এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসসংকট দেখা দিয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। চট্টগ্রামের গ্যাস ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। আবাসিকেও ভোগান্তি শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুরে অনেকেই রান্নাবান্নার কাজ করতে পারেননি।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাতীয় গ্রিড থেকে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেজিডিসিএলের ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শফিউল আজম খান বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে সাগর উত্তাল থাকায় এলএনজি নিয়ে আসা জাহাজ টার্মিনালে নোঙর করতে পারছে না। আবহাওয়া খারাপ থাকায় টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে আবহাওয়া ভালো হলে আবার গ্যাস সরবরাহ চালু করা যাবে।’
নগরীর হিলভিউ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা বিবি আয়শা বলেন, ‘হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। খবর নিয়ে দেখি, আশপাশে কোথাও গ্যাস সরবরাহ নেই। পরে বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করি।’
এদিকে গ্যাসের জাতীয় সঞ্চালন লাইনে চাপ কমে যাওয়ায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আব্বাস উদ্দিন বলেন, ‘সকালে বালুচড়ার একটি গ্যাস ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিলাম। গাড়িতে গ্যাস না থাকায় আমদানিও তুলতে পারিনি। গাড়ি বের করে এনে এখন মাথায় হাত।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বাভাবিক সময় এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে যেখানে ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার কথা, বুধবার সন্ধ্যায় তা ১৯৫ মিলিয়নে নেমে এসেছে। ফলে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গ্যাসসংকট দেখা দিয়েছে।