পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে সিলেট জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় পাথরমহাল খুলে দেওয়ার চলমান আন্দোলনে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে প্রত্যাহারের দাবিটি যুক্ত করে সংবাদ সম্মেলন করেছে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্যপরিষদ।
ধর্মঘট নিয়ে নগরীর একটি হোটেলে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে ডিসি হটাও দাবি যুক্ত করে ৬টি দাবি ঘোষণা দেন সংগঠনের নেতারা।
৬টি দাবি হচ্ছে- সড়ক পরিবহন আইন ২-১৮ এর ৩৬ ধারা প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার বাস মিনিবাসের ক্ষেত্রে ২০, ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যানের ক্ষেত্রে ১৫ ও সিএনজি ইমা ও লেগুনার ক্ষেত্রে ১৫ বছর ইকোনোমিক লাইফ নির্ধারণ করার প্রজ্ঞাপন বাতিল; সিলেটের সব পাথরমহাল (কোয়ারি) ইজারা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও সনাতন পদ্ধতিতে বালুমহাল এবং পাথরমহাল খুলে দেওয়া; বিআরটিএ কর্তৃক গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র বাতিল ও গণপরিবহনের ওপর আরোপিত বর্ধিত ট্যাক্স প্রত্যাহার; সিলেটের সব স্টোনক্রাশার মিলের বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ বন্ধ, বিদ্যুতের মিটার ফেরত, ভাঙচুরকৃত মিলের ক্ষতিপূরণ; গাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া পাথর-বালুর ক্ষতিপূরণ ও বালু-পাথরসহ পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের হয়রানি না করা এবং সিলেটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে প্রত্যাহার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ বাস-মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সিলেটের গণপরিবহন-পণ্যপরিবহন ও পাথরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক-শ্রমিকরা ফ্যাসিস্ট সরকারের আমল থেকেই বিভিন্নভাবে বঞ্চিত অবহেলিত। আওয়ামী সরকারের মদদপুষ্ট একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের রোষানলে পড়ে সিলেটের কোটি মানুষের জীবনে নেমে আসে অবর্ননীয় দুর্ভোগ। ২০১৮ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয় সিলেটের সব পাথর কোয়ারি। বর্তমানে লাখ লাখ কর্মহীন মানুষের কারণে সিলেটে দুর্ভিক্ষাবস্থা বিরাজ করছে। অন্যদিকে রিজার্ভের বিলিয়ন ডলার খরচ করে বিদেশ থেকে পাথর আমদানি করা হচ্ছে। তারা পাথরমহাল খুলে দেওয়ার দাবিতে বারবার আন্দোলন সংগ্রাম করে ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পরেও তারা জুলুম নির্যাতন ষড়যন্ত্র থেকে রেহাই পাননি।
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৩৬ ধারায় যে প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে, তা মালিক-শ্রমিককে ধ্বংসের নীলনকশা দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একইভাবে গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া আরেক হয়রানি ও ষড়যন্ত্র। তাছাড়া গাড়ি তল্লাশির নামে পুলিশ ট্রাক-শ্রমিকদের প্রতিনিয়ত হয়রানি করছে।
এসব কারণে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস, ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান, সিএনজি, ইমা-লেগুনা ও পাথর সংশ্লিষ্ট মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ৬ দফা দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সিলেট জেলায় পরিবহন কর্মবিরতি (ধর্মঘট) আহ্বান করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম বলেন, দাবি আদায়ে আমরা পুলিশ কমিশনার, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়ে কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় ধর্মঘট আহ্বান করেছি।
অমিয়/