ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের খেলা নিয়ে সংশয় হাইতিকে ৩-০ গোলে হারাল ব্রাজিল টাইলস আমদানিতে ধস, কমেছে রাজস্ব আয় ব্রিটেনে উপনির্বাচনে বার্নহামের জয়, চ্যালেঞ্জের মুখে স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্ব ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত চা-শ্রমিকরা রাজধানীতে আবাসিক হোটেলে সৌদিপ্রবাসীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য গফরগাঁওয়ে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে মৃত্যু শেবাচিমে মোবাইলের আলোয় আইসিইউ সেবা উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালাতে ইরাকে গোপন সেল গঠন ইরানের ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি হঠাৎ দেখা নীলমাথা হাঁস সবার আগে শেষ নকআউটে মেক্সিকো বৈঠা যেন তার জীবনের নিয়তি আগের পোশাকে ফিরছে পুলিশ কানাডার উৎসব ম্লান ভয়াবহ চোটে গোলোৎসবের দিন মেসির গোল উদযাপনে বদলের পরামর্শ ২০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি জার্মানির সামনে আফ্রিকান চ্যালেঞ্জ, ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ইকুয়েডর বিশ্বকাপে দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়ে মরক্কোর জয় বিদায়ের আগে আবেগঘন এক বন্ধনের গল্প বস্টনের মন জয় করেছে টার্টান আর্মি দ্রুততম গোলে এগিয়ে বিরতিতে মরক্কো সুইডিশ সমর্থকদের ‘ইয়েলো মার্চ’ রদ্রিকে নিয়ে সমালোচনা ‘অপমানজনক’ ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে স্পেন ৭২ সেকেন্ডে গোল করে বিশ্বকাপে রেকর্ড মরক্কোর জয়ের খোঁজে নেদারল্যান্ডস ফুরফুরে মেজাজে ইংলিশরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় পেল যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বিধিনিষেধ ফিফার কাছে অভিযোগ করবে ইরান ২-০ গোলে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র

শতবর্ষী তালগাছ কেটে শতাধিক বাবুই পাখির বাসা ধ্বংস, ছানা হত্যা

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৫, ১২:২৫ পিএম
শতবর্ষী তালগাছ কেটে শতাধিক বাবুই পাখির বাসা ধ্বংস, ছানা হত্যা
ছবি: খবরের কাগজ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন সোনাকান্দা গ্রামে শতবর্ষী তালগাছ কেটে শতাধিক বাবুই পাখির বাসা ধ্বংস ও ছানা হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রবিবার (২০ জুলাই) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অভিযোগ করা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে সোনাকান্দা গ্রামের মসজিদের পাশে ওয়াক্ফ করা জায়গা থেকে একটি শতবর্ষী তালগাছ কেটে ফেলা হয়। তালগাছটি অনেক বছর ধরে বাবুই পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল ও প্রজননকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এতে অসংখ্য ঝুলন্ত বাসা, ডিম ও ছানা ছিল। ওই গ্রামের মৃত আবুবকর মোহম্মদ শামসুল হুদার ছেলে মাহমুদুর রহমান গাছটি কাটেন। এতে সহযোগিতা করেন মীর হোসেন ও জাকির হোসেন নামে আরও দুই ব্যক্তি। গাছ কাটার সময় অসংখ্য বাবুই পাখির বাসা মাটিতে পড়ে ডিম ভেঙে ছানাগুলো মারা যায়।

এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বাবুই পাখির ছানা হত্যা ও ডিম ধ্বংস করার অভিযোগে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সোনাকান্দা গ্রামের হাসান আহমদ। তিনি বলেন, ‘শতবর্ষী এই তালগাছটিতে অসংখ্য বাবুই পাখির বাসা ছিল। এসব বাসায় ডিম ও ছানা ছিল। গাছটি কেটে ফেলায় একদিকে যেমন পাখিগুলো নীড়হারা হয়েছে, অপরদিকে প্রাণ হারিয়েছে অসংখ্য ছোট ছোট ছানা এবং নষ্ট হয়েছে অনেক ডিম। এ জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করা হয়েছে।’

অভিযুক্ত মাহমুদুর রহমান শতবর্ষী তালগাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘মসজিদটি সম্প্রসারণ করার জন্য গাছটি কাটা প্রয়োজন ছিল, তাই কেটেছি।’ 

বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে দেখব।’ কোম্পানীগঞ্জ সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তা আবদুল মতিন বলেন, ‘ওয়াক্ফ করা জায়গা থেকে শতবর্ষী তালগাছ কাটার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ অভিযোগ করে বাবুই পাখির ছানা হত্যা ও ডিম ধ্বংস করার অভিযোগে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘ওয়াক্ফ করা জায়গার গাছ কাটতে হলে ওয়াক্ফ স্ট্রেট কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে। বাবুই পাখির ছানা হত্যা ও ডিম ধ্বংস করার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

জাতীয় চা দিবস আজ ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত চা-শ্রমিকরা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত চা-শ্রমিকরা
চা শ্রমিক। ছবি: সংগৃহীত

আজ শনিবার, দেশে ‘চা-শিল্পের উন্নতি, সবুজ হোক অর্থনীতি’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় চা দিবস উদযাপিত হচ্ছে। তবে দেশের চা-শিল্প অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও চা-বাগানের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান এখনো উদ্বেগজনক। দৈনিক মজুরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও শ্রম অধিকারের ক্ষেত্রে নানা বঞ্চনার শিকার চা-শ্রমিকরা। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়েও শ্রমিকদের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। 

জানা গেছে, চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি অতীতে ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন চুক্তি ও বার্ষিক বৃদ্ধির ফলে কিছু বাগানে মজুরি কিছুটা বেড়েছে। তবে শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে এই আয় দিয়ে পরিবারের খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা অত্যন্ত কঠিন।

শিক্ষার ক্ষেত্রেও চা-শ্রমিক পরিবারের সন্তানরা পিছিয়ে রয়েছে। অনেক বাগানে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পর্যাপ্ত শিক্ষা সুবিধার অভাব রয়েছে। ফলে দারিদ্র্য ও শিক্ষাবঞ্চনার চক্র থেকে বেরিয়ে আসা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতাও প্রকট। অনেক বাগানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, ওষুধ ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয় না। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সুবিধা এখনো অপর্যাপ্ত।

চট্টগ্রাম চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও কর্ণফুলী চা-বাগানের শ্রমিক বাবু চিত্ত রঞ্জন মন্টু বলেন, ‘শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা সব ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয় না। আমাদের মজুরি পুনর্নির্ধারণ, ভাতা বৃদ্ধি, পেনশন সুবিধা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অনেক বাগানে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ঠিকমতো দেওয়া হয় না। চা-শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি।’

চট্টগ্রামের নেপচুন চা-বাগারের দেশসেরা শ্রমিক জেসমিন আক্তার খবরের কাগজকে বলেন, ‘কম মজুরি দিয়ে সংসার চলে না। স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সুবিধার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা ও আবাসনের অভাব এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের ঘাটতি রয়েছে। শ্রমিকদের সংগঠিত হয়ে দাবি আদায়ে নানা বাধা, নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বৈষম্য ও অতিরিক্ত ঝুঁকিতে কাজ করতে হচ্ছে। বিভিন্ন বাগানে শ্রমিকরা চা তুলতে না পারলে হাজিরাও দেওয়া হয় না। রোদ-বৃষ্টি মাড়িয়ে কাজ করতে হয় বাগানে।’ 

কর্ণফুলী চা-বাগানের শ্রমিক রিকু ত্রিপুরা জানান, শুধু মজুরি বৃদ্ধি নয়; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, বিশুদ্ধ পানি ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করলেই তাদের জীবনমানের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। 

রাঙ্গাপানি চা-বাগানের শ্রমিক মাধবী ত্রিপুরা বলেন, ‘আমাদের বাগানের অফিসের পাশে একটি মাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বাগানের ভেতর থেকে আমাদের শিশুরা এই স্কুলে আসতে পারে না। বাগানের মালিকরা চান, শ্রমিকের ছেলেমেয়েরাও শ্রমিক হোক। আমরা চাই, আমাদের সন্তানরা লেখাপড়া করে মানুষ হোক।’

