গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় দ্রুত ইপিজেড বাস্তবায়নের দাবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস সরকারকে স্মারকলিপি পাঠিয়েছে এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি পাঠানো হয়। স্মারকলিপি পেয়ে জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জেম আহমদ বলেন, ইপিজেড বাস্তবায়নের বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা। প্রস্তাবিত এই ইপিজেড থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে সৈয়দপুর বিমানবন্দর, ৩২ কিলোমিটার দূরে হিলি স্থলবন্দর এবং ৩৪ কিলোমিটার দূরে সম্প্রসারিত বগুড়া বিমানবন্দর অবস্থিত। এছাড়া প্রস্তাবিত ইপিজেড থেকে মহিমাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন ১৭ কিলোমিটার, গাইবান্ধা রেলওয়ে স্টেশন ৩২ কিলোমিটার এবং ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের দূরত্ব মাত্র ৭ কিলোমিটার। ফলে যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনের দিক থেকে এই ইপিজেড অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এ কারণে বেপজা এ স্থানকে গুরুত্ব দিয়েছে।
অথচ একটি মহল সাঁওতালদের ব্যবহার করে ইপিজেড নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা করছে। এদিকে প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় গোবিন্দগঞ্জের মানুষ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জস্থ রংপুর চিনিকলের জমিতে ইপিজেড স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর নাম দেওয়া হয় ‘রংপুর ইপিজেড’। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)-কে ইপিজেড বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। চিনিকলের আওতায় সাহেবগঞ্জ এলাকায় মোট ১,৮৪২ একর জমির মধ্যে ৪৫০ একর জমি বেপজাকে বুঝিয়ে দেয় চিনিকল কর্তৃপক্ষ। ইপিজেড স্থাপন হলে প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হবে, যেখানে সাঁওতালদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কিন্তু একটি মহল এর বিরোধিতা করছে।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন এলাকাবাসীর পক্ষে জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আবদুর রহিম সরকার, বর্তমান জেলা আমির আবদুল করিম, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সভাপতি আকরাম হোসেন, শিক্ষক আবুল হোসেন সরকার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম, সাংবাদিক সৈয়দ রোকনুজ্জামান, রুহুল আমিন রুবেল, রফিক খন্দকার, ময়নুল হুদা প্রমুখ।
রফিক খন্দকার/মাহফুজ