বরগুনায় নিম্নচাপের প্রভাবে নদ-নদীতে পানির উচ্চতা বেড়ে প্লাবিত হয়েছে সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের ডালভাঙা গ্রাম। সেখানে একটি রিং বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় কয়েক শতাধিক পরিবার এখন পানিবন্দী।
শুক্রবার (৩০ মে) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায় এমনই চিত্র।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বুধবার রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত নদীর পানি ৩ থেকে ৪ ফুট বেড়েছে। এর জেরে ডালভাঙার রিং বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে গিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এলাকাটি প্রথমে বৃহস্পতিবার জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। তবে শুক্রবার পানি আরও বাড়ায় বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা বেড়েছে। ডালভাঙার পাশের মাঝের চর এবং ১০ নম্বর নলটোনা ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকার বেড়িবাঁধও রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকিতে। তাই স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে জোয়ারের পানি বেড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। রান্নার চুলাও নষ্ট হয়ে গেছে মানুষের। জোয়ার হলে এখন আর ঘরে থাকতে পারি না। আশপাশে কোনো আশ্রয়কেন্দ্রও নেই যে সেখানে উঠতে পারি।
মো. বাসার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, সমুদ্রে নিম্নচাপ হলে নদীর পানি বেড়ে যায়। তাতেই জোয়ারে এলাকা তলিয়ে যায়। এটা প্রতিবছরই হয়। পরিবার নিয়ে আমরা আতঙ্কে থাকি। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে পানির মধ্যেই থাকতে হয়। গবাদি পশু রাখার মতোও শুকনো জায়গা নেই।
মাছেরখাল এলাকার জেলে শাহ আলম বলেন, জোয়ারে পানি উঠতেছে আবার ভাটার সময় তা নামতেছে। রাস্তাও ধসে গেছে। হেঁটে যাওয়ারও উপায় নেই। দ্রুত পানি ঠেকানোর ব্যবস্থা দরকার।
বরগুনার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বরগুনার ছয়টি উপজেলায় ৪২টি ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভা এই দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে কয়েকটি এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। আনুমানিক ২৫ হাজার পরিবার দুর্যোগে পড়েছে এবং ২০০ ঘরবাড়ি আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে কোথাও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অতিবৃষ্টিতে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। তবে এখন পানি কিছুটা নেমেছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, রিং বেড়িবাঁধ উপচে পানি ঢোকার খবর পেয়েছি। বরগুনা সদর উপজেলার ইউএনও ইতোমধ্যে এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। জোয়ারের পানি কমলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহিউদ্দিন অপু/মাহফুজ