ইস্পাহানি গ্রুপের নেপচুন চা-বাগানের ব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) মো. রিয়াজ উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘দেশের অন্যতম প্রাচীন এই শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তবে পরিস্থিতি সব জায়গায় এক নয়। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, মানবাধিকার সংস্থা ও সরকারের উদ্যোগে নানা সময়ে মজুরি বৃদ্ধি ও কল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারপরও বহু চা-শ্রমিক এখনো জীবনযাত্রার ব্যয় ও শ্রমের তুলনায় পর্যাপ্ত সুবিধা পান না।’

বাংলাদেশ টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘চা-বাগানের শ্রমিকরা অধিকার থেকে বঞ্চিত সেটি সঠিক নয়। তারা দৈনিক মজুরি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, রেশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও শ্রম অধিকার অনুযায়ী বেতন-ভাতাদি পেয়ে থাকেন। বাগানের মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে সম্পাদিত শ্রমচুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর শ্রমিকদের মজুরি ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ চা বোর্ডের পক্ষ থেকে বাগান মালিকদের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যেন সময়মতো বৃদ্ধি করা হয়, সে জন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করার কাজ চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, চা-শ্রমিকরা দৈনিক মজুরির পাশাপাশি টাস্ক অনুযায়ী অতিরিক্ত কাজ সম্পাদন করলে চুক্তি অনুসারে অতিরিক্ত টাকা পেয়ে থাকেন। পাশাপাশি সাপ্তাহিক রেশন এবং যারা রেশন গ্রহণ করেন না তারা চাষাবাদের জন্য ধানি জমি পেয়ে থাকেন।

এদিকে প্রতিবছর ২১ মে জাতীয় চা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত থাকলেও চলতি বছর ঈদুল আজহার কারণে মূল আনুষ্ঠানিকতা পিছিয়ে দিবসটির উদযাপন ২০ জুন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২০ জুন জাতীয় চা দিবস পালন করা হচ্ছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি থাকবেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এ ছাড়া চা-শিল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন ও চা-শ্রমিক প্রতিনিধিরা আলোচনা সভায় অংশ নেবেন।

বেলা ১১টায় বাণিজ্যমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হবে। উদ্বোধনী পর্বের পর চা-শিল্পবিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভা শেষে দেশের চা-শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আটটি ক্যাটাগরিতে ‘জাতীয় চা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি চলতি বছর প্রথমবারের মতো শ্রেষ্ঠ বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরিতে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হবে।

প্রধান অতিথি বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও সনদ তুলে দেবেন। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ চা বোর্ড ও দেশের শীর্ষস্থানীয় চা-প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণে একটি চা-প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে মোট ১৭২টি চা বাগান রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের সমতল ভূমিতেও চা চাষের সম্প্রসারণ ঘটেছে। দেশের চা-শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে চায়ের রাজধানীখ্যাত শ্রীমঙ্গলে এবার ষষ্ঠবারের মতো জাতীয় চা দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।

গফরগাঁওয়ে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে মৃত্যু

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
গফরগাঁওয়ে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে মৃত্যু
মো. মাহিম শেখ । ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মো. মাহিম শেখ (১৪) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে উপজেলার পাগলা থানাধীন পাঁচবাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ হারিনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মাহিম শেখ একই গ্রামের মো. নয়ন শেখের ছেলে। সে স্থানীয় পাঁচবাগ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। ফাহিম ব্রাজিল সমর্থক।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিশ্বকাপ খেলার শুরুতে বাড়ির উঠানের আম গাছে একটি কাঁচা বাঁশে ব্রাজিলের পতাকা টানায় ফাহিম। বাঁশটি হেলে পড়ায় বিকেলে ফাহিম আম গাছে উঠে। এ সময় পাশে থাকা বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন।

কামরুজ্জামান মিন্টু/অন্তরা

শেবাচিমে মোবাইলের আলোয় আইসিইউ সেবা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
শেবাচিমে মোবাইলের আলোয় আইসিইউ সেবা
লোডশেডিংয়ের কারণে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে/ খবরের কাগজ

প্রায় এক মাস স্বস্তির পর বরিশালে আবারো তীব্র লোডশেডিং শুরু হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, স্বাস্থ্য খাতেও নেমে এসেছে বিপর্যয়। এতে রোগী তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউতে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করছেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর অনেক সময় আইসিইউতে বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে না। এতে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এমন অবস্থায় অন্ধকার ও গরম থেকে রক্ষা পেতে রোগীর স্বজনদের হাতপাখা, মোমবাতি, টর্চলাইট কিংবা মোবাইলের আলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

