারে দেশের আম রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জাপানে আম রপ্তানি করা গেলে স্থানীয় আমচাষিরা অনেক লাভবান হবেন।

পোরশা উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, নওগাঁ কৃষি বিভাগ সব সময় আম চাষিদের পাশে আছে। নিরাপদ আম উৎপাদনে স্থানীয় চাষিদের পরামর্শ ও সহযোগীত দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রপ্তানীচ্ছু চাষিদের আলাদা করে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল আমবাগানগুলো পরিদর্শন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। আশা করা হচ্ছে খুব শিঘ্রই তারা নওগাঁর আম জাপানের বাজারে নেবেন।

হারুন/এএফ