ছবি: খবরের কাগজ
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে দীর্ঘদিনের শ্বশুর-জামাই দ্বন্দ্বের জেরে মারধর ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চাচা শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৯ জুন) শ্বশুরসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে নালিতাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী। এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের বাদলাকুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, বাদলাকুড়া গ্রামের মহর উদ্দিনের মেয়ে মরিয়ম খাতুনের সাথে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে সোরহাব হোসেন বাবুর বিয়ে হয়। বিয়ের কয়দিন পর থেকেই স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুর মহর উদ্দিনের বাড়িতে বসবাস করছিলেন তিনি। এর কিছুদিন পর তাদের মধ্যে পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধ তৈরি হয়। এরইমধ্যে জামাই বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে শ্বশুর মহর উদ্দিনকে মোট ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেন বলে দাবি করেন জামাই। এসব নিয়েই তাদের বিরোধ দিন দিন আরও জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার এসব টাকার হিসাব ও টাকা ফেরত চাইলে শ্বশুরের সাথে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে শ্বশুরপক্ষের লোকজন সোরহাব হোসেনকে আটক করে একটি নারিকেল গাছের সাথে শিকল দিয়ে বেঁধে মারধর করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। খবর পেয়ে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরে আহত অবস্থায় সোরহাব হোসেনকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শ্বশুর ও শাশুড়িও আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শ্বশুর মহর উদ্দিন দাবি করেন, জামাই আগে তার ওপর হাত তুলেছেন এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার অভিযোগ, ঘটনার দিন জামাই প্রথমে শ্বশুরের ওপর হামলা চালান, এরপর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় এই ঘটনা ঘটে।
নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, টাকা-পয়সা নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তাদের প্রায়ই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন তিনি।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান জানান, ভুক্তভোগীর স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় শ্বশুরসহ জড়িতদের আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
শাকিল মুরাদ/এসএন