জানা গেছে, শেবাচিম হাসপাতালে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর আছে। কিন্তু সেটি চালানোর মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় তা বন্ধ রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের সময়ও অনেক ক্ষেত্রে জেনারেটর চালু করা সম্ভব হয় না। এতে আইসিইউসহ হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি বাড়ছে।

আরিফুর রহমান নামে নগরীর এক বাসিন্দা জানান, গত মঙ্গলবার আইসিইউতে এক রোগীকে দেখতে গিয়ে তিনি পুরো অন্ধকার পরিবেশের মধ্যে পড়েন। তখন রোগীর স্বজনরা হাতপাখা, মোমবাতি ও মোবাইলের আলো ব্যবহার করছিলেন। এমনকি কয়েকজন নার্সও মোবাইলের আলোয় কাজ করছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সহসভাপতি আব্দুর রশিদ নিলু বলেন, ‘আইসিইউর মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় লোডশেডিং কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সেখানে সচল জেনারেটর বা বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা রাখা জরুরি। এত অর্থ বরাদ্দের পরও হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকা দুঃখজনক।’

তিনি আরও বলেন, বরিশাল বিভাগে প্রচুর বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও এখানকার মানুষকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, যা মোটেও কাম্য নয়।

লোডশেডিংয়ের কারণে কেবল হাসপাতাল নয়, জেলার সকল খাতেই এর প্রভাব পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে নিজেদের দুর্বিষহ অবস্থা তুলে ধরছেন। বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহিন ফেসবুকে লিখেছেন, আগামী ২ জুলাই এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। বিদ্যুৎ-সংকটের কারণে পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। অথচ বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়ছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও উৎপাদন খাতে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও সেবা কার্যক্রম অর্ধেকে নেমে এসেছে।

নগরীর কালীবাড়ি রোডের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গ্রাফিক্স মার্টের স্বত্বাধিকারী অম্লান রায় বলেন, ‘ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বরিশালের প্রেস ও প্রকাশনা খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ে অর্ডারের কাজ দেওয়া যাচ্ছে না। দিনে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে উৎপাদন অনেক কমে গেছে।’

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতির কারণেই এ সমস্যা হচ্ছে। বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার জানান, তার বিভাগের আওতায় মোট চাহিদা প্রায় ৯০ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০ মেগাওয়াট। অথচ নগরীর একাংশেরই চাহিদা প্রায় ৬৫ মেগাওয়াট।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত মালাকার বলেন, তাদের এলাকায় ৪২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ মিলছে ২২ মেগাওয়াট। এ কারণে এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ’র বরিশাল অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান পলাশ জানান, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতি থাকায় বরিশালে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি উন্নয়নে কাজ চলছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চাঁদপুরের সানজিদার বিশ্বজয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:০১ পিএম
চাঁদপুরের সানজিদার বিশ্বজয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি
সানজিদা আক্তার তুলি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ছয় কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি পেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নবুরকান্দি গ্রামের সানজিদা আক্তার তুলি বছরে স্টাইপেন্ড ও গ্রীষ্মকালীন সহায়তা এবং টিউশন ফি মওকুফ ও স্বাস্থ্যবিমা বাবদ প্রায় ৬ কোটি টাকার সুবিধা পাবেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য টুলেন ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি গণিতে পিএইচডি অর্জন করেন।

২০২৬ সালের ফল সেমিস্টার থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্সে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডক্টরাল প্রোগ্রামে যোগ দেবেন।

সানজিদা পরিবারের পক্ষ থেকে এসব তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

সানজিদা আক্তার তুলি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নবুরকান্দি গ্রামের সন্তান। তিনি মতলব উত্তর উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান এবং সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক অজুফা সরকারের কন্যা।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো ভর্তি ও আর্থিক সহায়তাসংক্রান্ত চিঠির তথ্য থেকে জানা গেছে, সানজিদা প্রতি শিক্ষাবর্ষে স্টাইপেন্ড ও গ্রীষ্মকালীন গবেষণা সহায়তা বাবদ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পাবেন। এর পাশাপাশি পূর্ণকালীন ডক্টরাল শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর টিউশন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে। যার বার্ষিক মূল্য ৬৫ হাজার ৪ মার্কিন ডলার।

