সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পিয়াইন নদের ইজারাবিহীন বালুমহালের বালু ও বোমা মেশিনের যন্ত্রপাতি ধরা পড়েছে সুনামগঞ্জের ছাতকে। সেনাবাহিনীর পর্যবেক্ষণে বালুভর্তি ৯টি নৌযান ও বোমা মেশিনের যন্ত্রপাতি জব্দ করে সঙ্গে থাকা ৭ জনকে আটক করে নৌপুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) রাতে ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের এমদাদ নগর গ্রামের চৈলতার ঢালা-সংলগ্ন গোয়াপাকুরা হাওর এলাকায় ছাতক সেনাবাহিনী ক্যাম্পের মাধ্যমে নৌপুলিশ এ অভিযান চালায়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, জব্দ বালু পিয়াইন সিন্ডিকেটের। বালুমহালের ব্যবসাকে ঘিরে তৈরি হওয়া ‘পিয়াইন সিন্ডিকেট’ নিয়ে বুধবার খবরের কাগজে ‘বোমা মেশিনে বেহাল বালুমহালও!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ অভিযান হয়।
জানা যায়, বালুভর্তি ৯টি নৌযান (ট্রলার ও নৌকা) ও ৭ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। নৌযানগুলোতে ১১ হাজার ৬৯০ ঘনফুট বালু রয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জামালগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের রুবেল মিয়া, মো. মঈন উদ্দিন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কৌয়া গ্রামের বকুল দাস, একই উপজেলার ফুলভরী গ্রামের মো. নবাব মিয়া, ভীমখালি ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের মো. জসিম উদ্দিন পাঠান, ছোট বাইট্টা গ্রামের মো. মোশাহিদ ও সদরকান্দি গ্রামের মো. রমজান আলী।
বালুভর্তি ইঞ্জিনচালিত নৌযানসহ (স্টিলবডির নৌকা) সাতজনকে ছাতক নৌপুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নৌপুলিশের ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করে তাদের ছাতক থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। নৌযান ও যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, অস্ত্রের মহড়া দিয়ে দিনরাত অবৈধভাবে বোমা মেশিন ও ড্রেজার দিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলন করে সোনাই নদীসহ বিভিন্ন নৌপথ ব্যবহার করা হচ্ছিল। প্রতিদিন একেকটি পয়েন্টে ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত বালু লুট হচ্ছিল। যন্ত্রের কারণে নদীতীরের বাড়িঘর ও স্থাপনা এবং কয়েকশ একর ফসলি জমি ভাঙনের মুখে পড়েছে। গ্রামগুলো হচ্ছে দৌলতপুর, নাছিমপুর, শারপিননগর, রহিমের পাড়া, সোনাপুর, কাজিরগাঁও, পুর্ব লুভিয়া, চাইরগাঁও, রহমতপুর, দারোগাখালি, বাহাদুরপুর, গোয়ালগাঁও, নোয়াগাঁও।
সিলেট ও সুনামগঞ্জের ইজারাবিহীন বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কয়েকটি বালু সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের ছাতকে বিস্তৃত সিন্ডিকেটটি ‘পিয়ানই সিন্ডিকেট’ নামে পরিচিত। খবরের কাগজের অনুসন্ধানে প্রকাশ হয়েছে পিয়াইন সিন্ডিকেটের তৎপরতা। চক্রটি বালুমহাল থেকে বালু পরিবহনের জন্য সিলেটে একাধিক নৌপথ ব্যবহার করে। এর মধ্যে পিয়াইন-ইছাকলস-চেঙ্গেরখাল নৌপথের বেশি ব্যবহার হয়। সেখান থেকে গন্তব্য সুনামগঞ্জের ছাতক। পিয়াইন থেকে ছাতক পর্যন্ত পৌঁছে গেলে প্রতি ঘনফুট বালুর দর তিনগুণ বেড়ে যায়। ২৩ টাকা ঘনফুট দরের বালু হয়ে যায় ৭৭ টাকা। বালুমহাল থেকে পরিবহন এবং বোমা মেশিনসহ যাবতীয় যন্ত্র পরিচালনারও নিয়ন্ত্রক এই পিয়াইন সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটটি আগে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। এখন এই সিন্ডিকেটে বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র থেকে পিয়াইন সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক ১৪ জনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন- সুফি আলম সোহেল, টুটুল (গণেশপুর), ইয়াকুব আলী, উসমান খান, দেলোয়ার হোসেন জীবন, ইকবাল হোসেন আরিফ, জামাল উদ্দিন (বুড়িডহর), আলী আব্বাস, আলী বক্স, সোহেল রানা, আক্কাস আলী, আলমগীর আলম, আজমান আলী ও শওকত আলী।
সালমান/