এছাড়া শিক্ষার্থী স্বাস্থ্যবিমার (টিএসএইচআইপি) শতভাগ ব্যয়ও বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয়। পিএইচডি প্রোগ্রামের পাঁচ বছর মেয়াদে এসব সুবিধার সম্মিলিত বাংলাদেশী সমমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

সানজিদার শিক্ষাজীবন শুরু হয় নবুরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর মান্দারতলী মুজাদ্দেদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। পরবর্তীতে চাঁদপুর শহরের আল-আমিন একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন।

এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত সানজিদা আক্তার তুলি বলেন, একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে আজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের একটি বড় স্বপ্ন পূরণ। পরিবারের সমর্থন, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা আর নিরলস পরিশ্রমই আমাকে এই পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে। আমি চাই প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে মেয়েরা যেন বুঝতে পারে জন্মস্থান নয়, স্বপ্ন আর অধ্যবসায়ই গন্তব্য নির্ধারণ করে।

তার এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, সানজিদার এই অর্জন মতলব উত্তরসহ গোটা চাঁদপুরের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

এসএন/

গণপিটুনির শিকার চার ডিবি সদস্য গ্রেপ্তার, অপহরণ চেষ্টার মামলা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
গণপিটুনির শিকার চার ডিবি সদস্য গ্রেপ্তার, অপহরণ চেষ্টার মামলা
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক যুবককে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্যসহ ছয়জনকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী অমিত হাসান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন মাতুব্বর, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমান উল্লাহ, কনস্টেবল কবির ও কনস্টেবল আকাশ আহাম্মেদ। তারা সবাই ঢাকা দক্ষিণ ডিবিতে কর্মরত বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনারগাঁওয়ের বারদী এলাকা থেকে অমিত হাসান তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে রূপগঞ্জের গাউছিয়া এলাকায় যান। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের সিআইডি সদস্য পরিচয় দিয়ে তাকে জোর করে একটি প্রাইভেট কারে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অমিত চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে গাড়িটির গতিরোধ করেন। পরে এসআই মামুন, এএসআই আমান উল্লাহ ও কনস্টেবল কবিরকে আটক করে গণপিটুনি দেন। এ সময় গাড়িতে থাকা অন্য কয়েকজন পালিয়ে যান।

পরে উত্তেজিত জনতা আটক ব্যক্তিদের সোনারগাঁও ও আড়াইহাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী শান্তিরবাজার এলাকায় নিয়ে গেলে সেখানে তাদের আবারও মারধর করা হয়। খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, আসামিদের যোগসাজশে গত ১৫ জুন জয়নাল নামের আরেক আত্মীয়কে এভাবেই অপহরণ করে নিয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তখন জয়নালের স্ত্রী সামিরুন ও রুবিয়া বেগম ঢাকার অজ্ঞাত স্থান থেকে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে জয়নালকে ছাড়িয়া নেন। এছাড়া একই কায়দায় জাকির হোসেন নামে আরেকজনকে অপহরণ করে নিয়ে ৬ লাখ টাকা মুক্তিবণ দাবি করে। জাকির হোসেনের মা জাহানারা বেগম আড়াই লাখ টাকা দিয়ে ছাড়া পায়।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেন, ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে কনস্টেবল আকাশ আহাম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় গিয়ে এ অভিযান চালিয়েছিলেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

এ ছাড়া তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, একই চক্রের বিরুদ্ধে এর আগেও অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রূপগঞ্জের গাউছিয়া, সোনারগাঁও ও আড়াইহাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী শান্তিরবাজার এলাকায় স্থানীয় লোকজনের হাতে গণপিটুনির শিকার হন ওই চার ডিবি সদস্য। সে সময় তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে একটি অভিযানে এসেছিলেন বলে দাবি করেছিলেন। 

তবে পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং গ্রেপ্তার দেখানো হয়। 

মো: ইমরান হোসেন/এসএন